আপনি কি আজ রাতেই জান্নাতের গ্যারান্টি নিয়ে ঘুমাতে চান?
আমরা এতক্ষণ যা দেখলাম তা কোনো সাধারণ আলোচনা নয়। এটি আপনার অনন্তকালের জীবন-মরণের প্রশ্ন। একটু চোখ বন্ধ করে আপনার নিজের জীবনের দিকে তাকান। আপনি কি সত্যিই মনে করেন আপনার প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কিছু দান-খয়রাত এবং ভালো মানুষের মুখোশ আপনাকে আল্লাহর সেই ভয়ংকর ও নিখুঁত বিচারের দিন (ইয়াওমুল হিসাব) থেকে বাঁচাতে পারবে?
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আসর ১০৩:২-৩ আয়াতে আল্লাহ কসম করে বলেছেন: "সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।"
সহীহ বুখারী (হাদিস নং ৬৪৬৩) এবং সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, স্বয়ং তাঁকেও তাঁর আমল জান্নাতে নিতে পারবে না, যদি না আল্লাহর বিশেষ রহমত তাঁকে ঢেকে রাখে।
নাজাতের চূড়ান্ত ডাক
এখন আপনার বিবেকের কাছে আমার একটি সোজাসাপ্টা প্রশ্ন: যেখানে ইসলামের শ্রেষ্ঠ নবী নিজের আমলের ওপর ভরসা করে জান্নাতের গ্যারান্টি দিতে পারলেন না, সেখানে আপনি কে? আপনার এমন কী যোগ্যতা আছে যে আপনি মনে করেন আপনি পুলসিরাত পার হয়ে যাবেন? আপনি কি সত্যিই এতটাই নিষ্পাপ?
আপনার মনে হয়তো একটি মিথ্যা সান্ত্বনা আছে: "আমি তো তওবা করি, আল্লাহ রহমানুর রাহিম, তিনি তো মাফ করেই দেবেন।"
কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকান। আপনি সকালে তওবা করেন, আর বিকেলে আবার সেই একই গুনাহ করেন। আপনার চোখ দিয়ে জেনা করেন, মুখ দিয়ে গিবত করেন, অন্তরে অহংকার পুষে রাখেন। আপনি কি মনে করেন আল্লাহ এতটা বোকা যে আপনার এই বারবার করা 'লোক দেখানো' তওবা দিয়ে তিনি তাঁর নিখুঁত ন্যায়বিচারের সাথে আপস করবেন?
একজন বিচারকের সামনে গিয়ে যদি খুনি বলে, "আমি খুব লজ্জিত, আমাকে ছেড়ে দিন," বিচারক কি তাকে ছেড়ে দেবেন? না! কারণ ন্যায়বিচার দাবি করে অপরাধের শাস্তি পেতেই হবে। আর গুনাহর শাস্তি হলো অনন্তকালের মৃত্যু বা জাহান্নাম।
তাহলে বাঁচার উপায় কী? কীভাবে আল্লাহর ন্যায়বিচার (Justice) এবং তাঁর অসীম রহমত (Mercy) একই সাথে পূরণ হতে পারে?
এর একমাত্র এবং অদ্বিতীয় উত্তর হলো, পবিত্র কাফফারা বা বদলি কুরবানি (Substitutionary Atonement)।
যেমনিভাবে ইব্রাহিম (আ.)-এর পুত্রের মৃত্যুর বদলে আল্লাহ একটি 'জবেহিল আজিম' বা মহান কুরবানির ব্যবস্থা করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে আপনার এবং আমার অনন্তকালের জাহান্নামের শাস্তির বদলে আল্লাহ তাঁর নিজের 'কালেমা' ও 'রূহ', ঈসা মসীহকে ক্রুশের ওপর চূড়ান্ত কুরবানি হিসেবে পেশ করেছেন।
ঈসা মসীহ
কোনো সাধারণ নবী ছিলেন না। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ (সূরা মারিয়াম ১৯:১৯)। তাঁর কোনো গুনাহ ছিল না বলে তিনি আপনার গুনাহর শাস্তি নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার যোগ্যতা রাখতেন। ইঞ্জিল শরীফে (১ পিতর ২:২৪) স্পষ্ট বলা হয়েছে: "তিনি নিজের দেহে আমাদের গুনাহ বহন করে ক্রুশের ওপর উঠলেন, যেন আমরা গুনাহর প্রতি মৃত হয়ে ধার্মিকতার জন্য বাঁচি; তাঁরই ক্ষতের দ্বারাই তোমরা সুস্থ হয়েছ।"
আজ আপনার সামনে দুটি পথ খোলা আছে:
প্রথম পথ: আপনি এই লেখাটি বন্ধ করে আবার আপনার সেই পুরোনো অসম্পূর্ণ আমলের অহংকারে ফিরে যেতে পারেন। আপনি সারাজীবন এই অজানা ভয় নিয়ে বাঁচতে পারেন যে, "আমি কি জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে?" তখন আপনি মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের দেখে আতঙ্কে শিউরে উঠবেন নিশ্চয়ই।
দ্বিতীয় পথ: আপনি আপনার অহংকার চূর্ণ করে আল্লাহর সেই 'মহান কুরবানি' ঈসা মসীহের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন। ঈসা মসীহ ইঞ্জিল শরীফে (ইউহোন্না ১৪:৬) এক যুগান্তকারী ও বুক কাঁপানো ঘোষণা দিয়েছেন: "আমিই পথ, সত্য এবং জীবন; আমার মাধ্যম ছাড়া কেউ পিতার (আল্লাহর) কাছে আসতে পারে না।"
তিনি আরও বলেছেন (ইউহোন্না ৫:২৪): "যে আমার কথা শোনে এবং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন পেয়েছে; সে বিচারে দণ্ডিত হবে না, বরং সে মৃত্যু পার হয়ে জীবনে প্রবেশ করেছে।"
লক্ষ্য করুন, এখানে কোনো 'হয়তো', 'যদি' বা 'ইনশাআল্লাহ' নেই। ঈসা মসীহ সরাসরি "অনন্ত জীবন পেয়েছে" (Present Perfect Tense) বলে ১০০% গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
প্রিয় বন্ধু,
আপনি কি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি আজ নিতে প্রস্তুত? আপনি কি চান আপনার অতীতের সমস্ত কালো গুনাহ আজ এই মুহূর্তেই ঈসা মসীহের পবিত্র রক্তের কাফফারায় ধুয়ে একদম সাদা বরফের মতো পবিত্র হয়ে যাক?
আপনার অন্তর যদি আজ সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে থাকে, যদি আপনার বিবেক আপনাকে বলছে যে আপনার নিজের আমল আপনাকে বাঁচাতে পারবে না, তবে আর দেরি করবেন না। শয়তান আপনাকে বলবে, "কাল ভেবে দেখব," কিন্তু আপনার আগামীকালের কোনো গ্যারান্টি নেই।
সত্য জানার জন্য আপনার প্রথম পদক্ষেপ:
একা বসে আপনার দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় এই ছোট কিন্তু জীবন-পরিবর্তনকারী দোয়াটি করুন:
"হে সর্বশক্তিমান এবং পবিত্র আল্লাহ, আমি স্বীকার করছি আমি একজন ঘোর গুনাহগার। আমার নিজের কোনো যোগ্যতা বা আমল নেই তোমার জান্নাতে যাওয়ার। আমি আজ বুঝতে পেরেছি যে তুমি তোমার ন্যায়বিচার এবং রহমত প্রমাণের জন্য ঈসা মসীহকে 'মহান কুরবানি' হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলে। আমি আজ আমার সমস্ত অহংকার চূর্ণ করে ঈসা মসীহকে আমার ব্যক্তিগত নাজাতদাতা এবং প্রভু হিসেবে গ্রহণ করছি। তাঁর পবিত্র রক্ত দিয়ে আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে দাও। আমাকে অনন্ত জীবনের ১০০% নিশ্চয়তা দাও এবং তোমার পবিত্র রূহ দিয়ে আমাকে নতুন জীবন দান করো। আমীন।"
আপনি যদি সত্যিই অন্তর থেকে এই দোয়াটি করে থাকেন, তবে আমি আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছি, আপনার নাম আজ আসমানের 'জীবনের কিতাবে' লেখা হয়ে গেছে। আপনি আর জাহান্নামের ভয় নিয়ে ঘুমাবেন না। আপনার নাজাত আজ নিশ্চিত।
আপনি যদি এই সত্যের পথে আরও এগোতে চান, তবে নিচে দেওয়া আমাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আপনার নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করুন। আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি।