তাওরাত শরীফে মসীহের ছায়া: সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ কার কথা বলে আসছিলেন?

সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ কার কথা বলে আসছিলেন?

একটি লুকানো সুতো যা পুরো তাওরাত জুড়ে টানা আছে

প্রথমেই আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, আপনি কি নিয়মিত কোন বই পড়েন? যদি পড়ে থাকেন তবে লক্ষ্য করবেন যে, লেখক প্রথম পাতা থেকেই কিছু ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন, যা বইয়ের শেষে গিয়ে পূর্ণ অর্থ লাভ করে? আপনি যখন বইটি শেষ করেন, তখন প্রথম পাতায় ফিরে গিয়ে বুঝতে পারেন, "আরে, এই কথাটির মানে তো এটাই ছিল!"

তাওরাত শরীফ ঠিক এমনই একটি কিতাব। এর প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত একটি অদৃশ্য সুতো টানা আছে। সৃষ্টির বর্ণনা থেকে শুরু করে মূসা নবীর বিদায়ী ভাষণ পর্যন্ত, বারবার এমন কিছু ঘটনা, প্রতীক, ছায়া ও সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী আসে যা সবগুলো একজনের দিকে ইঙ্গিত করে। সেই একজন হলেন স্বয়ং ঈসা মসীহ

এখানে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তাওরাত শরীফ লেখা হয়েছিল ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ বছর আগে। আমরা আগের আর্টিকেলে (প্রাচীন পান্ডুলিপি এবং পাঠ্য সমালোচনা) দেখেছি যে মৃত সাগরের গুটিপুস্তক প্রমাণ করে এই লেখাগুলো পরবর্তীতে "বানিয়ে" ঢোকানো হয়নি, এগুলো আদি ও মৌলিক। তাহলে কীভাবে এত শত বছর আগে একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি এত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা সম্ভব হলো?

উত্তর একটাই: এটি মানুষের কাজ নয়। এটি সেই আল্লাহর কাজ যিনি বলেছেন:

"আমি শুরু থেকেই শেষের কথা জানিয়ে দিই, আগে থেকেই সেসব কথা বলি যা এখনো ঘটেনি।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৪৬:১০ আয়াত)

তাই প্রিয় বন্ধু, আসুন, তাওরাত শরীফ-এর পাঁচটি কিতাব (পয়দায়েশ, হিজরত, লেবীয়, গণনাপুস্তক ও দ্বিতীয় বিবরণ) থেকে প্রতিটি ছায়া ও ভবিষ্যদ্বাণী গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি এবং দেখি যে এগুলো আমাদের কাছে কি বার্তা বহন করে।

প্রথমত: পয়দায়েশ ৩:১৫ এ প্রথম প্রতিশ্রুতি (প্রোটো-ইভ্যাঞ্জেলিয়াম)

আদম ও হাওয়ার গুনাহর পর আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে (সাপকে) অভিশাপ দেওয়ার সময় একটি রহস্যময় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন:

"আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও নারীর বংশের মধ্যে শত্রুতা রাখব। সে তোমার মাথা পিষে দেবে এবং তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করবে।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩:১৫ আয়াত)

ধর্মতত্ত্ববিদরা এই আয়াতকে "প্রোটো-ইভ্যাঞ্জেলিয়াম" (Protoevangelium) বা "প্রথম সুসংবাদ" বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ সৃষ্টির একদম শুরুতেই, মানুষের পতনের ঠিক পরেই, আল্লাহ মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন। এই আয়াতে চারটি গভীর ভবিষ্যদ্বাণী লুকিয়ে আছে:

ক. "নারীর বংশ" (Seed of the Woman)

হিব্রু ভাষায় "জেরা হা-ইশাহ" (זֶרַע הָאִשָּׁה)। এই শব্দবন্ধটি পুরো কিতাবুল মোকাদ্দসএ আর কোথাও ব্যবহৃত হয়নি। সাধারণভাবে তাওরাত শরীফএ বংশ সবসময় পিতার দিক থেকে গণনা করা হয়। যেমন: "ইব্রাহিমের বংশ", "ইসহাকের বংশ", "ইয়াকুবের বংশ"। কিন্তু এখানে বিশেষভাবে "নারীর বংশ" বলা হয়েছে।

এর একটিই অর্থ হতে পারে: এই বিশেষ সন্তানের জন্মে কোনো পুরুষের বীর্য বা বংশের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি কেবলমাত্র নারীর মাধ্যমেই পৃথিবীতে আসবেন।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ কুমারী মরিয়ম-এর গর্ভে, কোনো মানবিক পিতা ছাড়াই, সরাসরি পাক-রূহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

"পাক-রূহ তোমার ওপর আসবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত তোমাকে ছায়া দেবেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ১:৩৫ আয়াত)

কুরআন শরীফও এই সত্যকে সত্যায়ন করে:

"আমি তাঁর মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম।"
(সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৯১ আয়াত)

খ. "সে তোমার মাথা পিষে দেবে"

হিব্রু শব্দ "ইয়াশুফ" (יְשׁוּפְךָ) অর্থ "পিষে দেবে" বা "চূর্ণ করবে"। মাথা পিষে দেওয়া মানে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত পরাজয়। এটি ইঙ্গিত করছে যে "নারীর বংশ" থেকে আসা সেই ব্যক্তি শয়তানকে এবং তার সমস্ত কাজকে (গুনাহ, মৃত্যু, অভিশাপ) চিরতরে পরাজিত করবেন।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ক্রুশে মৃত্যুবরণ করে এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র (মৃত্যু) কে চিরতরে পরাজিত করেছেন।

"যেহেতু সন্তানেরা রক্তমাংসের অংশীদার, তাই তিনিও (ঈসা মসীহ) তাদের মতো রক্তমাংস ধারণ করলেন, যেন মৃত্যুর দ্বারা তিনি মৃত্যুর ক্ষমতাধরকে অর্থাৎ ইবলিসকে ধ্বংস করতে পারেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ২:১৪ আয়াত)

গ. "তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করবে"

গোড়ালিতে আঘাত করা মানে কষ্ট দেওয়া, যন্ত্রণা দেওয়া, কিন্তু সেটি মারাত্মক বা চূড়ান্ত ক্ষতি নয়। এটি ইঙ্গিত করছে যে শয়তান নাজাতদাতাকে কষ্ট দেবে, কিন্তু তাঁকে চিরতরে ধ্বংস করতে পারবে না।

পূর্ণতা: ক্রুশে ঈসা মসীহ অকল্পনীয় শারীরিক ও আধ্যাত্মিক বা রুহানিক যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। শয়তান ক্রুশের মাধ্যমে তাঁকে "আঘাত" করেছিল। কিন্তু সেই আঘাত চূড়ান্ত ছিল না। তৃতীয় দিনে তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠলেন এবং শয়তানের মাথা চূর্ণ করলেন।

ঘ. এই আয়াতের সামগ্রিক চিত্র

সৃষ্টির একদম শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা পুরো মহাপরিকল্পনার রূপরেখা এক বাক্যে দিয়ে রেখেছিলেন: একজন আসবেন। তিনি নারীর বংশ থেকে আসবেন (কুমারী জন্ম)। তিনি কষ্ট পাবেন (ক্রুশ)। কিন্তু তিনি শয়তানকে চিরতরে পরাজিত করবেন (পুনরুত্থান)। এই একটি আয়াতেই ঈসা মসীহর জন্ম, মৃত্যু ও পুনরুত্থান তিনটিই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে! এটি মানবজাতির ইতিহাসের প্রথম সুসংবাদ।

দ্বিতীয়ত: আদম ও হাওয়ার জন্য আল্লাহর প্রথম কুরবানি (পয়দায়েশ ৩:২১)

গুনাহর পর আদম ও হাওয়া ডুমুর পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সেই মানবিক চেষ্টা গ্রহণ করলেন না। তিনি নিজে একটি ভিন্ন ব্যবস্থা করলেন:

"মাবুদ আল্লাহ আদম ও তাঁর স্ত্রীর জন্য চামড়ার পোশাক তৈরি করে তাঁদের পরিয়ে দিলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩:২১ আয়াত)

এই ছোট্ট আয়াতে বিশাল ধর্মতাত্ত্বিক সত্য লুকিয়ে আছে। চামড়ার পোশাক তৈরি করতে হলে একটি পশুকে মারতে হয়েছিল। রক্ত ঝরেছিল। একটি নিরপরাধ প্রাণী মারা গিয়েছিল যেন গুনাহগার মানুষের লজ্জা ঢাকা যায়।

এখানে তিনটি গভীর সত্য লক্ষ্য করুন:

ক. মানুষের নিজের চেষ্টা (ডুমুর পাতা) যথেষ্ট নয়। ডুমুর পাতা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়, পচে যায়। মানুষের নিজের আমল বা প্রচেষ্টা দিয়ে গুনাহর লজ্জা স্থায়ীভাবে ঢাকা সম্ভব নয়।

খ. আল্লাহ নিজেই কুরবানির ব্যবস্থা করেছেন। মানুষ নিজে এই ব্যবস্থা করেনি। আল্লাহই প্রাণী কুরবানি করেছেন, আল্লাহই পোশাক তৈরি করেছেন, আল্লাহই মানুষকে পরিয়ে দিয়েছেন। নাজাতের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ আল্লাহর।

গ. রক্তের কুরবানি ছাড়া গুনাহ ঢাকা সম্ভব নয়। এটিই কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ হলেন সেই চূড়ান্ত কুরবানি যাঁর রক্তের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের গুনাহ চিরকালের জন্য ঢেকে দিয়েছেন।

"ধন্য তারা যাদের অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে এবং যাদের গুনাহ ঢাকা হয়েছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৪:৭ আয়াত)

আদম ও হাওয়ার ডুমুর পাতা হলো মানুষের নিজের আমলের প্রতীক। আর আল্লাহর দেওয়া চামড়ার পোশাক হলো ঈসা মসীহর কুরবানির প্রতীক। আল্লাহ শুরু থেকেই দেখিয়ে দিচ্ছেন: মানুষের চেষ্টা নয়, আল্লাহর ব্যবস্থাই একমাত্র পথ।

তৃতীয়ত: হাবিলের কুরবানি, গ্রহণযোগ্য উপাসনার প্রথম পাঠ (পয়দায়েশ ৪:১-৭)

আদম ও হাওয়ার দুই ছেলে, হাবিল ও কাবিল, দুজনেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি দিলেন। কিন্তু ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

"কাবিল মাটির ফসল থেকে মাবুদের উদ্দেশ্যে নজরানা আনলো। আর হাবিল তার পালের প্রথমজাত ও সবচেয়ে ভালো পশু থেকে কুরবানি আনলো। মাবুদ হাবিল ও তার নজরানার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, কিন্তু কাবিল ও তার নজরানার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন না।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৪:৩-৫ আয়াত)

এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি:

ক. হাবিলের কুরবানি কেন গ্রহণ করা হলো?
হাবিল "প্রথমজাত" (firstborn) এবং "সবচেয়ে ভালো" (choicest/fattest) পশু কুরবানি দিয়েছিলেন। হিব্রু ভাষায় এখানে "খেলেভ" (חֵלֶב) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "সবচেয়ে ভালো অংশ" বা "চর্বিযুক্ত অংশ" (যা প্রাচীন সংস্কৃতিতে সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হিসেবে গণ্য হতো)। হাবিল আল্লাহকে তাঁর সেরাটা দিয়েছিলেন এবং সেই কুরবানিতে রক্ত ঝরেছিল।

খ. কাবিলের কুরবানি কেন গ্রহণ করা হলো না?
কাবিল মাটির ফসল এনেছিলেন। এতে কোনো রক্তপাত হয়নি। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, "আমার পরিশ্রমের ফল আল্লাহকে দিচ্ছি, এটাই তো যথেষ্ট।" কিন্তু আল্লাহ তা গ্রহণ করেননি।

গ. এই ঘটনা থেকে শিক্ষা:

আল্লাহর কাছে আসার পথ মানুষ নিজে ঠিক করতে পারে না। আল্লাহই সেই পথ নির্ধারণ করেন। আর আল্লাহ নির্ধারিত পথ হলো রক্তের কুরবানি। কাবিলের ভুল এটাই ছিল যে তিনি নিজের পছন্দমতো আল্লাহর কাছে আসতে চেয়েছিলেন, আল্লাহর পছন্দমতো নয়।

পূর্ণতা: হাবিলের "প্রথমজাত""সবচেয়ে ভালো" পশুর কুরবানি হলো ঈসা মসীহর প্রতীক। ইঞ্জিল শরীফ তাঁকে বলেছে:

"তিনি অদৃশ্য আল্লাহর প্রতিমূর্তি, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত।"
(ইঞ্জিল শরীফ, কলসীয় ১:১৫ আয়াত)

"ঈমানের দ্বারা হাবিল কাবিলের চেয়ে উত্তম কুরবানি আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ১১:৪ আয়াত)

চতুর্থত: নূহের নৌকা, মুক্তির একমাত্র পথের প্রতীক (পয়দায়েশ ৬-৯)

মহাপ্লাবনের ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি ঈসা মসীহর মাধ্যমে মুক্তির একটি শক্তিশালী প্রতীক। আসুন গভীরভাবে বিষয়টিকে দেখি:

ক. পৃথিবী গুনাহে ভরে গিয়েছিল:

"মাবুদ দেখলেন যে মানুষের দুষ্টতা দুনিয়ায় বেড়ে গেছে এবং তাদের মনের প্রতিটি চিন্তা ও কল্পনা সবসময় শুধু মন্দ।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৫ আয়াত)

এটি মানবজাতির আধ্যাত্মিক অবস্থার চিত্র। গুনাহ এতটাই গভীরে প্রবেশ করেছিল যে মানুষের "প্রতিটি চিন্তা" মন্দ হয়ে গিয়েছিল। এটি আজকের দিনেও সত্য। আমরা সবাই গুনাহের সাগরে ডুবে আছি।

খ. আল্লাহর ইনসাফ ধ্বংস দাবি করেছিল:

"মাবুদ বললেন, 'আমি মানুষকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলব।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৭ আয়াত)

আল্লাহর ইনসাফ গুনাহকে ক্ষমা করতে পারে না। ন্যায়বিচার ধ্বংস দাবি করে।

গ. কিন্তু আল্লাহর রহমত একটি পথ (way) দিলো:

"কিন্তু নূহ মাবুদের চোখে অনুগ্রহ পেলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৮ আয়াত)

আল্লাহ একটি নৌকা বানাতে বললেন। সেই নৌকাই ছিল মুক্তির একমাত্র পথ। যে ঢুকেছে সে বেঁচেছে, যে ঢোকেনি সে ধ্বংস হয়েছে। মাঝামাঝি কোনো পথ ছিল না।

ঘ. নৌকার দরজা আল্লাহ নিজে বন্ধ করেছিলেন:

"মাবুদ নিজে নৌকার দরজা বন্ধ করে দিলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৭:১৬ আয়াত)

দরজা বন্ধ করার দায়িত্ব আল্লাহর। মানুষের কাজ শুধু নৌকায় প্রবেশ করা (ঈমান আনা)। সুরক্ষার দায়িত্ব আল্লাহর।

ঙ. নৌকা থেকে বের হয়ে নূহ প্রথমেই কুরবানি দিলেন:

"নূহ মাবুদের উদ্দেশ্যে একটি কুরবানগাহ তৈরি করলেন এবং সমস্ত পাক পশু ও পাক পাখি থেকে নিয়ে পোড়ানো কুরবানি উৎসর্গ করলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৮:২০ আয়াত)

ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়ে প্রথম কাজ হলো রক্তের কুরবানি। আবারও সেই একই নীতি।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ হলেন সেই নৌকা। তিনিই মুক্তির একমাত্র পথ। তাঁর মধ্যে যে আশ্রয় নেয়, সে আল্লাহর ইনসাফের বিচার থেকে রক্ষা পায়।

ঈসা মসীহ বলেছেন:

"আমিই দরজা। আমার মধ্য দিয়ে যে কেউ প্রবেশ করবে সেই রক্ষা পাবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ (ইউহোন্না), ইউহোন্না ১০:৯ আয়াত)

পিতরও এই সংযোগটিকে তুলে ধরেছেন:

"সেই নৌকায় মাত্র কয়েকজন, অর্থাৎ আটজন পানি থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এই পানি বাপ্তিস্মের (তরিকাবন্দীর) প্রতীক, যা এখন তোমাদেরও রক্ষা করে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ৩:২০-২১ আয়াত)

পড়া চালিয়ে যান

প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।

আপনার মনের অনুভুতি পাঠান

আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।

আমি কিতাবুল মোকাদ্দস পড়তে চাই, কিভাবে পেতে পারি?