দিনে পাঁচবার চিৎকার করে আজান: রহমত নাকি শব্দদূষণ?

আপনি কি কখনো ভোররাতে হঠাৎ উচ্চস্বরে লাউডস্পিকারের আওয়াজে ঘুম ভেঙে উঠেছেন? অথবা দুপুরের ঘুমের মাঝে কিংবা রাতের নিস্তব্ধতায় যখন অসুস্থ কেউ বিশ্রাম নিচ্ছে, তখন জোরে আজানের শব্দ শুনে মনে প্রশ্ন জেগেছে: এটা কি সত্যিই ইবাদত, নাকি অজান্তেই মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি?

alkalimatullah team

9/27/20261 min read

The Adhan shouted five times a day: a blessing or noise pollution?
The Adhan shouted five times a day: a blessing or noise pollution?

বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি মসজিদ থেকে দিনে পাঁচবার উচ্চস্বরে আজান দেওয়া হয়। সেটিও আবার খুবই কাছাকাছি থাকা মসজিদগুলো থেকে; আবার একটি মসজিদে একাধিক মাইক যুক্ত থাকে; একটি দিয়েও আবার তাদের হয় না কাজ। এতে তারা মনে করেন, যত জোরে আজান দেওয়া যায়, তত বেশি পুণ্য ও বেহেশতের আশা। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? আসুন, বিষয়টিকে শুধু সত্য ও যুক্তির আলোকে গভীরভাবে দেখি।

প্রথমত, কিতাবুল মোকাদ্দসের ইতিহাস ও প্রকৃত ইবাদতের ধারণা

কিতাবুল মোকাদ্দসের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পরমেশ্বর কখনোই মানুষকে উচ্চস্বরে চিৎকার করে তাঁর নাম জপতে বা অন্যের কষ্ট করে ইবাদত করতে বলেননি। বরং তিনি চান হৃদয়ের গভীর থেকে নম্র ও আন্তরিক ডাক।

তওরাত ও ইঞ্জিলে দেখা যায়, নবীগণ ও ঈসা মসীহ নিজেই নিরিবিলি স্থানে, হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া করতেন। উচ্চস্বরে শোরগোল করে অন্যের বিশ্রাম নষ্ট করা কোনোভাবেই পরমেশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য ইবাদত নয়।

দ্বিতীয়ত, কোরআনের নির্দেশনা: মধ্যমপন্থা ও অন্যের ক্ষতি না করা

কোরআন শরীফে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন:

"আর তোমরা তোমাদের নামাজে স্বরকে অতিরিক্ত উঁচু করো না এবং অতিরিক্ত নিচুও করো না। বরং এর মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করো।" (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:১১০)

এখানে নামাজের ক্ষেত্রেও মধ্যমপন্থার কথা বলা হয়েছে। আজান তো আরো বেশি।

আরও বলা হয়েছে:

"আর যারা ঈমান এনেছে, তারা যেন এমন কথা না বলে যা শুনে অবিশ্বাসীরা কষ্ট পায়।" (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৮-এর প্রেক্ষাপট)

কোরআন অন্যের কষ্ট দেওয়াকে অপছন্দ করে। যদি আজানের উচ্চ শব্দে অসুস্থ মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ বা অন্য ধর্মের মানুষ কষ্ট পায়, তবে সেই ইবাদত কি আল্লাহর কাছে পূর্ণ রহমত বয়ে আনবে?

তৃতীয়ত, হাদিসের আলোকে

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মানুষকে কষ্ট দেয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ১০৫)

আরেকটি হাদিসে এসেছে:

"যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তার ইবাদত কবুল করেন না।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সারাংশ; বিভিন্ন বর্ণনায়)

লাউডস্পিকার দিয়ে অতিরিক্ত জোরে আজান দিয়ে যদি প্রতিবেশীদের ঘুম, পড়াশোনা বা বিশ্রাম নষ্ট হয়, তবে সেই আজান কি সত্যিই পুণ্যের কাজ, নাকি অজান্তেই মানুষের অধিকার হরণ?

চতুর্থত, ইসলামিক আলেমদের মতামত

বিখ্যাত আলেম ইমাম নববী (রহ.) এবং পরবর্তী অনেক ফকীহ বলেছেন, আজানের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নামাজের কথা স্মরণ করানো, শব্দদূষণ সৃষ্টি করা নয়। আধুনিক যুগের অনেক আলেমও (যেমন: মিসরের দারুল ইফতা এবং সৌদির কিছু ফতোয়ায়) লাউডস্পিকারের অতিরিক্ত ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন, কারণ এটি অন্যের ক্ষতি করে।

পঞ্চমত, বিজ্ঞান ও বাস্তব ক্ষতি

বিজ্ঞান বলছে, ৮০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘক্ষণ শুনলে কানের ক্ষতি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ এবং এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের অনেক মসজিদে আজান ৯০-১০০ ডেসিবেল বা তারও বেশি পর্যন্তও হয়। এটি শুধু মানুষ নয়, পাখি, প্রাণী ও পরিবেশেরও ক্ষতি করে।

আপনি যদি সারাজীবন এভাবে অন্যকে কষ্ট দিয়ে ইবাদত করেন, তবে কি আল্লাহ খুশি হবেন? নাকি আপনি অজান্তেই নিজের আমলকেই নষ্ট করে ফেলছেন?

ষষ্ঠত, তুলনামূলক বিশ্লেষণ

একটু চিন্তা করুন। আপনি যদি প্রতিদিন পাঁচবার উচ্চস্বরে চিৎকার করে প্রতিবেশীকে জাগান, অথচ তার হৃদয়ে কোনো পরিবর্তন না আনে, তবে সেই ইবাদতের মূল্য কী? বাহ্যিক শোরগোল দিয়ে বেহেশত পাওয়া যায় না।

কোরআন ও হাদিস বারবার বলে, আল্লাহ দেখেন হৃদয়ের নিয়ত ও আন্তরিকতা। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, অনেকেই শুধু আজানের শব্দ বাড়িয়ে নিজেদের ধার্মিক মনে করেন, অথচ পাপ, অন্যায়, হিংসা, লোভ থেকে দূরে থাকেন না। এতে করে তারা শূন্য প্রত্যাশার দিকে এগিয়ে যান। নাজাতের আসল পথটি তারা হারিয়ে ফেলেন।

সপ্তমত, প্রকৃত ইবাদত ও নাজাতের পথ

কিতাবুল মোকাদ্দস আমাদের শেখায়, প্রকৃত ইবাদত হলো হৃদয়ের গভীর থেকে পরমেশ্বরের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ঈসা মসীহ বলেছেন:

"তোমরা যখন দোয়া করবে, তখন তোমাদের ঘরের ভিতরের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গোপনে তোমাদের পিতার কাছে দোয়া করো। আর যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন।" (মথি ৬:৬)

তিনি আরও বলেছেন:

"এই লোকেরা মুখে আমাকে সম্মান করে, কিন্তু এদের অন্তর আমা হতে অনেক দূরে।" (মথি ১৫:৮)

বাহ্যিক শোরগোল ও আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে নাজাত পাওয়া যায় না। নাজাত পাওয়া যায় কেবল ঈসা মসীহের মাধ্যমে, যিনি আমাদের পাপের শাস্তি নিজে বহন করেছেন। তিনি বলেছেন:

"আমিই পথ, আমিই সত্য এবং আমিই জীবন; আমাকে ছাড়া কেউ পিতার কাছে যেতে পারে না।" (ইউহোন্না ১৪:৬)

সুতারাং, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজান দেওয়া ভালো কাজ। কিন্তু যখন তা অন্যের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা রহমত নয়, বরং ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। আপনি হয়তো ভাবছেন, এতে বেহেশত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে আপনি অজান্তেই মানুষের অধিকার হরণ করছেন এবং আসল নাজাতের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

সত্যিকারের ইবাদত ও নিশ্চিত নাজাত কেবল ঈসা মসীহের ভালোবাসার মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি আপনাকে ডাকছেন শোরগোলের বাইরে এসে হৃদয়ের গভীরে তাঁর সাথে সম্পর্ক গড়তে।

আজই নিজেকে প্রশ্ন করুন: আমি কি সত্যিই আল্লাহর খুশি চাই, নাকি শুধু বাহ্যিক আওয়াজ বাড়িয়ে নিজেকে সন্তুষ্ট করছি?

সত্য জানতে এবং ঈসা মসীহের নাজাত গ্রহণ করতে ভিজিট করুন:

https://alkalimatullah.org/unique-identity-of-jesus

এই বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা চিন্তা লিখে জানান। উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন, যেন আরও অনেকে সত্যের দিকে এগিয়ে আসতে পারে।