ঈসা যিনি অনন্তকালের সেই রহস্যময় সত্তা, যিনি সৃষ্টির আগেও ছিলেন

হযরত ইসা (আ.) এর সৃষ্টির আগের রহস্যময় সত্তা
হযরত ইসা (আ.) এর সৃষ্টির আগের রহস্যময় সত্তা

🌌 এক অন্ধকার রাতের প্রশ্ন

কল্পনা করুন কোন এক গভীর রাত। আপনি একা দাঁড়িয়ে আছেন এক বিশাল মরুভূমির মাঝে, চারপাশে শুধু ধুধুবালুচর ছাড়া আর কিছুই নেই। আর মাথার উপরে কোটি কোটি তারা জ্বলজ্বল করছে। বাতাসেরও কোনো শব্দ নেই। এই অবস্থায় শুধুমাত্র আপনার হৃদয়ের ধুকপুক আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন। এমন সময় হঠাৎ একটি প্রশ্ন আপনার বুকের ভেতরে বাজতে শুরু করে-

"এই আসমান-জমিন সৃষ্টির আগে কী ছিল? আমাদের পরিচিত এই সময়ের জন্মের আগে কে ছিলেন? আর সেই মহান সত্তা কি কখনো নিজেকে আমার কাছে প্রকাশ করেছেন? আমি কি কখনো তাঁকে চিনতে পারবো?"

এই প্রশ্নটি শুধু আপনার নয়। এটি হাজার হাজার বছর ধরে প্রত্যেক অনুসন্ধানী হৃদয়ের প্রশ্ন। নবী ইব্রাহিম (আঃ) এই প্রশ্ন করেছিলেন যখন তিনি চাঁদ, সূর্য ও তারার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন "এ-ই কি আমার রব?" নবী মুসা (আঃ) তূর পাহাড়ে গিয়ে বলেছিলেন, "হে মাবুদ, আমাকে তোমার দর্শন দাও!"

আর ঠিক সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিতে এসেছেন ইঞ্জিল শরীফের চতুর্থ কিতাব ইউহোন্নার ইঞ্জিল এর প্রথম আঠারোটি আয়াতে। এই আঠারোটি আয়াত এমন এক পাক-পবিত্র দরজা, যেখানে দাঁড়ালে অনন্তকালের রহস্যের পর্দা এক এক করে খুলে যেতে থাকে।

আসুন, আজ সেই দরজার সামনে আমরা নীরবে দাঁড়াই।

📖 পাক কিতাব বলে

"১. আদিতে কালাম ছিলেন; কালাম আল্লাহ্‌র সংগে ছিলেন এবং কালাম নিজেই আল্লাহ্‌ ছিলেন।
২. তিনিই আদিতে আল্লাহ্‌র সংগে ছিলেন।
৩. সব কিছু তাঁরই মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে; যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাঁকে ছাড়া কোন কিছুই সৃষ্টি হয় নি।
৪. তাঁরই মধ্যে জীবন ছিল আর সেই জীবন মানুষের আলো ছিল।
৫. সেই আলো অন্ধকারের মধ্যে জ্বলছে, কিন্তু অন্ধকার সেই আলোকে গ্রাস করতে পারে নি।"

-- ইউহোন্না ১:১-১৮ আয়াত। চলুন, এখন আমরা এই আয়াতে গভীরত্ব ও রহস্যকে খুঁজে বের করি।

প্রথম রহস্য "আদিতে কালাম ছিলেন"

"আদি" কতটা প্রাচীন?

ইউহোন্না তাঁর ইঞ্জিল লেখা শুরু করেছেন ঠিক সেই একই শব্দ দিয়ে, যে শব্দ দিয়ে হযরত মুসা (আঃ) তাওরাত শরীফের পয়দায়েশ (Genesis) কিতাব শুরু করেছিলেন;

"আদিতে আল্লাহ্‌ আসমান ও জমীন সৃষ্টি করলেন।" – পয়দায়েশ ১:১

কিন্তু ইউহোন্না এখানে একটি আশ্চর্য কথা লিখলেন, একটি আশ্চর্য পরিবর্তন আনলেন। তিনি বললেন "আদিতে কালাম ছিলেন।" অর্থাৎ, যখন "আদি" শুরু হলো, ঠিক তখনই কালাম সৃষ্টি হননি, বরং, তিনি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান ছিলেন।

চিন্তা করে দেখুন, সময়ের সৃষ্টির আগে, আলোর জন্মের আগে, ফেরেশতাদের অস্তিত্বের আগে, আরশ-কুরসির স্থাপনার আগে, সেই অনন্তকালের নিস্তব্ধতায় একজন সত্তা ছিলেন। তাঁর নাম, কালাম (আরবি: كلمة الله কালিমাতুল্লাহ; গ্রিক: λόγος লোগোস; বাংলা: বাক্য/বাণী)।

"কালাম" শব্দটির গভীরতা কতটুকু

আমাদের ঈমানদার মুসলিম ভাইবোনেরা এই শব্দটির সাথে অত্যন্ত পরিচিত। পবিত্র কোরআনেও হযরত ঈসা (আঃ)-কে বলা হয়েছে, "কালিমাতুম্‌ মিনহু ইসমুহুল মাসীহু ঈসাব্‌নু মারইয়ামা" অর্থাৎ, "তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালিমা, যাঁর নাম মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম।" (সূরা আলে ইমরান ৩:৪৫ আয়াত)

কিতাবুল মোকাদ্দসে "কালাম" শুধু মুখের কথা নয়, এটি আল্লাহর স্বয়ংক্রিয় প্রকাশ, তাঁর অন্তরের গোপন কথা, তাঁর সৃষ্টিকারী শক্তি।

যেমন পয়দায়েশে আল্লাহ বললেন, "আলো হোক!", আর আলো হলো। তাঁর কালামই সৃষ্টির হাতিয়ার। কিন্তু ইউহোন্না বলছেন, সেই কালাম শুধু একটি শব্দ নয়, তিনি একজন জীবন্ত ব্যক্তিত্ব।

দ্বিতীয় রহস্য, "কালাম আল্লাহ্‌র সংগে ছিলেন এবং কালাম নিজেই আল্লাহ্‌ ছিলেন"

এই একটি বাক্যে ইউহোন্না এমন এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন, যা যুগ যুগ ধরে ধর্মতাত্ত্বিকদের বিস্মিত করে রেখেছে।

দুটি সত্য একসাথে

লক্ষ্য করুন, ইউহোন্না দুটি কথা বলছেন:

প্রথম কথা: "কালাম আল্লাহ্‌র সংগে ছিলেন" অর্থাৎ কালাম ও আল্লাহ আলাদা ব্যক্তিত্ব (সত্ত্বা আলাদা নয়)।
দ্বিতীয় কথা: "কালাম নিজেই আল্লাহ্‌ ছিলেন" অর্থাৎ কালামের সত্তা ও প্রকৃতি হলো আল্লাহর নিজস্ব সত্তা।

প্রিয় বন্ধু, এটি কোনো বিভ্রান্তি নয়। এটি হলো সেই মহান রহস্য, যাকে বলা হয় তাওহীদের গভীরতা, এক আল্লাহর ভেতরে এমন এক ঐক্য, যা মানুষের ক্ষুদ্র বুদ্ধির সীমানার বাইরে।

কিছুটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই, সূর্য ও সূর্যের আলো কি আলাদা? না, তারা এক। আবার কি আলো ও সূর্য এক? সূর্য আকাশে, তার আলো পৃথিবীতে। ঠিক তেমনি, আল্লাহ ও তাঁর কালাম এক, অথচ প্রকাশে ভিন্ন।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ এই কালামই একদিন মানুষের রূপ ধারণ করে দুনিয়াতে আসবেন। তাঁর নাম হবে হযরত ঈসা (আঃ)। এবং যখন আপনি ঈসাকে দেখবেন, আপনি আল্লাহর কালামকে দেখবেন। যখন আপনি ঈসার কথা শুনবেন, আপনি আল্লাহর হৃদয়ের কথা শুনবেন।

তৃতীয় রহস্য: সৃষ্টির স্রষ্টা

"সব কিছু তাঁরই মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে; যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাঁকে ছাড়া কোন কিছুই সৃষ্টি হয় নি।" ইউহোন্না ১:৩ আয়াত

ভাল করে লক্ষ্য করুন এখানে, কালাম শুধুমাত্র বিদ্যমানই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সক্রিয়।

  • যে গ্যালাক্সিগুলো লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরে ছড়িয়ে আছে তিনি সৃষ্টি করেছেন।

  • যে ছোট্ট প্রজাপতির ডানায় রঙিন কারুকাজ তাঁরই হাতের ছোঁয়া।

  • আপনার মায়ের গর্ভে যে ভ্রূণ থেকে আপনি তৈরি হয়েছেন সেই DNA-র প্রতিটি অক্ষর তাঁরই কালামে গঠিত।

কল্পনা করুন, যিনি সমস্ত ছায়াপথ, তারকারাজি, ফেরেশতা, জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেই মহান কালাম একদিন এক দরিদ্র মহিলার কোলে নবজাতক শিশু হয়ে আসবেন এবং কাঁদবেন। এটাই ইঞ্জিলের সবচেয়ে বিস্ময়কর সংবাদ।

চতুর্থ রহস্য জীবন ও আলোর উৎস

"তাঁরই মধ্যে জীবন ছিল আর সেই জীবন মানুষের আলো ছিল। সেই আলো অন্ধকারের মধ্যে জ্বলছে, কিন্তু অন্ধকার সেই আলোকে গ্রাস করতে পারে নি।" --ইউহোন্না ১:৪-৫ আয়াত

এই দুটি আয়াত একটি সিনেমার মতো। মনে করুন,

গোটা এই মহাবিশ্ব অন্ধকারে ঢাকা আছে। আবার এর মধ্যেই দুনিয়াতে আছে গুনাহের অন্ধকার, মৃত্যুর অন্ধকার, অজ্ঞতার অন্ধকার। কারন, দুনিয়ার মানুষ পথ হারিয়ে ফেলেছে। কেউ জানে না কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে।

হঠাৎ, সেই অন্ধকারের বুক চিরে একটি আলো জ্বলে ওঠে। ছোট্ট প্রদীপের মতো নয়, বরং সূর্যের চেয়েও উজ্জ্বল। সেই আলো হলেন সেই কালাম, যাকে ঈসা মসীহ বলে ঘোষনা করছে।

শয়তানও বারবার চেষ্টা করেছে সেই আলোকে নিভিয়ে দিতে। ফেরাউনের মতো অত্যাচারী রাজারাও চেষ্টা করেছে। হেরোদ বেথলেহেমে হাজার হাজার শিশুদের হত্যা করেছে, যেন একই সাথে ঈসা মসীহও সেই হত্যার শিকার হয়, কিন্তু পারে নি। সবশেষ, তাঁকে ক্রুশে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু,"অন্ধকার সেই আলোকে গ্রাস করতে পারে নি।", অর্থাৎ, তিনি তৃতীয় দিবে আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন। আজও অন্ধকার আলোকে জয় করতে পারে না। কারণ আলো আলোই, অন্ধকার তার সামনে টিকতে পারে না।

পঞ্চম রহস্য: হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর সাক্ষ্য

"একজন লোক এসেছিলেন যাঁকে আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছিলেন। তাঁর নাম ইয়াহিয়া। তিনি সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন যেন সকল মানুষ তাঁর মধ্য দিয়ে ঈমান আনতে পারে। কিন্তু তিনি নিজে সেই আলো ছিলেন না, বরং, সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন।" -- ইউহোন্না ১:৬-৮ আয়াত।

হযরত ইয়াহইয়া (আঃ), যাঁকে বাইবেলে "যোহন বাপ্তিস্মদাতা" বলা হয়, তিনি ছিলেন এক জ্বলন্ত প্রদীপের মতো। কিন্তু তিনি বললেন, "আমি সেই আলো নই।"

তাঁর কাজ ছিল ঠিক সেই ব্যক্তির মতো, যিনি রাতের অন্ধকারে টর্চ নিয়ে বলেন, "ঐ দেখো, সূর্য উঠতে চলেছে!" সূর্য এলে টর্চের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) সেই টর্চ, আর ঈসা মসীহ সেই সূর্য।

ষষ্ঠ রহস্য: এক হৃদয়বিদারক প্রত্যাখ্যান

"সেই প্রকৃত আলো, যিনি প্রত্যেক মানুষকে আলোকিত করেন, তিনি দুনিয়াতে এসেছিলেন। তিনি দুনিয়াতেই ছিলেন এবং এই দুনিয়া তাঁরই মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল, তবুও দুনিয়া তাঁকে চিনল না। তিনি তাঁর নিজের দেশে আসলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরেই তাঁকে গ্রহণ করল না।" --ইউহোন্না ১:৯-১১ আয়াত।

এই আয়াতগুলো পড়লে হৃদয় কেঁপে ওঠে।

কল্পনা করুন, একজন রাজা তাঁর নিজের রাজ্যে ফিরে এসেছেন। তিনি সেই রাজ্য নিজে তৈরি করেছেন। তাঁর প্রজারা তাঁরই সৃষ্টি। কিন্তু যখন তিনি এলেন, তাঁর নিজের প্রজারা তাঁকে চিনল না, তাঁর নিজের ঘরেই তাঁকে জায়গা দিল না।

বেথলেহেমের সরাইখানায় বা কোন হোটেলেও মরিয়মের জন্য কোনো জায়গা ছিল না। ঈসা মসীহ জন্ম নিলেন একটি ছোট্ট গোয়ালঘরে। যাঁর জন্য কোটি কোটি বেহেশতের ফেরেশতারা প্রশংসা গায়, তাঁর জন্য দুনিয়ার একটি কামরাও খালি ছিল না।

আজও কি আমরা সেই একই কাজ করি না? আমাদের হৃদয়ের সিংহাসনে দুনিয়ার হাজারো জিনিসকে জায়গা দিই, টাকা, খ্যাতি, ক্ষমতা, ভোগ, এই সবকিছুর জন্যই আমাদের কাছে জায়গা আছে। কিন্তু কালামুল্লাহর জন্য কি একটিমাত্র কামরা খালি রেখেছি?

সপ্তম রহস্য: যারা গ্রহণ করলো তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি

"কিন্তু যাঁরা তাঁকে গ্রহণ করলেন, অর্থাৎ যাঁরা তাঁর উপর ঈমান আনলেন, তিনি তাঁদের প্রত্যেকে আল্লাহ্‌র সন্তান হবার অধিকার দিলেন।" --ইউহোন্না ১:১২ আয়াত

এটি হলো সবচেয়ে সুন্দর প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি। যারা কালামুল্লাহকে অর্থাৎ, ঈসাকে হৃদয়ে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের এমন এক সম্মান দেন, যেন তারা আল্লাহর সন্তানের মতো ভালোবাসা পায়। শুধু বান্দা নয়, শুধু গোলাম নয়, বরং প্রিয় সন্তানের মতোই।

প্রিয় ইমানদার ভাইবোনেরা, একটু চিন্তা করুন, আল্লাহ যদি আপনাকে তাঁর নিজের কালামকে গ্রহণের সৌভাগ্যজনক সুযোগ দেন, তবে তিনি আপনাকে ফেলে দেবেন না। বরং তিনি আপনাকে বেহেশতের অতিথি বানিয়ে নেবেন।

চূড়ান্ত রহস্য: কালাম মানুষ হলেন!

আসুন এবার সেই মহান আয়াতে যাই, যা সমস্ত ইঞ্জিলের সারমর্ম:

"সেই কালামই মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন। পিতার একমাত্র পুত্র হিসাবে তাঁর যে মহিমা সেই মহিমা আমরা দেখেছি। তিনি রহমত ও সত্যে পূর্ণ।" --ইউহোন্না ১:১৪ আয়াত।

এটাই সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয়

যে কালাম সৃষ্টির আগে ছিলেন, যাঁর কণ্ঠে "আলো হোক" বলার সাথে সাথে অগণিত গ্যালাক্সি জন্ম নিয়েছিল, সেই মহান কালাম একদিন মরিয়মের গর্ভে একটি ছোট্ট ভ্রূণ হলেন। নয় মাস মায়ের পেটে বসবাস করলেন। বেথলেহেমের ঠান্ডা রাতে গোয়ালঘরে জন্ম নিলেন। শীতের কাপড়ে মোড়ানো হলেন। মায়ের বুকের দুধ খেলেন। এবং, এটাকে বলা হয় "তানাযযুল" অর্থাৎ, অবতরণ। মহান থেকে ক্ষুদ্র হওয়া। রাজা থেকে সেবক হওয়া।

কিন্ত কেন? কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন। তিনি এতই ভালোবাসেন যে, আমাদের কাছে আসতে তিনি নিজের মহিমা এক পাশে রেখে এলেন! কি আশ্চর্য লাগে না?

"তিনি রহমত ও সত্যে পূর্ণ"

হযরত মুসা (আঃ) আমাদের শরীয়ত দিয়েছেন, সত্য। কিন্তু কালামুল্লাহ ঈসা মসীহ এনেছেন শরীয়তের সাথে রহমত

"মূসার মধ্য দিয়ে শরীয়ত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে রহমত ও সত্য এসেছে।" --ইউহোন্না ১:১৭ আয়াত।

আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও ঈসা মসীহের ঐশ্বরিক পরিচয়

এই আয়াতগুলো আমাদের কী শেখায়?

  • ১. ঈসা মসীহ শুধু একজন নবী নন, বরং, তিনি অনন্তকাল থেকে বিদ্যমান কালাম।
    তিনি সৃষ্ট নন, তিনি সৃষ্টিকারী। তিনি সময়ের বাইরে থেকে এসে, আমাদের জন্য, আমাদেরকে ভালবেসে সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছেন।

  • ২. যদি আপনি আল্লাহকে চিনতে চান, তাহলে আগে ঈসা মসীহকে চিনুন।
    কারণ
    "আল্লাহ্‌কে কেউ কখনও দেখে নি। তাঁর সংগে থাকা সেই একমাত্র পুত্র, যিনি নিজেই আল্লাহ্‌, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন।" (ইউহোন্না ১:১৮)

  • ৩. অন্ধকার যতই ঘন হোক, আলো জিতবেই।
    কারন, আপনার জীবনে যদি গুনাহের অন্ধকার থাকে, হতাশার অন্ধকার থাকে, জেনে রাখুন, ঈসা মসীহের আলো সেই অন্ধকার দূর করার ক্ষমতা রাখে।

  • ৪. তাঁকে গ্রহণ করলে আপনি হবেন আল্লাহর প্রিয় সন্তান।
    কারন, এই সুসংবাদ শুধু ইহুদিদের জন্য নয়, শুধু আরবদের জন্য নয়, বরং সমস্ত মানুষের জন্য।

কালাম ও কোরআনের সেতুবন্ধন

আমাদের ইমানদার ভাইবোনেরা যখন কোরআনের এই আয়াতগুলো পড়েন, তখন তাঁরা কোরআনের সেই আয়াতগুলোর কথা মনে করতে পারেন যেখানে ঈসা (আঃ)-কে বলা হয়েছে "কালিমাতুল্লাহ" (আল্লাহর কালাম) এবং "রুহুম্‌ মিনহু" (তাঁর পক্ষ থেকে একটি রুহ) সূরা নিসা ৪:১৭১।

কারন, ইঞ্জিল ও কোরআন, দুটোই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে ঈসা মসীহ একজন সাধারণ মানুষ নন। তিনি আল্লাহর সেই কালাম, যিনি অনন্তকাল থেকেই বিদ্যমান ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

🤲 এখনই আমার সাথে দোয়া করুন

"হে চিরন্তন মাবুদ, হে আসমান-জমীনের মালিক,
তুমি সেই কালাম, যিনি অনন্তকাল থেকে বিদ্যমান।
আজ আমি তোমার জন্য আমার হৃদয়ের দরজা খুলে দিচ্ছি।
তুমি আমার জীবনে এসো, তোমার আলো দিয়ে আমার জীবনের অন্ধকারকে দূর করো।
আমাকে সেই সুযোগ দাও যেন আমি তোমাকে চিনতে পারি, তোমাকে ভালোবাসতে পারি।
হে ঈসা মসীহ, তুমি আল্লাহর কালাম, আমার হৃদয়ে তুমি বাস করো।
আমীন।"

সুতরাং: প্রথমে আপনার হৃদয়ের সরাইখানা ঠিক করুন

প্রিয় বন্ধু, দুই হাজার বছর আগে বেথলেহেমের সরাইখানায় কালামুল্লাহর জন্য কোনো জায়গা ছিল না। কিন্তু আজ, এই মুহূর্তে, তিনি আবারও দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, এবার ঠিক আপনার হৃদয়ের সরাইখানার দরজায়।

আপনি কি তাঁকে ভেতরে আসতে দেবেন? সিদ্ধান্তটি একান্তই আপনার।

যিনি নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন, তিনি আপনার হৃদয়ের একটি ছোট্ট কামরার জন্য অপেক্ষা করছেন। কারণ তিনি আপনাকে ভালোবাসেন, এবং তা অনন্তকাল ধরে।

যদি সত্যিই আল্লাহর এই কথাগুলো আপনার হৃদয় স্পর্শ করে, তবে এটি শেয়ার করুন, কারণ আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই জ্বালানো হয়। এমনকি আপনি ”আমিন” লিখেও আমাদেরকে পাঠাতে পারেন নিচে বক্সটিকে পূরন করার মাধ্যমে।

আল্লাহ আপনার সহায় হউন।

প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।

আপনার মনের অনুভুতি পাঠান

আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।