শরীয়তের আইন কি আপনাকে ধার্মিক করতে পারে, নাকি এটি কেবল আপনার ভেতরের অপরাধীকে চিহ্নিত করে?

আমরা অনেকেই সারা জীবন ধরে মনে করে আসছি যে, শরীয়তের আইন, নিয়ম-কানুন ও আদেশ-নিষেধগুলো কঠোরভাবে পালন করলেই বুঝি আমরা ধার্মিক হয়ে যাব এবং রবের সান্নিধ্য পাব। কিন্তু আজ আপনাকে এমন এক চমকপ্রদ সত্যের মুখোমুখি করব, যা হয়তো আপনি আগে কখনো ভাবেননি! সম্পূর্ণটি পড়ুন এখনই, অবাক হতে বাধ্য আপনি!

ঐতিহাসিক প্রমাণ

আল কালিমাতুল্লাহ

11/4/20261 min read

শরীয়তের আইন কি আপনাকে ধার্মিক করতে পারে?
শরীয়তের আইন কি আপনাকে ধার্মিক করতে পারে?

একবার কল্পনা করুন, আপনি গভীর রাতে একটি অন্ধকার ঘরে শুয়ে আছেন। ঘরের চারপাশ সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। আপনার মনে হচ্ছে ঘরটি একদম পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি ঘরের বাতিটি জ্বালালেন, অমনি দেখলেন— ঘরের কোণে কোণে জমে আছে ময়লা, মাকড়সার জাল আর মারাত্মক কিছু বিষাক্ত পোকামাকড়!

এখন একটি যৌক্তিক প্রশ্ন নিজেকে করুন: এই বাতির আলো কি ঘরের ময়লাগুলোকে তৈরি করেছে, নাকি আগে থেকেই থাকা ময়লাগুলোকে কেবল আপনার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে?

ঠিক এই বাতির আলোর মতোই হলো মহান আল্লাহর দেওয়া ‘শরীয়ত’ বা ধর্মীয় আইনকানুন। আমরা অনেকেই সারা জীবন ধরে মনে করে আসছি যে, শরীয়তের নিয়ম-কানুন ও আদেশ-নিষেধগুলো কঠোরভাবে পালন করলেই বুঝি আমরা ধার্মিক হয়ে যাব এবং রবের সান্নিধ্য পাব। কিন্তু আজ আপনাকে এমন এক চমকপ্রদ সত্যের মুখোমুখি করব, যা হয়তো আপনি আগে কখনো ভাবেননি!

আইনের আসল কাজ: আরোগ্য দেওয়া, নাকি রোগ নির্ণয় করা?

আমরা সবাই জানি, হযরত মুসা (আঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে ১০টি প্রধান আদেশসহ বহু শরীয়তের নিয়ম দিয়েছিলেন। যেমন: চুরি করো না, জেনা করো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না, হিংসা করো না।

কিন্তু শরীয়তের এই আইনগুলোর আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? আইন কি মানুষের হৃদয়কে পরিবর্তন করে ধার্মিক বানাতে পারে?

আসুন, একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝি। একজন মানুষ গুরুতর অসুস্থ। সে চিকিৎসকের কাছে গেল। চিকিৎসক একটি এক্স-রে (X-ray) করে তার ফুসফুসে একটি মারাত্মক টিউমার বা রোগ ধরে ফেললেন। এখন আমাকে বলুন, ওই এক্স-রে ফিল্মটি কি রোগীর ফুসফুসের রোগটি ভালো করে দিতে পারবে? নাকি এক্স-রে ফিল্মের কাজ ছিল কেবল শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রোগটিকে পরিষ্কারভাবে বের করে আনা?

ঠিক তেমনই, শরীয়তের কাজ হলো একটি আসমানী এক্স-রে মেশিনের মতো! শরীয়ত কোনো মানুষকে ধার্মিক বানাতে পারে না; বরং শরীয়তের আয়নায় তাকালে মানুষ বুঝতে পারে যে সে কত বড় অপরাধী ও পাপী!

পাপের গোপন চালক: শরীয়ত কীভাবে পাপকে বাড়িয়ে দেয়?

একটু নিজের অন্তরের দিকে তাকান তো! একটি ছোট্ট শিশুর সামনে যদি কোনো একটি জিনিস রেখে বলা হয়— "খবরদার! তুমি কিন্তু এই খেলনাটি স্পর্শ করবে না!"— তখন শিশুর অন্তরে কী ঘটে? আইন বা নিষেধটি শোনার সাথে সাথেই ওই নিষিদ্ধ খেলনাটির প্রতি তার আকর্ষণ ১০০ গুণ বেড়ে যায়, তাই না?

মানবজাতির স্বভাবও ঠিক একই রকম। যখনই শরীয়ত বলল, "তুমি লোভ করো না," অমনি মানুষের মনের সুপ্ত লোভ জেগে উঠল। যখন শরীয়ত বলল, "তুমি জেনা করো না," তখন মানুষের অন্তরে পাপাচারের কুচিন্তাগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠল।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, শরীয়তের আইন মানুষকে গুনাহ থেকে মুক্ত করার বদলে মানুষের ভেতরের গোপন পাপাচারকে আরও বেশি উস্কে দেয় এবং প্রমাণ করে যে মানুষের অন্তর কতটা নাপাক! তৌরাত শরীফে বর্ণিত নিয়মকানুনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মানুষকে এটা বোঝানো যে— "তোমরা নিজেদের শক্তিতে কখনো আল্লাহর নিখুঁত পবিত্রতার মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারবে না।"

আইনের অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ কোথায়?

যদি শরীয়তের আইন কেবল আমাদের পাপী হিসেবেই চিহ্নিত করে, তবে আইনের অধীনে থাকা প্রতিটি মানুষের পরিণতি কী? অভিশাপ ও ধ্বংস! কারণ শরীয়তের একটি ছোট নিয়ম ভাঙাও পুরো আইন ভাঙার শামিল।

তাহলে আমাদের রক্ষা করবে কে? আমরা কি তবে এই আসমানী এক্স-রে প্রমাণের পর মৃত্যুর অপেক্ষায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মতো দাঁড়িয়ে থাকব?

ঠিক এখানেই প্রয়োজন এমন একজন নাজাতদাতার, যিনি আমাদের কেবল আইনের শাসন শেখাবেন না, বরং আইনের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করবেন! তিনি হলেন হযরত ঈসা মসীহ, আমাদের 'শান্তিরাজ' এবং 'অন্ধকারের বিনাশক'।

ঈসা মসীহ এই পৃথিবীতে এসে কোনো নতুন আইনের বোঝা চাপিয়ে দিতে আসেননি। তিনি নিজে শরীয়তের প্রতিটি কঠিন নিয়ম শতভাগ পালন করে প্রমাণ করেছেন যে তিনি একদম নিষ্পাপ। এরপর, যিনি আইন ভেঙেছেন, অর্থাৎ আপনার এবং আমার জায়গায়, তিনি নিজেকে অপরাধী হিসেবে কালভারীর ক্রুশে সঁপে দিলেন। শরীয়ত আমাদের ওপর যে শাস্তির দণ্ড জারি করেছিল, আমাদের সেই শাফায়াতকারী ঈসা মসীহ নিজের রক্ত সেচন করে সেই শাস্তির দণ্ডটি নিজের কাঁধে তুলে নিলেন!

আইন আপনাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়, আর 'জগতের আলো' ঈসা মসীহ আপনাকে সেই সাজার হাত থেকে মুক্ত করে নিজের পবিত্র নূরে ঢেকে নেন।

আপনার আগামীকালের আত্মিক মাইলফলক তাহলে কি হবে?

আজকের এই সত্য জানার পর নিশ্চয়ই আপনার অন্তরে একটি বড় প্রশ্নের ঝড় বইছে: "যদি আমাদের নেক আমল আর শরীয়তের আইন পালন আমাদের বাঁচাতে না পারে, তবে কি মানুষের নিজের চেষ্টায় জান্নাতে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব? আমরা কি তবে আধ্যাত্মিকভাবে শতভাগ দেউলিয়া?"

আগামীকাল আমাদের এই সত্যযাত্রার ৬ষ্ঠ দিনে আমরা এই চমকপ্রদ ও কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো সত্যের চূড়ান্ত ব্যবচ্ছেদ করব: "মানুষের আত্মিক দেউলিয়াত্ব: নিজের চেষ্টায় জান্নাতে যাওয়া কি সম্ভব? (সহীহ বুখারী ৫৬৭৩ এর আলো)"

সত্যের খোঁজে এই পথচলা থামাবেন না। আপনি যদি আমাদের আগের ৪টি দিনের একটি পর্বও মিস করে থাকেন, তবে সত্যের পূর্ণাঙ্গ শিকড়টি ধরা আপনার জন্য কঠিন হবে। এখনই আমাদের নিচের বল্গ সেকশনে প্রবেশ করুন এবং পূর্ববর্তী ব্লগগুলো পড়ার পাশাপাশি অন্যান্য গবেষণামূলক লেখাগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন।

পবিত্র কিতাবুল মোকাদ্দাস শরীয়তের আইন ও ঈসা মসীহের রহমতের এই পার্থক্য চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলে বলেছে:
"কারণ শরীয়ত দেওয়া হয়েছিল মুসার মাধ্যমে; আর মেহেরবানী ও সত্য আসলো ঈসা মসীহের মাধ্যমে।" (ইউহোন্না ১:১৭)

“আমাদের অন্যান্য ব্লগ পড়ুতে ভিজিট করুন”