তাওরাত শরীফে মসীহের ছায়া:

সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ কার কথা বলে আসছিলেন?

সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ কার কথা বলে আসছিলেন?

একটি লুকানো সুতো যা পুরো তাওরাত জুড়ে টানা আছে

প্রথমেই আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, আপনি কি নিয়মিত কোন বই পড়েন? যদি পড়ে থাকেন তবে লক্ষ্য করবেন যে, লেখক প্রথম পাতা থেকেই কিছু ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন, যা বইয়ের শেষে গিয়ে পূর্ণ অর্থ লাভ করে? আপনি যখন বইটি শেষ করেন, তখন প্রথম পাতায় ফিরে গিয়ে বুঝতে পারেন, "আরে, এই কথাটির মানে তো এটাই ছিল!"

তাওরাত শরীফ ঠিক এমনই একটি কিতাব। এর প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত একটি অদৃশ্য সুতো টানা আছে। সৃষ্টির বর্ণনা থেকে শুরু করে মূসা নবীর বিদায়ী ভাষণ পর্যন্ত, বারবার এমন কিছু ঘটনা, প্রতীক, ছায়া ও সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী আসে যা সবগুলো একজনের দিকে ইঙ্গিত করে। সেই একজন হলেন স্বয়ং ঈসা মসীহ

এখানে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তাওরাত শরীফ লেখা হয়েছিল ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ বছর আগে। আমরা আগের আর্টিকেলে (প্রাচীন পান্ডুলিপি এবং পাঠ্য সমালোচনা) দেখেছি যে মৃত সাগরের গুটিপুস্তক প্রমাণ করে এই লেখাগুলো পরবর্তীতে "বানিয়ে" ঢোকানো হয়নি, এগুলো আদি ও মৌলিক। তাহলে কীভাবে এত শত বছর আগে একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি এত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা সম্ভব হলো?

উত্তর একটাই: এটি মানুষের কাজ নয়। এটি সেই আল্লাহর কাজ যিনি বলেছেন:

"আমি শুরু থেকেই শেষের কথা জানিয়ে দিই, আগে থেকেই সেসব কথা বলি যা এখনো ঘটেনি।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৪৬:১০ আয়াত)

তাই প্রিয় বন্ধু, আসুন, তাওরাত শরীফ-এর পাঁচটি কিতাব (পয়দায়েশ, হিজরত, লেবীয়, গণনাপুস্তক ও দ্বিতীয় বিবরণ) থেকে প্রতিটি ছায়া ও ভবিষ্যদ্বাণী গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি এবং দেখি যে এগুলো আমাদের কাছে কি বার্তা বহন করে।

প্রথমত: পয়দায়েশ ৩:১৫ এ প্রথম প্রতিশ্রুতি (প্রোটো-ইভ্যাঞ্জেলিয়াম)

আদম ও হাওয়ার গুনাহর পর আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে (সাপকে) অভিশাপ দেওয়ার সময় একটি রহস্যময় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন:

"আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও নারীর বংশের মধ্যে শত্রুতা রাখব। সে তোমার মাথা পিষে দেবে এবং তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করবে।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩:১৫ আয়াত)

ধর্মতত্ত্ববিদরা এই আয়াতকে "প্রোটো-ইভ্যাঞ্জেলিয়াম" (Protoevangelium) বা "প্রথম সুসংবাদ" বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ সৃষ্টির একদম শুরুতেই, মানুষের পতনের ঠিক পরেই, আল্লাহ মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন। এই আয়াতে চারটি গভীর ভবিষ্যদ্বাণী লুকিয়ে আছে:

ক. "নারীর বংশ" (Seed of the Woman)

হিব্রু ভাষায় "জেরা হা-ইশাহ" (זֶרַע הָאִשָּׁה)। এই শব্দবন্ধটি পুরো কিতাবুল মোকাদ্দসএ আর কোথাও ব্যবহৃত হয়নি। সাধারণভাবে তাওরাত শরীফএ বংশ সবসময় পিতার দিক থেকে গণনা করা হয়। যেমন: "ইব্রাহিমের বংশ", "ইসহাকের বংশ", "ইয়াকুবের বংশ"। কিন্তু এখানে বিশেষভাবে "নারীর বংশ" বলা হয়েছে।

এর একটিই অর্থ হতে পারে: এই বিশেষ সন্তানের জন্মে কোনো পুরুষের বীর্য বা বংশের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি কেবলমাত্র নারীর মাধ্যমেই পৃথিবীতে আসবেন।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ কুমারী মরিয়ম-এর গর্ভে, কোনো মানবিক পিতা ছাড়াই, সরাসরি পাক-রূহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

"পাক-রূহ তোমার ওপর আসবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত তোমাকে ছায়া দেবেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ১:৩৫ আয়াত)

কুরআন শরীফও এই সত্যকে সত্যায়ন করে:

"আমি তাঁর মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম।"
(সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৯১ আয়াত)

খ. "সে তোমার মাথা পিষে দেবে"

হিব্রু শব্দ "ইয়াশুফ" (יְשׁוּפְךָ) অর্থ "পিষে দেবে" বা "চূর্ণ করবে"। মাথা পিষে দেওয়া মানে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত পরাজয়। এটি ইঙ্গিত করছে যে "নারীর বংশ" থেকে আসা সেই ব্যক্তি শয়তানকে এবং তার সমস্ত কাজকে (গুনাহ, মৃত্যু, অভিশাপ) চিরতরে পরাজিত করবেন।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ক্রুশে মৃত্যুবরণ করে এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র (মৃত্যু) কে চিরতরে পরাজিত করেছেন।

"যেহেতু সন্তানেরা রক্তমাংসের অংশীদার, তাই তিনিও (ঈসা মসীহ) তাদের মতো রক্তমাংস ধারণ করলেন, যেন মৃত্যুর দ্বারা তিনি মৃত্যুর ক্ষমতাধরকে অর্থাৎ ইবলিসকে ধ্বংস করতে পারেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ২:১৪ আয়াত)

গ. "তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করবে"

গোড়ালিতে আঘাত করা মানে কষ্ট দেওয়া, যন্ত্রণা দেওয়া, কিন্তু সেটি মারাত্মক বা চূড়ান্ত ক্ষতি নয়। এটি ইঙ্গিত করছে যে শয়তান নাজাতদাতাকে কষ্ট দেবে, কিন্তু তাঁকে চিরতরে ধ্বংস করতে পারবে না।

পূর্ণতা: ক্রুশে ঈসা মসীহ অকল্পনীয় শারীরিক ও আধ্যাত্মিক বা রুহানিক যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। শয়তান ক্রুশের মাধ্যমে তাঁকে "আঘাত" করেছিল। কিন্তু সেই আঘাত চূড়ান্ত ছিল না। তৃতীয় দিনে তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠলেন এবং শয়তানের মাথা চূর্ণ করলেন।

ঘ. এই আয়াতের সামগ্রিক চিত্র

সৃষ্টির একদম শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা পুরো মহাপরিকল্পনার রূপরেখা এক বাক্যে দিয়ে রেখেছিলেন: একজন আসবেন। তিনি নারীর বংশ থেকে আসবেন (কুমারী জন্ম)। তিনি কষ্ট পাবেন (ক্রুশ)। কিন্তু তিনি শয়তানকে চিরতরে পরাজিত করবেন (পুনরুত্থান)। এই একটি আয়াতেই ঈসা মসীহর জন্ম, মৃত্যু ও পুনরুত্থান তিনটিই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে! এটি মানবজাতির ইতিহাসের প্রথম সুসংবাদ।

দ্বিতীয়ত: আদম ও হাওয়ার জন্য আল্লাহর প্রথম কুরবানি (পয়দায়েশ ৩:২১)

গুনাহর পর আদম ও হাওয়া ডুমুর পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সেই মানবিক চেষ্টা গ্রহণ করলেন না। তিনি নিজে একটি ভিন্ন ব্যবস্থা করলেন:

"মাবুদ আল্লাহ আদম ও তাঁর স্ত্রীর জন্য চামড়ার পোশাক তৈরি করে তাঁদের পরিয়ে দিলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩:২১ আয়াত)

এই ছোট্ট আয়াতে বিশাল ধর্মতাত্ত্বিক সত্য লুকিয়ে আছে। চামড়ার পোশাক তৈরি করতে হলে একটি পশুকে মারতে হয়েছিল। রক্ত ঝরেছিল। একটি নিরপরাধ প্রাণী মারা গিয়েছিল যেন গুনাহগার মানুষের লজ্জা ঢাকা যায়।

এখানে তিনটি গভীর সত্য লক্ষ্য করুন:

ক. মানুষের নিজের চেষ্টা (ডুমুর পাতা) যথেষ্ট নয়। ডুমুর পাতা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়, পচে যায়। মানুষের নিজের আমল বা প্রচেষ্টা দিয়ে গুনাহর লজ্জা স্থায়ীভাবে ঢাকা সম্ভব নয়।

খ. আল্লাহ নিজেই কুরবানির ব্যবস্থা করেছেন। মানুষ নিজে এই ব্যবস্থা করেনি। আল্লাহই প্রাণী কুরবানি করেছেন, আল্লাহই পোশাক তৈরি করেছেন, আল্লাহই মানুষকে পরিয়ে দিয়েছেন। নাজাতের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ আল্লাহর।

গ. রক্তের কুরবানি ছাড়া গুনাহ ঢাকা সম্ভব নয়। এটিই কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ হলেন সেই চূড়ান্ত কুরবানি যাঁর রক্তের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের গুনাহ চিরকালের জন্য ঢেকে দিয়েছেন।

"ধন্য তারা যাদের অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে এবং যাদের গুনাহ ঢাকা হয়েছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৪:৭ আয়াত)

আদম ও হাওয়ার ডুমুর পাতা হলো মানুষের নিজের আমলের প্রতীক। আর আল্লাহর দেওয়া চামড়ার পোশাক হলো ঈসা মসীহর কুরবানির প্রতীক। আল্লাহ শুরু থেকেই দেখিয়ে দিচ্ছেন: মানুষের চেষ্টা নয়, আল্লাহর ব্যবস্থাই একমাত্র পথ।

তৃতীয়ত: হাবিলের কুরবানি, গ্রহণযোগ্য উপাসনার প্রথম পাঠ (পয়দায়েশ ৪:১-৭)

আদম ও হাওয়ার দুই ছেলে, হাবিল ও কাবিল, দুজনেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি দিলেন। কিন্তু ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

"কাবিল মাটির ফসল থেকে মাবুদের উদ্দেশ্যে নজরানা আনলো। আর হাবিল তার পালের প্রথমজাত ও সবচেয়ে ভালো পশু থেকে কুরবানি আনলো। মাবুদ হাবিল ও তার নজরানার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, কিন্তু কাবিল ও তার নজরানার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন না।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৪:৩-৫ আয়াত)

এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি:

ক. হাবিলের কুরবানি কেন গ্রহণ করা হলো?
হাবিল "প্রথমজাত" (firstborn) এবং "সবচেয়ে ভালো" (choicest/fattest) পশু কুরবানি দিয়েছিলেন। হিব্রু ভাষায় এখানে "খেলেভ" (חֵלֶב) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "সবচেয়ে ভালো অংশ" বা "চর্বিযুক্ত অংশ" (যা প্রাচীন সংস্কৃতিতে সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হিসেবে গণ্য হতো)। হাবিল আল্লাহকে তাঁর সেরাটা দিয়েছিলেন এবং সেই কুরবানিতে রক্ত ঝরেছিল।

খ. কাবিলের কুরবানি কেন গ্রহণ করা হলো না?
কাবিল মাটির ফসল এনেছিলেন। এতে কোনো রক্তপাত হয়নি। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, "আমার পরিশ্রমের ফল আল্লাহকে দিচ্ছি, এটাই তো যথেষ্ট।" কিন্তু আল্লাহ তা গ্রহণ করেননি।

গ. এই ঘটনা থেকে শিক্ষা:

আল্লাহর কাছে আসার পথ মানুষ নিজে ঠিক করতে পারে না। আল্লাহই সেই পথ নির্ধারণ করেন। আর আল্লাহ নির্ধারিত পথ হলো রক্তের কুরবানি। কাবিলের ভুল এটাই ছিল যে তিনি নিজের পছন্দমতো আল্লাহর কাছে আসতে চেয়েছিলেন, আল্লাহর পছন্দমতো নয়।

পূর্ণতা: হাবিলের "প্রথমজাত""সবচেয়ে ভালো" পশুর কুরবানি হলো ঈসা মসীহর প্রতীক। ইঞ্জিল শরীফ তাঁকে বলেছে:

"তিনি অদৃশ্য আল্লাহর প্রতিমূর্তি, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত।"
(ইঞ্জিল শরীফ, কলসীয় ১:১৫ আয়াত)

"ঈমানের দ্বারা হাবিল কাবিলের চেয়ে উত্তম কুরবানি আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ১১:৪ আয়াত)

চতুর্থত: নূহের নৌকা, মুক্তির একমাত্র পথের প্রতীক (পয়দায়েশ ৬-৯)

মহাপ্লাবনের ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি ঈসা মসীহর মাধ্যমে মুক্তির একটি শক্তিশালী প্রতীক। আসুন গভীরভাবে বিষয়টিকে দেখি:

ক. পৃথিবী গুনাহে ভরে গিয়েছিল:

"মাবুদ দেখলেন যে মানুষের দুষ্টতা দুনিয়ায় বেড়ে গেছে এবং তাদের মনের প্রতিটি চিন্তা ও কল্পনা সবসময় শুধু মন্দ।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৫ আয়াত)

এটি মানবজাতির আধ্যাত্মিক অবস্থার চিত্র। গুনাহ এতটাই গভীরে প্রবেশ করেছিল যে মানুষের "প্রতিটি চিন্তা" মন্দ হয়ে গিয়েছিল। এটি আজকের দিনেও সত্য। আমরা সবাই গুনাহের সাগরে ডুবে আছি।

খ. আল্লাহর ইনসাফ ধ্বংস দাবি করেছিল:

"মাবুদ বললেন, 'আমি মানুষকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলব।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৭ আয়াত)

আল্লাহর ইনসাফ গুনাহকে ক্ষমা করতে পারে না। ন্যায়বিচার ধ্বংস দাবি করে।

গ. কিন্তু আল্লাহর রহমত একটি পথ (way) দিলো:

"কিন্তু নূহ মাবুদের চোখে অনুগ্রহ পেলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৬:৮ আয়াত)

আল্লাহ একটি নৌকা বানাতে বললেন। সেই নৌকাই ছিল মুক্তির একমাত্র পথ। যে ঢুকেছে সে বেঁচেছে, যে ঢোকেনি সে ধ্বংস হয়েছে। মাঝামাঝি কোনো পথ ছিল না।

ঘ. নৌকার দরজা আল্লাহ নিজে বন্ধ করেছিলেন:

"মাবুদ নিজে নৌকার দরজা বন্ধ করে দিলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৭:১৬ আয়াত)

দরজা বন্ধ করার দায়িত্ব আল্লাহর। মানুষের কাজ শুধু নৌকায় প্রবেশ করা (ঈমান আনা)। সুরক্ষার দায়িত্ব আল্লাহর।

ঙ. নৌকা থেকে বের হয়ে নূহ প্রথমেই কুরবানি দিলেন:

"নূহ মাবুদের উদ্দেশ্যে একটি কুরবানগাহ তৈরি করলেন এবং সমস্ত পাক পশু ও পাক পাখি থেকে নিয়ে পোড়ানো কুরবানি উৎসর্গ করলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৮:২০ আয়াত)

ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়ে প্রথম কাজ হলো রক্তের কুরবানি। আবারও সেই একই নীতি।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ হলেন সেই নৌকা। তিনিই মুক্তির একমাত্র পথ। তাঁর মধ্যে যে আশ্রয় নেয়, সে আল্লাহর ইনসাফের বিচার থেকে রক্ষা পায়।

ঈসা মসীহ বলেছেন:

"আমিই দরজা। আমার মধ্য দিয়ে যে কেউ প্রবেশ করবে সেই রক্ষা পাবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ (ইউহোন্না), ইউহোন্না ১০:৯ আয়াত)

পিতরও এই সংযোগটিকে তুলে ধরেছেন:

"সেই নৌকায় মাত্র কয়েকজন, অর্থাৎ আটজন পানি থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এই পানি বাপ্তিস্মের (তরিকাবন্দীর) প্রতীক, যা এখন তোমাদেরও রক্ষা করে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ৩:২০-২১ আয়াত)

পঞ্চমত: মাল্‌কীসিদ্দিক, রহস্যময় যাজক-রাজা (পয়দায়েশ ১৪:১৮-২০)

তাওরাত শরীফ-এ একটি অত্যন্ত রহস্যময় ব্যক্তি আছেন যাঁর নাম মাল্‌কীসিদ্দিক (মেলকিসেদক / Melchizedek)। তিনি হঠাৎ করেই তাওরাত শরীফ-এর পাতায় আবির্ভূত হন, কোনো বংশপরিচয় ছাড়া, কোনো জন্ম বা মৃত্যুর তথ্য ছাড়া, এবং তারপর আবার অদৃশ্য হয়ে যান।

"শালেমের রাজা অর্থাৎ জেরুজালেমের বাদশাহ্‌ মাল্‌কীসিদ্দিক রুটি ও আঙুরের রস নিয়ে এলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহ তায়ালার একজন যাজক (ইমাম)। তিনি ইব্রাহিমকে বরকত দিয়ে বললেন, 'সর্বোচ্চ আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিনের মালিক, তাঁর পক্ষ থেকে ইব্রাহিমের ওপর বরকত হোক।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ১৪:১৮-১৯ আয়াত)

এবং ইব্রাহিম নবী তাঁকে নিজের সম্পদের দশমাংশ দান করলেন (অর্থাৎ তার সবকিছুর ১০ ভাগের ১ ভাগ):

"ইব্রাহিম তাঁকে সবকিছুর দশমাংশ দিলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ১৪:২০ আয়াত)

এখানে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করুন:

ক. তাঁর নামের অর্থ:
হিব্রু ভাষায় "মালকী" (מַלְכִּי) অর্থ "আমার রাজা" এবং "সেদেক" (צֶדֶק) অর্থ "ন্যায়বিচার" বা "ধার্মিকতা"। অর্থাৎ মাল্‌কীসিদ্দিক মানে "ধার্মিকতার রাজা"। আবার তিনি ছিলেন "শালেমের রাজা"। হিব্রু ভাষায় "শালেম" (שָׁלֵם) শব্দটি "শালোম" (שָׁלוֹם / শান্তি) থেকে এসেছে। অর্থাৎ তিনি ছিলেন "শান্তির রাজা"

"ধার্মিকতার রাজা" এবং "শান্তির রাজা" এই দুটি উপাধি একসাথে আর কার জন্য প্রযোজ্য? ঈসা মসীহকে নবীদের কিতাবে (যিশাইয়) ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে:

"কারণ আমাদের জন্য একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে... তাঁকে বলা হবে... শান্তির রাজপুত্র। তাঁর শাসন ও শান্তির কোনো শেষ থাকবে না... ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার দ্বারা তিনি রাজত্ব করবেন।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৯:৬-৭ আয়াত)

খ. তিনি একাধারে রাজা ও যাজক (ইমাম) ছিলেন:
তাওরাত শরীফ-এর ব্যবস্থায় রাজা ও যাজক দুটি সম্পূর্ণ আলাদা পদ ছিল। রাজারা আসতেন ইয়াহুদা গোত্র থেকে, আর যাজকরা আসতেন লেবি গোত্র থেকে। কেউ কখনো একসাথে দুটি পদ ধারণ করতে পারতেন না। কিন্তু মাল্‌কীসিদ্দিক ছিলেন একাধারে রাজা ও ইমাম (যাজক)। এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক চিত্র।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ একাধারে রাজা (বাদশাহ) ও মহাযাজক (ইমামুল আযম)। তিনি আল্লাহর রাজ্যের চিরস্থায়ী বাদশাহ এবং একইসাথে তিনি নিজেকে কুরবানি দিয়ে মানবজাতির পক্ষে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন মহাযাজক হিসেবে।

গ. তাঁর কোনো বংশপরিচয়, জন্ম বা মৃত্যুর উল্লেখ নেই:

ইঞ্জিল শরীফ এই বিষয়টি গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছে:

"তাঁর পিতা নেই, মাতা নেই, বংশতালিকা নেই। তাঁর জীবনের শুরু নেই, শেষও নেই। তিনি আল্লাহর পুত্রের সদৃশ; তিনি চিরকাল যাজক (ইমাম) থাকেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ (ইব্রীয়), ইব্রীয় ৭:৩ আয়াত)

মাল্‌কীসিদ্দিক এর কোনো শুরু নেই, শেষ নেই, তিনি চিরকালীন ইমাম বা যাজক। এটি কি একজন সাধারণ মানুষের বর্ণনা? নিশ্চয়ই না। এটি ঈসা মসীহর চিরস্থায়ী ইমামতির প্রতীক। তাওরাত শরীফের লেবীয় যাজকরা মারা যেতেন এবং তাঁদের জায়গায় নতুন যাজক আসতেন। কিন্তু ঈসা মসীহের ইমামতি চিরস্থায়ী, কারণ তিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন।

ঘ. ইব্রাহিম তাঁকে দশমাংশ দিয়েছিলেন:
ছোট ব্যক্তি বড় ব্যক্তিকে দশমাংশ দেন, উল্টো নয়। ইব্রাহিম নবী, যিনি সকল বিশ্বাসীর পিতা, তিনি মাল্‌কীসিদ্দিককে দশমাংশ দিয়েছিলেন। এর মানে মাল্‌কীসিদ্দিক ইব্রাহিমের চেয়েও বড়।

"এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ছোট ব্যক্তিই বড় ব্যক্তির কাছ থেকে বরকত পান।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ৭:৭ আয়াত)

ঙ. তিনি রুটি ও আঙুরের রস এনেছিলেন:
মাল্‌কীসিদ্দিক "রুটি ও আঙুরের রস" নিয়ে এসেছিলেন। ঈসা মসীহ তাঁর শেষ ভোজে (Last Supper) সাহাবীদের সাথে রুটি ও আঙুরের রস ভাগ করে নিয়ে বলেছিলেন:

"এটি আমার দেহ যা তোমাদের জন্য দেওয়া হচ্ছে... এই পেয়ালা আমার রক্তে নতুন নিয়ম।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২২:১৯-২০ আয়াত)

মাল্‌কীসিদ্দিকের রুটি ও আঙুরের রস ছিল ঈসা মসীহর শেষ ভোজের পূর্বাভাস! হাজার বছর আগের একটি ছোট্ট ঘটনা যা ভবিষ্যতের সবচেয়ে পবিত্র মুহূর্তের দিকে ইঙ্গিত করছিল!

যাবুর শরীফ-এও মাল্‌কীসিদ্দিকের সাথে মসীহর সংযোগ স্পষ্টভাবে আছে:

"মাবুদ শপথ করেছেন এবং তিনি মন বদলাবেন না: 'তুমি মাল্‌কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে চিরকালের যাজক (ইমাম)।'"
(যাবুর শরীফ (গীতসংহিতা), ১১০:৪ আয়াত)

ষষ্ঠত: ইব্রাহিম ও ইসহাকের কুরবানি, ক্রুশের সবচেয়ে নিখুঁত পূর্বাভাস (পয়দায়েশ ২২)

আমরা আগের লেখায় (প্রাচীন কুরবানির ব্যবস্থা) এই ঘটনা দেখেছি, কিন্তু এখন আমরা প্রতিটি খুঁটিনাটি তুলনা করে দেখব এটি কীভাবে ঈসা মসীহর ক্রুশীয় কুরবানির সবচেয়ে নিখুঁত ছায়া।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ (ইব্রাহিম/ইসহাক বনাম আল্লাহ/ঈসা মসীহ):

ক. "তোমার একমাত্র ছেলে, যাকে তুমি ভালোবাসো":

"আল্লাহ বললেন, 'তোমার ছেলেকে নাও, তোমার একমাত্র ছেলে, যাকে তুমি ভালোবাসো...'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:২ আয়াত)

তুলনা:

"কারণ আল্লাহ দুনিয়াকে এতই মহব্বত করলেন যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করলেন..."
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৩:১৬ আয়াত)

ইব্রাহিম তাঁর "একমাত্র" ও "প্রিয়" ছেলেকে কুরবানি দিতে প্রস্তুত ছিলেন। আল্লাহও তাঁর "একমাত্র পুত্র" ঈসা মসীহকে মানবজাতির জন্য কুরবানি দিয়েছেন। ইব্রাহিমের ত্যাগ ছিল আল্লাহর নিজের ত্যাগের ছায়া। ইব্রাহিম শুধু প্রস্তুত হয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ সত্যিই তাঁর পুত্রকে দিয়ে দিলেন।

খ. ছেলে নিজে কুরবানির কাঠ বহন করেছিলেন:

"ইব্রাহিম কুরবানির কাঠ তার ছেলের ওপর চাপিয়ে দিলেন। আর তিনি নিজে আগুন ও ছুরি হাতে নিলেন। এভাবে তাঁরা দুজনে একসাথে চললেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:৬ আয়াত)

তুলনা:

"তখন তারা ঈসাকে নিল; এবং তিনি নিজে ক্রুশ বহন করতে করতে বের হয়ে মাথার খুলি নামক স্থানে গেলেন। ইবরানী ভাষায় সেই স্থানকে গল্‌গথা বলে।"
(ইঞ্জিল শরীফ (ইউহোন্না), ইউহোন্না ১৯:১৭ আয়াত)

ইসাহাক নিজের পিঠে কুরবানির কাঠ বহন করে পাহাড়ে উঠেছিলেন। ঈসা মসীহ নিজের কাঁধে ক্রুশ (কাঠ) বহন করে গলগথা নামক পাহাড়ে উঠেছিলেন। কাঠের ওপর কুরবানি হওয়ার এই চিত্রটি হাজার বছর আগেই আঁকা হয়ে গিয়েছিল!

গ. ছেলে বাধা দেননি, স্বেচ্ছায় সমর্পণ করেছিলেন:
ইসাহাক তখন যুবক ছিলেন এবং বৃদ্ধ ইব্রাহিমকে সহজেই বাধা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় সমর্পণ করেছিলেন। ঈসা মসীহ-ও বলেছিলেন:

"কেউ আমার প্রাণ কেড়ে নেয় না, আমি নিজের ইচ্ছায় তা দিই।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১০:১৮ আয়াত)

ঘ. "কুরবানির মেষশাবক কোথায়?" এই প্রশ্ন ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক উত্তর:

"ইসাহাক বললেন, 'বাবা, আগুন ও কাঠ তো আছে, কিন্তু পোড়ানো কুরবানির মেষশাবক কোথায়?' ইব্রাহিম বললেন, 'বাবা, আল্লাহ নিজেই কুরবানির মেষশাবক যোগান দেবেন।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:৭-৮ আয়াত)

"আল্লাহ নিজেই মেষশাবক যোগান দেবেন" এটি ইব্রাহিমের মুখ থেকে বের হওয়া একটি ভবিষ্যদ্বাণী। এবং আল্লাহ সত্যিই নিজে সেই চূড়ান্ত মেষশাবকের ব্যবস্থা করেছেন। হযরত ইয়াহিয়া যখন প্রথমবার ঈসা মসীহকে দেখেছিলেন, তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন:

"দেখো, আল্লাহর সেই মেষশাবক, যিনি দুনিয়ার গুনাহ বহন করে নিয়ে যান!"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:২৯ আয়াত)

ঙ. বিকল্প কুরবানি, ভেড়ার শিং ঝোপে আটকে ছিল:

"ইব্রাহিম চোখ তুলে তাকালেন এবং দেখলেন, পেছনে একটি ভেড়া তার শিং ঝোপে আটকে আছে। ইব্রাহিম সেই ভেড়াটি নিলেন এবং তার ছেলের বদলে সেটিকে কুরবানি হিসেবে উৎসর্গ করলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:১৩ আয়াত)

ভেড়ার শিং "ঝোপে" আটকে ছিল। হিব্রু ভাষায় "সবাখ" (סְבַךְ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "ঝোপ" বা "কাঁটাঝোপ"ঈসা মসীহর মাথায় কাঁটার মুকুট পরানো হয়েছিল:

"সৈন্যরা কাঁটা দিয়ে একটি মুকুট বানিয়ে তাঁর মাথায় পরিয়ে দিলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:২ আয়াত)

কাঁটাঝোপে আটকে থাকা ভেড়া, মাথায় কাঁটার মুকুট পরা ঈসা মসীহ। ইসাহাকের বদলে ভেড়া কুরবানি হলো, মানবজাতির বদলে ঈসা মসীহ কুরবানি হলেন। প্রতিটি বিষয় অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে!

চ. মোরিয়া পাহাড় ও জেরুজালেম:

"আল্লাহ বললেন, '...মোরিয়া দেশে যাও। সেখানে আমি যে পাহাড়টি তোমাকে দেখিয়ে দেব তার ওপর তাকে কুরবানি করো।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:২ আয়াত)

তাওরাত শরীফ ২ বংশাবলি (২ খান্দাননামা) বলছে মোরিয়া পাহাড় হলো সেই জায়গা যেখানে পরবর্তীতে সোলাইমানের ইবাদতখানা নির্মিত হয়েছিল:

"সোলাইমান মোরিয়া পাহাড়ে মাবুদের ঘর তৈরি করতে শুরু করলেন।"
(তাওরাত শরীফ (২ খান্দাননামা), ২ বংশাবলি ৩:১ আয়াত)

আর এটিই জেরুজালেম শহরের সেই একই এলাকা যেখানে ঈসা মসীহ ক্রুশে কুরবানি হয়েছিলেন! ইব্রাহিমের ভবিষ্যদ্বাণী "মাবুদের পাহাড়ে যোগান দেওয়া হবে" (পয়দায়েশ ২২:১৪) প্রায় ২,০০০ বছর পর সেই একই পাহাড়ে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে!

ছ. ইসাহাক তৃতীয় দিনে "ফিরে পেলেন":

"তৃতীয় দিনে ইব্রাহিম চোখ তুলে দূর থেকে সেই স্থান দেখলেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ২২:৪ আয়াত)

ইব্রাহিম যাত্রা শুরু করার পর তৃতীয় দিনে মোরিয়া পাহাড়ে পৌঁছেছিলেন। তাঁর মনে ইসাহাক ইতিমধ্যেই মৃত ছিলেন (কারণ আল্লাহ কুরবানি করতে বলেছিলেন)। কিন্তু তৃতীয় দিনে তিনি ইসহাককে জীবিত ফিরে পেলেন।

"ঈমানের দ্বারা ইব্রাহিম ইসাহাককে কুরবানি দিয়েছিলেন... তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে আল্লাহ মৃতদের মধ্য থেকেও জীবিত করতে পারেন, আর রূপক অর্থে তিনি তাকে মৃতদের মধ্য থেকে ফিরেও পেয়েছিলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ১১:১৭-১৯ আয়াত)

ইসাহাককে তৃতীয় দিনে "ফিরে পেলেন" (রূপক অর্থে মৃত্যু থেকে জীবিত)। ঈসা মসীহ তৃতীয় দিনে সত্যিই মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন! এমনকি "তৃতীয় দিন" এর বিষয়টিও হাজার বছর আগে থেকেই ছায়া হিসেবে বিদ্যমান ছিল!

সপ্তমত: হযরত ইয়াকুবের ভবিষ্যদ্বাণী, রাজদণ্ড ইয়াহুদা থেকে যাবে না (পয়দায়েশ ৪৯:১০)

হযরত ইয়াকুব নবী (ইসরাইল) মৃত্যুশয্যায় তাঁর বারো ছেলেকে ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন। তাঁর চতুর্থ ছেলে ইয়াহুদা সম্পর্কে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:

"রাজদণ্ড ইয়াহুদা থেকে সরবে না এবং শাসকের লাঠি তার পায়ের কাছ থেকে সরবে না যতদিন না তিনি আসেন যাঁর এটি প্রাপ্য (শীলোহ), আর জাতিগণ তাঁর বাধ্য হবে।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৪৯:১০ আয়াত)

এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি:

ক. "রাজদণ্ড ইয়াহুদা থেকে সরবে না":
এর মানে হলো, মসীহ আসবেন ইয়াহুদা গোত্র থেকে।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ইয়াহুদা গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

"আমাদের মাবুদ ইয়াহুদা গোত্র থেকে এসেছেন, এটা স্পষ্ট।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ৭:১৪ আয়াত)

খ. "শীলোহ" (שִׁילֹה):
হিব্রু শব্দ "শীলোহ" এর অর্থ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে আলোচনা আছে, তবে অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে এর অর্থ "যাঁর এটি প্রাপ্য" বা "যাঁকে এটি দেওয়া হবে"। প্রাচীন ইহুদি তালমুদ (Babylonian Talmud, Sanhedrin 98b) এবং তারগুম অনকেলোস (Targum Onkelos) এই আয়াতটিকে সরাসরি মসীহের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

গ. "জাতিগণ তাঁর বাধ্য হবে":
এখানে শুধু ইহুদি জাতি নয়, "জাতিগণ" (গোয়িম / גּוֹיִם) অর্থাৎ সমস্ত জাতি তাঁর বাধ্য হবে। এটি ইঙ্গিত করছে যে মসীহ শুধু ইহুদিদের জন্য নন, তিনি সমস্ত মানবজাতির জন্য।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহর বার্তা শুধু ইহুদিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি পৃথিবীর প্রতিটি জাতি ও ভাষার কাছে পৌঁছেছে।

"এইজন্য তোমরা যাও, এবং সমস্ত জাতিকে আমার উম্মত করো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৮:১৯ আয়াত)

অষ্টমত: ইউসুফের জীবন, মসীহের সবচেয়ে বিস্তারিত ছায়া (পয়দায়েশ ৩৭-৫০)

ইয়াকুব নবীর ছেলে ইউসুফের জীবন ঈসা মসীহর জীবনের সবচেয়ে বিস্তারিত ও হৃদয়গ্রাহী ছায়া। আসুন প্রতিটি মিল গভীরভাবে দেখি:

ক. পিতার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র:

"ইসরাইল (ইয়াকুব) তাঁর সব ছেলের মধ্যে ইউসুফকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩৭:৩ আয়াত)

তুলনা: ঈসা মসীহ আল্লাহর প্রিয় পুত্র। বাপ্তিস্মের সময় আসমান থেকে আল্লাহর আওয়াজ এসেছিল:

"ইনি আমার প্রিয় পুত্র, তাঁর ওপর আমি সন্তুষ্ট।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ৩:১৭ আয়াত)

খ. নিজের ভাইদের দ্বারা ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যাত:

"তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে হিংসা করতো এবং তাঁর সাথে শান্তিতে কথা বলতে পারতো না।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩৭:৪ আয়াত)

তুলনা: ঈসা মসীহকে তাঁর নিজের জাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল:

"তিনি নিজের জায়গায় (নিজের জাতির কাছে) এলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করলো না।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১১ আয়াত)

গ. ত্রিশটি রূপার মুদ্রায় বিক্রি:

"সেই মাদিয়ানীয় ব্যবসায়ীরা কাছে আসতেই ভাইয়েরা ইউসুফকে গর্ত থেকে টেনে তুলল এবং বিশ টুকরা রূপার বদলে ইসমাইলীয়দের কাছে তাঁকে বেঁচে দিল।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৩৭:২৮ আয়াত)

তুলনা: ঈসা মসীহ-কে ত্রিশটি রূপার মুদ্রায় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল:

"তারা তাকে (ইয়াহুদা ইস্কারিওতকে) ত্রিশটি রূপার মুদ্রা দিলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৬:১৫ আয়াত)

এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় লক্ষ্য করুন। ইউসুফকে ২০ টুকরা রুপার বদলে (মুদ্রার বিনিময়ে) বিক্রি করা হয়েছিল, যা সেই সময়ের একজন দাসের মূল্য ছিল (তাওরাত শরীফ (লেবীয় পুস্তক), লেবীয় ২৭:৫)। আর ঈসা মসীহকে ৩০ শেকেলে (টি মুদ্রার বিনিময়ে) ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তাওরাত শরীফ অনুযায়ী একজন দাসের ক্ষতিপূরণের মূল্য ছিল (তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ২১:৩২)। উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিকে দাসের মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে!

ঘ. মিথ্যা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত:
হযরত ইউসুফকে পোটিফরের স্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল (পয়দায়েশ ৩৯:৭-২০)। ঈসা মসীহকেও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল:

"প্রধান ইমাম ও পুরো সভা ঈসার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য খুঁজছিলেন যেন তাঁকে হত্যা করতে পারেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৬:৫৯ আয়াত)

ঙ. দুজন অপরাধীর সাথে বন্দী:
কারাগারে ইউসুফের সাথে দুজন বন্দী ছিলেন, ফেরাউনের পানীয় পরিবেশক ও রুটি তৈরিকারক। একজন মুক্তি পেয়েছিলেন, অন্যজন মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন (পয়দায়েশ ৪০:১-২২)। ঈসা মসীহও ক্রুশে দুজন অপরাধীর মাঝখানে ঝুলেছিলেন। একজন ঈমান এনে মুক্তি পেয়েছিলেন, অন্যজন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন (ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৩:৩৯-৪৩ আয়াত)।

চ. দুঃখভোগের পর সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উন্নীত:

"ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, 'আমি তোমাকে সমস্ত মিশরের ওপর কর্তা বানালাম।'"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৪১:৪১ আয়াত)

তুলনা:

"তাই আল্লাহও তাঁকে (ঈসা মসীহকে) সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করেছেন এবং তাঁকে এমন নাম দিয়েছেন যা সব নামের ঊর্ধ্বে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ফিলিপীয় ২:৯ আয়াত)

ছ. যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরই রক্ষাকর্তা হলেন:
ইউসুফের ভাইয়েরা তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছিল। কিন্তু ইউসুফই দুর্ভিক্ষের সময় তাদের বাঁচিয়েছিলেন। তিনি তাদের ক্ষমা করে বলেছিলেন:

"তোমরা আমার সাথে যা মন্দ করতে চেয়েছিলে, আল্লাহ সেটাকেই মঙ্গলে পরিণত করেছেন, যেন অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচে, যেমনটি আজ হচ্ছে।"
(তাওরাত শরীফ (আদিপুস্তক), পয়দায়েশ ৫০:২০ আয়াত)

তুলনা: ঈসা মসীহকেও তাঁর নিজের জাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ক্রুশে দিয়েছিল। কিন্তু তিনিই তাদের ও সমস্ত মানবজাতির নাজাতদাতা হলেন। ক্রুশের ওপর থেকে তিনি ক্ষমা করে বলেছিলেন:

"হে পিতা (আল্লাহ), এদের ক্ষমা করো, কারণ এরা জানে না এরা কী করছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৩:৩৪ আয়াত)

ইউসুফের জীবনের প্রতিটি ঘটনা ঈসা মসীহর জীবনের একটি ছায়া। পিতার প্রিয় পুত্র, ভাইদের ঘৃণা ও বিক্রি, মিথ্যা অভিযোগ, দুজন অপরাধীর সাথে বন্দী, দুঃখভোগ, সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উন্নীত হওয়া, এবং শেষ পর্যন্ত যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদেরই ক্ষমা ও মুক্তি দেওয়া। একটি দুটি মিল হলে কাকতালীয় বলা যায়, কিন্তু এতগুলো মিল? এটি আল্লাহর সুনিপুণ পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।

নবমত: পাসওভারের মেষশাবক, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক (হিজরত ১২)

আমরা আগের আর্টিকেলে (প্রাচীন কুরবানির ব্যবস্থা) পাসওভারের ঘটনা বিস্তারিত দেখেছি। কিন্তু এখন ভবিষ্যদ্বাণীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি ঘটনাকে খুঁটিনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব।

ক. মেষশাবক হতে হবে "খুঁতহীন" (নিখুঁত):

"তোমাদের মেষশাবক হতে হবে খুঁতহীন, এক বছর বয়সী পুরুষ মেষশাবক।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৫ আয়াত)

হিব্রু ভাষায় "তামিম" (תָּמִים) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "সম্পূর্ণ নিখুঁত", "কোনো দোষ নেই"। কুরবানির পশুতে সামান্যতম খুঁতও গ্রহণযোগ্য ছিল না। কোনো দাগ নেই, কোনো রোগ নেই, কোনো অসম্পূর্ণতা নেই।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। তাঁর মধ্যে কোনো গুনাহ ছিল না। পিলাত নিজেই তিনবার ঘোষণা করেছিলেন:

"আমি এই লোকের মধ্যে কোনো দোষ পাই না।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৮:৩৮ আয়াত)

পিতর লিখেছেন:

"তিনি কোনো গুনাহ করেননি এবং তাঁর মুখে কোনো ছলনা পাওয়া যায়নি।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ২:২২ আয়াত)

এবং পিতর আরও স্পষ্টভাবে পাসওভারের মেষশাবকের সাথে সংযোগ করেছেন:

"তোমরা জানো, তোমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে চলে আসা অসার জীবনযাত্রা থেকে তোমাদের মুক্ত করা হয়েছে সোনা-রূপার মতো ক্ষয়শীল জিনিস দিয়ে নয়, বরং মসীহর মূল্যবান রক্তের দ্বারা, যিনি ছিলেন খুঁতহীন ও দোষমুক্ত মেষশাবকের মতো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ১:১৮-১৯ আয়াত)

পাসওভারের মেষশাবক "খুঁতহীন" হতে হবে, ঈসা মসীহ ছিলেন "নিষ্পাপ"। পাসওভারের মেষশাবকের রক্ত ইসরাইলকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিল, ঈসা মসীহর রক্ত সমস্ত মানবজাতিকে চিরকালের মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।

খ. মেষশাবকের কোনো হাড় ভাঙা যাবে না:

"তার কোনো হাড় ভাঙা যাবে না।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৪৬ আয়াত)

পূর্ণতা: ক্রুশে রোমান সৈন্যরা অন্য দুজন অপরাধীর পা ভেঙেছিল (মৃত্যু ত্বরান্বিত করার জন্য), কিন্তু ঈসা মসীহর কাছে এসে দেখলো তিনি ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, তাই তারা তাঁর পা ভাঙলো না।

"সৈন্যরা এসে প্রথম জনের পা ভাঙলো, তারপর অন্যজনের যে ঈসার সাথে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঈসার কাছে এসে দেখলো তিনি ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, তাই তারা তাঁর পা ভাঙলো না... কারণ এসব ঘটলো যেন কিতাবের কথা পূর্ণ হয়: 'তাঁর কোনো হাড় ভাঙা হবে না।'"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:৩২-৩৬ আয়াত)

১,৫০০ বছর আগের একটি ছোট্ট নিয়ম ("হাড় ভাঙা যাবে না") ক্রুশের ওপর অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হচ্ছে! রোমান সৈন্যরা জানতো না যে তারা একটি প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করছে। কিন্তু আল্লাহ জানতেন।

গ. কুরবানির সঠিক সময় (নিসান মাসের ১৪ তারিখ):

"তোমরা এই মাসের (নিসান মাসের) ১০ তারিখে মেষশাবক আলাদা করে রাখবে... ১৪ তারিখ সন্ধ্যায় সমস্ত ইসরাইল জামাত সেটিকে কুরবানি করবে।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৩-৬ আয়াত)

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ঠিক নিসান মাসের ১০ তারিখে জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিলেন (যেদিন মেষশাবক আলাদা করে রাখার দিন) এবং নিসান মাসের ১৪ তারিখে ক্রুশে কুরবানি হয়েছিলেন (যেদিন পাসওভারের মেষশাবক কুরবানি হতো)!

তারিখও হুবহু মিলে যাচ্ছে! ১,৫০০ বছর আগে আল্লাহ যে তারিখে পাসওভারের মেষশাবক কুরবানি করতে বলেছিলেন, ঠিক সেই তারিখেই ঈসা মসীহ ক্রুশে কুরবানি হলেন! এটি কি মানুষের পরিকল্পনা, নাকি আল্লাহর সুনিপুণ পূর্বনির্ধারণ?

ঘ. রক্ত দরজায় লাগানো:

"তারপর তার কিছু রক্ত নিয়ে যে ঘরে তারা সেটি খাবে সেই ঘরের দরজার দুই পাশে ও ওপরে লাগাবে।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৭ আয়াত)

এখানে রক্ত লাগানোর জায়গাটি লক্ষ্য করুন: দরজার দুই পাশে এবং ওপরে। আপনি যদি এই তিনটি বিন্দু কল্পনা করেন (দুই পাশে এবং ওপরে), তাহলে এটি একটি ক্রুশের আকৃতি তৈরি করে!

১,৫০০ বছর আগে ইসরাইলীরা যখন তাদের দরজায় রক্ত লাগাচ্ছিল, তারা জানতো না যে তারা ক্রুশের আকৃতিতে রক্ত লাগাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ জানতেন যে ভবিষ্যতে তাঁর মেষশাবক ঠিক এই আকৃতির ক্রুশে রক্ত ঝরাবেন।

ঙ. "আমি যখন সেই রক্ত দেখব":

"সেই রক্ত তোমাদের চিহ্ন হবে। আমি যখন সেই রক্ত দেখব, তখন তোমাদের ওপর দিয়ে পার হয়ে যাব।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:১৩ আয়াত)

আল্লাহ মানুষের আমল দেখেননি, ভালো কাজের তালিকা দেখেননি, তাকওয়া দেখেননি। তিনি বললেন "আমি রক্ত দেখব।" মৃত্যুর ফেরেশতা যখন এসেছিল, সে ঘরের ভেতরে কে আছে তা দেখেনি। সে শুধু দরজায় রক্ত আছে কি না তা দেখেছে। যেখানে রক্ত ছিল, সে পার হয়ে গেছে। যেখানে রক্ত ছিল না, সেখানে মৃত্যু ঢুকেছে। ঠিক তেমনি, আল্লাহর বিচারের দিনে মানুষের আমল নয়, ঈসা মসীহর রক্ত হবে একমাত্র রক্ষাকবচ।

দশমত: তামার সর্প, ক্রুশের আশ্চর্য প্রতীক (গণনাপুস্তক ২১:৪-৯)

এটি তাওরাত শরীফ-এর একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ঘটনা যা সরাসরি ঈসা মসীহর ক্রুশের দিকে ইঙ্গিত করে।

বনি-ইসরাইল মরুভূমিতে যাত্রার সময় আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করলো। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্যে বিষাক্ত সাপ পাঠালেন এবং অনেক মানুষ সাপের কামড়ে মারা গেল:

"তখন মাবুদ সাপ পাঠালেন; সেগুলো মানুষদের দংশন করলো এবং অনেক ইসরাইলী মারা গেল।"
(তাওরাত শরীফ (গণনাপুস্তক), শুমারী ২১:৬ আয়াত)

মানুষ মূসা নবীর কাছে এসে তাওবা করলো। আল্লাহ তখন মূসাকে একটি অদ্ভুত নির্দেশ দিলেন:

"মাবুদ মূসাকে বললেন, 'একটি সাপ বানিয়ে একটি খুঁটির ওপর তুলে ধরো। যে কেউ দংশিত হয়ে সেটির দিকে তাকাবে, সে বেঁচে যাবে।' মূসা তামা দিয়ে একটি সাপ বানিয়ে খুঁটির ওপর তুলে ধরলেন। যখন কেউ সাপের কামড় খেতো, সে তামার সাপটির দিকে তাকাতো এবং বেঁচে যেতো।"
(তাওরাত শরীফ (গণনাপুস্তক), শুমারী ২১:৮-৯ আয়াত)

এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ্য করুন:

ক. সাপ ছিল অভিশাপের প্রতীক (পয়দায়েশ ৩:১৪ এ আল্লাহ সাপকে অভিশাপ দিয়েছিলেন)। গুনাহও একটি অভিশাপ।

খ. তামার তৈরী সাপকে একটি খুঁটির ওপর "তুলে ধরা" হয়েছিল। ঈসা মসীহও ক্রুশের ওপর "তুলে ধরা" হয়েছিলেন।

গ. সুস্থ হওয়ার জন্য মানুষকে কোনো কাজ করতে হয়নি, কোনো ওষুধ খেতে হয়নি, কোনো আমল করতে হয়নি। শুধুমাত্র তাকাতে হয়েছিল। শুধু বিশ্বাসের সাথে তাকানোই যথেষ্ট ছিল।

ঘ. যে তাকিয়েছে সে বেঁচেছে, যে তাকায়নি সে মারা গেছে। কোনো মাঝামাঝি পথ ছিল না।

এখন সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ। ঈসা মসীহ নিজেই এই ঘটনাটি উদ্ধৃত করে নিজের ক্রুশীয় মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:

"মূসা যেমন মরুভূমিতে সাপকে উঁচুতে তুলে ধরেছিলেন, ইবনুল আদমকেও (মানবপুত্রকে) তেমনি তুলে ধরতে হবে, যেন যে কেউ তাঁর ওপর ঈমান আনে সে অনন্ত জীবন পায়।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৩:১৪-১৫ আয়াত)

ঈসা মসীহ নিজেই বলছেন, মূসার তামার সাপ তাঁর ক্রুশের প্রতীক ছিল! মরুভূমিতে মানুষ সাপের কামড়ে (গুনাহর অভিশাপে) মারা যাচ্ছিল। সুস্থ হওয়ার একমাত্র পথ ছিল তামার সাপের দিকে তাকানো (ঈমানের সাথে ক্রুশের দিকে তাকানো)। কোনো আমল নয়, কোনো ওষুধ নয়, শুধু বিশ্বাসের দৃষ্টি। ঠিক তেমনি, গুনাহর অভিশাপ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ঈসা মসীহর ক্রুশের দিকে ঈমানের সাথে তাকানো।

পৌল এই সংযোগটিকে আরও স্পষ্ট করেছেন:

"মসীহ আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে শরীয়তের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন। কারণ কিতাবে লেখা আছে, 'যে ব্যক্তিকে কাঠে (খুঁটিতে) ঝোলানো হয় সে অভিশপ্ত।'"
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৩:১৩ আয়াত)

তামার সাপ ছিল অভিশাপের প্রতীক যা খুঁটির ওপর তোলা হয়েছিল। ঈসা মসীহ আমাদের গুনাহর অভিশাপ নিজের ওপর তুলে নিয়ে ক্রুশে (কাঠে) ঝুলেছিলেন। তিনি অভিশপ্ত হলেন যেন আমরা আশীর্বাদ পাই। তিনি মরলেন যেন আমরা বাঁচি।

একাদশতম: মূসা নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, "আমার মতো একজন নবী" (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫-১৯)

তাওরাত শরীফএর শেষ কিতাবে মূসা নবী তাঁর বিদায়ী ভাষণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:

"তোমাদের আল্লাহ মাবুদ তোমাদের নিজেদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবী তোমাদের জন্য দাঁড় করাবেন। তোমরা তাঁর কথা শুনবে।"
(তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫ আয়াত)

আল্লাহ তায়ালা নিজেও এই ভবিষ্যদ্বাণী নিশ্চিত করেছেন:

"আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার (মূসার) মতো একজন নবী তাদের জন্য দাঁড় করাব। আমি আমার কথা তাঁর মুখে দেব এবং আমি তাঁকে যা আদেশ করব তিনি তা-ই তাদের বলবেন। যে কেউ আমার সেই কথা শুনবে না যা তিনি আমার নামে বলবেন, তার কাছ থেকে আমি নিজে হিসাব নেব।"
(তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৮-১৯ আয়াত)

"আমার মতো একজন নবী" বলতে কী বোঝায়? আসুন বিস্তারিতভাবে তুলনা করে বুঝার চেষ্টা করি:

ক. মধ্যস্থতাকারী (Mediator):
মূসা ছিলেন আল্লাহ ও বনি-ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে শরীয়ত এনে মানুষকে দিয়েছিলেন। ঈসা মসীহও আল্লাহ ও মানবজাতির মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী:

"কারণ আল্লাহ একজন এবং আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীও একজন, তিনি হলেন মানুষ মসীহ ঈসা।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ তীমথিয় ২:৫ আয়াত)

খ. শরীয়তদাতা (Lawgiver):
মূসার মাধ্যমে আল্লাহ পুরাতন নিয়ম (তাওরাত) দিয়েছিলেন। ঈসা মসীহর মাধ্যমে আল্লাহ নতুন নিয়ম দিয়েছেন:

"কারণ শরীয়ত মূসার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রহমত ও সত্য ঈসা মসীহর মাধ্যমে এসেছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১৭ আয়াত)

গ. মুক্তিদাতা (Deliverer):
মূসা বনি-ইসরাইলকে মিশরের শারীরিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন। ঈসা মসীহ সমস্ত মানবজাতিকে গুনাহের আধ্যাত্মিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছেন:

"মসীহ আমাদের স্বাধীনতা দেয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের স্বাধীন করেছেন। তাই স্থির হয়ে দাঁড়াও এবং আবার দাসত্বের জোয়ালে বাঁধা পড়ো না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৫:১ আয়াত)

ঘ. রক্তের মাধ্যমে নিয়ম স্থাপন:
মূসা পশুর রক্ত ছিটিয়ে পুরাতন নিয়ম স্থাপন করেছিলেন:

"মূসা সেই রক্ত নিয়ে মানুষদের ওপর ছিটিয়ে বললেন, 'এই হলো সেই নিয়মের রক্ত যা মাবুদ তোমাদের সাথে করেছেন।'"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ২৪:৮ আয়াত)

ঈসা মসীহ নিজের রক্ত দিয়ে নতুন নিয়ম স্থাপন করেছেন:

"এই পেয়ালা আমার রক্তে নতুন নিয়ম, যা তোমাদের জন্য ঢালা হচ্ছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২২:২০ আয়াত)

ঙ. আল্লাহর সাথে মুখোমুখি কথা বলা:
মূসা আল্লাহর সাথে "মুখোমুখি" হয়ে কথা বলতেন (তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ৩৪:১০)। ঈসা মসীহ শুধু মুখোমুখি কথাই বলেননি, তিনি নিজেই সেই কালিমাতুল্লাহ:

"কেউ কখনো আল্লাহকে দেখেনি। একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার হৃদয়ের কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১৮ আয়াত)

চ. শিশু অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি:
মূসার জন্মের সময় ফেরাউন ইসরাইলী শিশুদের হত্যা করার আদেশ দিয়েছিল (তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১:২২)। ঈসা মসীহের জন্মের সময়ও রাজা হেরোদ বেথলেহেমের সমস্ত শিশুকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিল (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২:১৬)।

ছ. মিশরে আশ্রয়:
মূসা জীবন বাঁচাতে মিশর থেকে পালিয়েছিলেন (তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ২:১৫)। ঈসা মসীহকেও শিশু অবস্থায় মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হেরোদের হাত থেকে বাঁচাতে (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২:১৩-১৪)।

ইঞ্জিল শরীফে পিতর সরাসরি মূসার এই ভবিষ্যদ্বাণী ঈসা মসীহের ওপর প্রয়োগ করেছেন:

"মূসা বলেছিলেন, 'তোমাদের আল্লাহ মাবুদ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবী তোমাদের জন্য দাঁড় করাবেন। তিনি তোমাদের যা কিছু বলবেন তোমরা সব বিষয়ে তাঁর কথা শুনবে।'"
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ৩:২২ আয়াত)

মূসা ও ঈসা মসীহর মধ্যে এতগুলো মিল কি কাকতালীয়? মধ্যস্থতাকারী, শরীয়তদাতা, মুক্তিদাতা, রক্তের নিয়ম, মুখোমুখি সম্পর্ক, শিশু অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি, মিশরে আশ্রয়, প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে মিলে যাচ্ছে। মূসা নিজেই বলে গিয়েছিলেন, "আমার মতো একজন আসবেন।" আর সেই একজন হলেন ঈসা মসীহ।

তহলে তাওরাতের প্রতিটি পাতা কার মুখের দিকে ইঙ্গিত করছে?

প্রিয় পাঠক, আমরা আজকে তাওরাত শরীফ-এর পাঁচটি কিতাব থেকে মোট ১১টি ছায়া, প্রতীক ও ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছি:

১. পয়দায়েশ ৩:১৫ এ "নারীর বংশ" হিসেবে প্রথম প্রতিশ্রুতি (কুমারীর গর্ভে জন্ম, ক্রুশ ও পুনরুত্থান)।
২. পয়দায়েশ ৩:২১ এ আল্লাহর প্রথম কুরবানি (রক্ত ছাড়া ক্ষমা নেই)।
৩. হাবিলের রক্তের কুরবানি (নিখুঁত ও প্রথমজাত)।
৪. নূহের নৌকা (মুক্তির একমাত্র পথ)।
৫. মাল্‌কীসিদ্দিক (ধার্মিকতার রাজা, শান্তির রাজা, চিরস্থায়ী ইমাম)।
৬. ইব্রাহিম ও ইসাহাকের কুরবানি (একমাত্র পুত্র, কাঠ বহন, বিকল্প কুরবানি, মোরিয়া পাহাড়, তৃতীয় দিন)।
৭. ইয়াকুবের ভবিষ্যদ্বাণী (মসীহ ইয়াহুদা গোত্র থেকে, সমস্ত জাতি তাঁর বাধ্য হবে)।
৮. ইউসুফের জীবন (পিতার প্রিয় পুত্র, প্রত্যাখ্যান, রূপার মুদ্রা, মিথ্যা অভিযোগ, দুজন অপরাধী, সর্বোচ্চ ক্ষমতা, ক্ষমা)।
৯. পাসওভারের মেষশাবক (খুঁতহীন, হাড় না ভাঙা, নিসান ১৪, রক্তের মাধ্যমে মুক্তি)।
১০. তামার সাঁপ (খুঁটিতে তুলে ধরা, শুধু তাকানোতেই মুক্তি)।
১১. মূসার ভবিষ্যদ্বাণী ("আমার মতো একজন নবী")।

১১টি ভিন্ন ঘটনা, ১১টি ভিন্ন প্রেক্ষাপট, কিন্তু সবগুলো একটিই মুখের দিকে ইঙ্গিত করছে: ঈসা মসীহ। এটি কি কাকতালীয়? নাকি এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির শুরু থেকেই ঈসা মসীহের আগমনের পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন এবং তাওরাত শরীফের প্রতিটি পাতায় সেই পরিকল্পনার ইঙ্গিত লুকিয়ে রেখেছিলেন?

ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:

"তোমরা পাক-কিতাব অনুসন্ধান করো, কারণ তোমরা মনে করো তাতে তোমাদের অনন্ত জীবন আছে। আর সেই কিতাবই আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৫:৩৯ আয়াত)

পুনরুত্থানের পর তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন:

"তিনি মূসার কিতাব (তাওরাত) ও সমস্ত নবীদের কিতাব থেকে শুরু করে পাক-কিতাবের সমস্ত জায়গায় তাঁর নিজের সম্পর্কে যা লেখা আছে তা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৪:২৭ আয়াত)

প্রিয় পাঠক বন্ধু, পরবর্তী অংশে আমরা যাবুর শরীফ ও অন্যান্য নবীদের কিতাবে ঈসা মসীহ সম্পর্কে আরও বিস্ময়কর ও নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী দেখব, যেখানে তাঁর জন্মস্থান, দুঃখভোগ, মৃত্যু, পুনরুত্থান এবং চিরস্থায়ী রাজত্ব সম্পর্কে শত শত বছর আগে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে।

পড়ুন: "যাবুর শরীফ ও অন্যান্য কিতাবে মসীহ"

আপনার জন্য একটি প্রশ্ন

আপনি কি এই ১১ টি ছায়া বা প্রতীক ও ভবিষ্যদ্বাণী দেখেও বিশ্বাস করেন যে এগুলো কাকতালীয়?

যদি একটি মানুষের জীবনে মাত্র ২-৩টি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হতো, তাহলে হয়তো কাকতালীয় বলা যেত। কিন্তু ১১টি? এবং এগুলো শুধু তাওরাত শরীফ থেকে! যাবুর শরীফ ও নবীদের কিতাবে আরও শত শত ভবিষ্যদ্বাণী আছে!

ঈসা মসীহ নিজেই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন:

"এসো, আমার কাছে এসো, তোমরা সবাই যারা ক্লান্ত ও বোঝা বহন করছ, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১১:২৮ আয়াত)