প্রাক vs বর্তমান ইসলামীক হজের রীতি

প্রিয় ভাই/বোন,

ইতিহাস বড়ই তিক্ত হয়, কারন এটি সত্যকে গভীর থেকে খুঁড়ে বের করে আনে। আমরা বর্তমানে ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে যে পবিত্র হজ বলে জানি, তার ইতিহাস খুবই রুঢ় বাস্তব; এটি আপনি মানুন বা না মানুন। কিন্তু, চাইলেই এই বাস্তবতাকে পাল্টাতে আমিও পারবো না, বা আপনিও পারবো না; যেটি সত্য সেটি সত্যই। আসুন আমরা এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি। এখানে আমরা একটাও আমাদের মনগড়া কথা বলবো না, যা বলবো, তার রেফারেন্সও দিয়ে দিব যেন আপনি এর সত্যতা সম্পর্কে ঘাটতে পারেন। সোর্সঃ প্রাচীনতম ইসলামী সোর্স – ইবনুল কালবী, ইবন হিশাম, বুখারী, মুসলিম, তাবারী)

"প্রাচীন আরব সমাজের হজ বনাম মুসলিম বিশ্বাসীদের হজ"

১. নগ্ন হয়ে তাওয়াফ করা
পৌত্তলিক আমল: পুরুষরা পুরোপুরি উলঙ্গ হয়ে কাবার চারদিকে ৭ বার ঘুরত। মহিলারা শুধু একটি ছোট কাপড় পরে ঘুরত।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী ১৬৬৪, ১৬৬৫; ইবনুল কালবী পৃ. ২৮
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: নগ্ন তাওয়াফ বন্ধ করলেন, কিন্তু তাওয়াফের রীতি পুরোপুরি রেখে দিলেন।

২. সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানো (সা‘য়ী)
পৌত্তলিক উৎস: ইসাফ ও নাইলা নামক দুই প্রেমিক কাবায় ব্যভিচার করে পাথরে পরিণত হয়েছিল। তাদের স্মরণে আরবরা সাফা-মারওয়ায় দৌড়াত।
রেফারেন্স: ইবনুল কালবী পৃ. ৩০; তাবারী তারিখ খণ্ড ২ পৃ. ২৭৮
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন। এমনকি কুরআন বলেছে “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন” (২:১৫৮)।

৩. হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) চুম্বন ও স্পর্শ করা
পৌত্তলিক আমল: কাবার চার কোনায় চারটি পাথর ছিল। হাজরে আসওয়াদকে সবচেয়ে পবিত্র মনে করা হতো। আরবরা বলত এটি বেহেশত থেকে এসেছে।
রেফারেন্স: ইবন হিশাম সীরাত খণ্ড ১ পৃ. ৮৫
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: নিজে চুম্বন করেছেন এবং রেখে দিয়েছেন। (বুখারী ১৫৯৭)

৪. শয়তানকে পাথর মারা (রমীয়ে জিমার)
পৌত্তলিক উৎস: ধু’ল-খালাসা মন্দিরে শয়তানের মূর্তিকে পাথর মারা হতো। আরবরা তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করত।
রেফারেন্স: ইবনুল কালবী পৃ. ৩৪–৩৫
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন। শুধু বলেছেন “এটা ইব্রাহিমের সুন্নত”।

৫. আরাফাতে দাঁড়ানো (ওয়াকফাহ)
পৌত্তলিক আমল: আরাফাত পাহাড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সূর্যের পূজা করা হতো।
রেফারেন্স: ইবনুল কালবী পৃ. ২৯
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন। এমনকি বলেছেন “হজ মানে আরাফাতে দাঁড়ানো” (তিরমিযী ২৯৭৫)।

৬. মুযদালিফায় রাত্রি যাপন ও পাথর কুড়ানো
পৌত্তলিক আমল: মুযদালিফায় রাতে আগুন জ্বালিয়ে উৎসব করা হতো।
রেফারেন্স: তাবারী তারিখ খণ্ড ২ পৃ. ২৮০
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন।

৭. তালবিয়াহ পড়া
পৌত্তলিক আমল: “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা… ইল্লা শারীকুন হুয়া লাক” (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শরিক আছে)
রেফারেন্স: বুখারী ১৫৪৯
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: শুধু শেষ লাইন কেটে দিয়েছেন। বাকি পুরোটা রেখে দিয়েছেন।

৮. কুরাইশদের বিশেষ সুবিধা – কা‘বা থেকে বের না হয়ে হজ করা
পৌত্তলিক আমল: কুরাইশরা বলত “আমরা আল্লাহর ঘরের লোক, তাই আমাদের আরাফাতে যেতে হবে না।”
রেফারেন্স: কুরআন ২:১৯৯
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: প্রথমে রেখে দিয়েছিলেন, পরে বাতিল করেছেন।

৯. ইদগাহে পশু কোরবানি (মিনায়)
পৌত্তলিক আমল: মিনায় ৩৬০টি দেবতার নামে পশু কোরবানি দেওয়া হতো।
রেফারেন্স: ইবনুল কালবী পৃ. ২৮
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন। শুধু বলেছেন “আল্লাহর নামে”।

১০. মাথা মুন্ডন বা চুল কাটা
পৌত্তলিক আমল: মানাতের মন্দিরে গিয়ে মাথা মুন্ডন করা হতো।
রেফারেন্স: বুখারী ১৭২৭
মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত: পুরোপুরি রেখে দিয়েছেন।

হজের মূল কাঠামোর ৯০% রীতিই পৌত্তলিক যুগ থেকে অবিকল রেখে দেওয়া হয়েছে। শুধু নাম বদলে “আল্লাহর নামে” করা হয়েছে। এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ধর্মীয় রি-ব্র্যান্ডিং কিন্তু রুঢ় সত্য, তাই এটি অত্যন্ত তিক্ত।

চূড়ান্ত সত্য: