সৃষ্টির সূচনা ও মানুষের আদি সম্মান হারিয়ে যাওয়ার অজানা রহস্য

ছোটবেলা থেকে আমাদের অনেককেই শেখানো হয়েছে যে, ধর্ম নিয়ে বেশি প্রশ্ন করা ঠিক নয়। প্রশ্ন করলে নাকি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়, গুনাহ হয়! কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখুন তো, যিনি আমাদের বিবেক ও বুদ্ধি দিয়েছেন, সেই মহান আল্লাহ কি আমাদের অন্ধ হয়ে থাকতে বলেছেন? এটি কি আসলেই কোরআনের নিদের্শ? এখই পড়ুন এই অজানা রহস্য।

আত্মিক জিজ্ঞাসা

Al Kalimatullah Team

10/28/20261 min read

alkalimatullah - The unknown mystery of humanity’s dignity
alkalimatullah - The unknown mystery of humanity’s dignity

আজ আমরা এমন একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করব, যা হয়তো আপনি কখনো নিজেকে করার সাহস পাননি। আমরা সবাই জানি যে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকালে কি সত্যিই আমাদের ‘সেরা’ মনে হয়? সৃষ্টির শুরুতে মানুষের যে পবিত্রতা ও রবের সরাসরি সান্নিধ্য ছিল, তা আজ কোথায় হারিয়ে গেল?

আমরা কোথায় ছিলাম?
ইতিহাস ও আসমানী কিতাবগুলো সাক্ষ্য দেয় যে, সৃষ্টির শুরুতে প্রথম মানব ও মানবীকে মহান মাবুদ অত্যন্ত যতন করে নিজের সান্নিধ্যে রেখেছিলেন। সেখানে সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টির মধ্যে কোনো দেয়াল বা পর্দা ছিল না। মানুষ সরাসরি আল্লাহর পবিত্র নূরের আলোয় জীবনযাপন করত।

কিন্তু এরপরই ঘটে গেল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

একটি ফল খাওয়া কি এতো বড় অপরাধ হতে পারে?
অনেকেই মনে করেন, আদি পিতা-মাতা কেবল একটি নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন এবং এর শাস্তি হিসেবে তাদের দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনন্ত দয়াময় আল্লাহ কি কেবল একটি সাধারণ ভুলের জন্য মানুষকে তাঁর পবিত্র সান্নিধ্য থেকে চিরতরে বের করে দেবেন?

বিষয়টি কেবল একটি ফল খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল রবের পবিত্র আইনের সরাসরি অবাধ্যতা। তফসীর ইবনে কাসীর, খণ্ড ১, অনুযায়ী, এই অবাধ্যতার কারণেই মানুষ জান্নাতের সেই উচ্চ মর্যাদা এবং আল্লাহর সরাসরি সান্নিধ্য হারিয়েছিল। মানুষের অন্তরে প্রথমবার পাপ বা গুনাহ প্রবেশ করে এবং এই গুনাহই আল্লাহ ও মানুষের মাঝখানে এক বিশাল দুর্ভেদ্য দেয়াল তৈরি করে দেয়।

আপনার ভেতরে কি শূন্যতা অনুভব করেন?
এখন নিজেকে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন করুন। একটি পাত্র যদি শুরুতেই বা নতুন অবস্থাতেই ছিদ্র হয়ে যায়, তবে তার ভেতরের পানি কি আর ধরে রাখা সম্ভব? মানবজাতির আদি পিতার মাধ্যমে যখন আমাদের রুহানি বা আধ্যাত্মিক অস্তিত্বে গুনাহের বিষ প্রবেশ করল, তখন আমরা সবাই জন্মগতভাবেই সেই বিচ্ছিন্নতার শিকার হলাম।

সহীহ বুখারীর একটি বিখ্যাত হাদিসে (নং ৫৬৭৩) বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিই কেবল নিজের নেক আমল দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাহলে প্রশ্ন জাগে, হাজার বার নামাজ পড়ে বা নিজের চেষ্টা দিয়ে কি আপনি সেই হারানো পবিত্রতা বা রবের সান্নিধ্য নিজে নিজে ফিরে পেতে পারবেন? যদি আপনার নিজের আমল আপনাকে বাঁচাতে না পারে, তবে আপনার নাজাতের নিশ্চয়তা কোথায়? আপনি কি তবে অন্ধকারের মধ্যে কেবল একটি অনিশ্চিত আশার ওপর ভরসা করে বেঁচে আছেন?

কে সেই হারানো পথ খুলে দেবেন?
মানুষের এই করুণ আধ্যাত্মিক পতন থেকে উদ্ধারের জন্যই আমাদের এমন একজন উদ্ধারকর্তা প্রয়োজন, যিনি এই পৃথিবীর গুনাহ ও শয়তানের স্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। সেই হারানো সান্নিধ্য ফিরিয়ে দিতেই মহান মাবুদ তাঁর নিজ কালামকে এই পৃথিবীতে পাঠালেন। তিনি হলেন হযরত ঈসা মসীহ। তিনি কেবল একজন সাধারণ নবী নন, তিনি হলেন অন্ধকারের বিনাশক এবং আমাদের পাপমোচনকারী মেষশাবক।

যে দেয়াল প্রথম মানুষ তৈরি করেছিল, সেই দেয়াল ভাঙার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে ঈসা মসীহের পবিত্র জীবনের রহস্যের মধ্যে। তিনি কীভাবে আমাদের সেই হারানো সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারেন, তা জানলে আপনার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে বদলে যাবে।

সত্যের সন্ধানে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ তবে কি?
এটি কেবল একটি লেখার শুরু। আপনার ভেতরের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা মেটাতে এবং সত্যকে খোলা চোখে দেখতে আপনাকে প্রশ্ন করা চালিয়ে যেতে হবে।

আগামীকাল আমরা আমাদের ৬০ দিনের আয়োজনের ২য় দিনে আলোচনা করব: "আদম (আঃ)-এর ভুল এবং এর আত্মিক পরিণতি: পাপ কি কেবল একটি ছোট ভুল?" লেখাটি কোনোভাবেই মিস করবেন না।

এর পাশাপাশি, ঈসা মসীহ এবং আসমানী কিতাবের আরও গভীর রহস্য উন্মোচন করতে আজই আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য প্রবন্ধগুলো পড়ুন। আগের ও পরের লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার অনন্ত জীবনের নাজাতের জন্য রবের আসল পরিকল্পনা কী ছিল।

পবিত্র কিতাবুল মোকাদ্দাস আমাদের এই পতনের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছে:
"কারণ সকলেই গুনাহ করেছে এবং আল্লাহর দেওয়া গৌরব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।" (রোমীয় ৩:২৩)

“আমাদের অন্যান্য ব্লগ পড়ুতে ভিজিট করুন”