চোখের সামনে ঘুরে বেড়ানো অসংখ্য প্রশ্ন ও তাদের যৌক্তিক উত্তর
কোরআনে ঈসা মসীহকে কেন “আল্লাহর কালেমা” বলা হয়েছে?
ঈসা মসীহ কি সত্যিই ক্রুশে মারা গিয়েছিলেন, নাকি এটি মিথ্যাচারের বুলিমাত্র?
কোরআন বলে ঈসাকে ক্রুশে দেওয়া হয়নি, তাহলে কে মারা গেল?
এটি এমন একটি উপাধি যা কোরআনে উল্লেখিত আর কোনো নবীকেই দেওয়া হয়নি।
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, কোরআনে ২৫ জন নবীর নাম এসেছে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে একমাত্র ঈসা ইবনে মরিয়মকেই "কালিমাতুল্লাহ" বা "আল্লাহর কালেমা" বলা হয়েছে?
হযরত আদম (আ.) কে বলা হয়নি।
হযরত নূহ (আ.) কে বলা হয়নি।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) কে বলা হয়নি।
হযরত মূসা (আ.) কে বলা হয়নি।
এমনকি মুহাম্মদ (সা.) কেও এই উপাধি দেওয়া হয়নি।
শুধুমাত্র একজনকে আল্লাহ তায়ালা নিজে এই নাম দিয়েছেন। শুধুমাত্র ঈসা ইবনে মরিয়মকে।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন?
কোরআনে ঈসা মসীহকে কেন “আল্লাহর রূহ” বলা হয়েছে?
সূরা মারিয়ামে ঈসা, কুমারী মরিয়ম (মা) থেকে কিভাবে জন্ম নিয়েছেন?
পুরো কোরআনে ৬৬৬৬টি আয়াত অর্থাৎ ১১৪টি সুরা আছে, কিন্তু কেন একটি সম্পূর্ণ সুরাকেই একজন নারীর (মারইয়াম) নামে দেয়া হয়েছে?
আদম (আ.) এর নাম নেই।
নূহ (আ.) এর নাম নেই।
ইব্রাহিম (আ.) এর নাম নেই।
মূসা (আ.) এর নাম নেই।
এমনকি মুহাম্মদ (সা.) এর নামেও কোনো সূরা নেই।
কিন্তু "সূরা মারিয়াম" একজন নারীর নামে আছে, কি আশ্চর্য বিষয় তাই না? একজন কুমারী নারীর নামে, যিনি কোনো পুরুষ স্পর্শ ছাড়াই গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং এমন এক পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন যাঁকে কোরআন নিজেই বলে "আল্লাহর কালেমা" এবং "আল্লাহর রূহ"।
এই ঘটনাটি এতটাই অলৌকিক, এতটাই চমকপ্রদ, এতটাই হৃদয়স্পর্শী যে, সম্পূর্ণটি পড়লে আপনার চোখে পানি চলে আসবে। আপনার মন বলে উঠবে, "এই ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে আল্লাহর এক মহা পরিকল্পনা লুকিয়ে আছে।"
ঈসা মসীহ কি এখনো জীবিত আছেন?
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে হাজার হাজার সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। ফেরেশতা, জিন, মানুষ, নবী, রাসূল। কিন্তু তাঁদের কাউকেই "আমার রূহ" বা "আমার পক্ষ থেকে রূহ” বলেননি।"
শুধুমাত্র একজনকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র ঈসা ইবনে মরিয়মকে।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন?
কেন আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের রূহ দিয়ে ঈসাকে সৃষ্টি করলেন?
এই "রূহ" কী?
এটি কি একটি ফেরেশতা, নাকি কিছু অন্য?
এবং যদি ঈসার মধ্যে আল্লাহর রূহ থাকে, তাহলে ঈসার আসল পরিচয় কী?
আম্বিয়া কেরামগণের গোপন আমানত: আদম (আ.) থেকে শেষ জামানা পর্যন্ত বিভিন্ন নবীগণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইতিহাস
১. আদম (আ.) ও মা হাওয়া: সৃষ্টির প্রথম ওয়াদা
জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার সময় আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে কেবল সান্ত্বনাই দেননি, বরং একটি মহা-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নারীর গর্ভ থেকে এমন এক সন্তান আসবেন যিনি শয়তানের ক্ষমতাকে চিরতরে চূর্ণ করবেন। আপনি কি জানেন, কেন সেই বিশেষ বংশধরকে "পুরুষের" নয়, বরং "নারীর বংশধর" বলা হয়েছে? এর পেছনে কুমারীর গর্ভের কি কোন রহস্য লুকিয়ে ছিল?
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মহামানব ও নবীগণ এসেছেন যাঁদের আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এই পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন কী ছিল? কেন তাঁদের প্রত্যেকের কিতাবে এবং জীবনে একজন "বিশেষ ব্যক্তিত্বের" আগমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? আজ আমরা উন্মোচন করব সেই ১২টি বিশেষ চরিত্রকে, যাঁদের জীবনের প্রতিটি মোড় আসলে মানবজাতির একমাত্র নাজাতের পথকে নির্দেশ করছে।
২. হাবিল (আ.): রক্তের বিনিময়ে কবুল হওয়া ইবাদত
হাবিল ও কাবিলের লড়াই ছিল ইতিহাসের প্রথম লড়াই। কিন্তু কেন আল্লাহ কেবল হাবিলের কুরবানিই কবুল করলেন? হাবিল যে নিষ্পাপ মেষের রক্ত উৎসর্গ করেছিলেন, তা কি ভবিষ্যতের কোনো এক "পবিত্র রক্তপাতের" দিকে ইশারা করছিল যা সারা বিশ্বের মানুষের গুনাহ ধুয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে?


৩. নূহ (আ.): মহাপ্লাবনের বুক চিরে বাঁচার একমাত্র পথ
নূহের প্লাবন ছিল আল্লাহর গজব। সেই উত্তাল তরঙ্গের মাঝে একটি কাঠের জাহাজ কেন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল? কখনো কি এই প্রশ্নটি করেছেন নিজেকে? আধ্যাত্মিক গবেষকরা মনে করেন, সেই জাহাজটি আসলে একটি ব্যক্তির প্রতীক। যাঁর ভেতরে প্রবেশ করলে মানুষ আজাব থেকে মুক্তি পায়। কে সেই ব্যক্তি, যাঁর আশ্রয় নূহের জাহাজের চেয়েও বড়?
৪. ইব্রাহিম (আ.): জবেহিল আজিম বা মহান কুরবানি
আল্লাহ ইব্রাহিমকে তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার হুকুম দিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আসমান থেকে একটি জান্নাতি পশু পাঠিয়ে সেই পুত্রকে রক্ষা করলেন। কোরআনে একে বলা হয়েছে "জবেহিল আজিম" বা বড় কুরবানি। একটি পশু কি একজন মানুষের চেয়ে বড় হতে পারে? নাকি সেই পশুটি আসলে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এক ত্যাগের আগাম সংকেত ছিল?
৫. ইউসুফ (আ.): বিশ্বাসঘাতকতা থেকে সিংহাসন
নিজের ভাইদের দ্বারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কৃতদাস হিসেবে বিক্রি হওয়া এবং পরে পুরো জাতির রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া, ইউসুফের জীবনের এই চড়াই-উতরাই কি আপনাকে অন্য কারো কথা মনে করিয়ে দেয়? যাকে নিজের মানুষরাই প্রত্যাখ্যান করেছিল কিন্তু তিনি হয়ে উঠেছিলেন দুনিয়ার নাজাতদাতা। কেন ইউসুফের জীবনী আমাদের মহান মসীহের জীবনের একটি ছায়ামাত্র?


৬. মূসা (আ.): নিস্তারপর্ব ও মেষশাবকের রক্ত
মূসা যখন বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করলেন, তখন একটি বিশেষ রাত ছিল যখন দরজার কপাটে রক্ত লাগিয়ে মানুষ আজাব থেকে মুক্তি পেয়েছিল। একে বলা হয় 'পেসাহ' বা নিস্তারপর্ব। আপনি কি জানেন, সেই মেষশাবকের রক্ত আসলে কার পবিত্র রক্তের প্রতীক ছিল, যা মানুষকে শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার শক্তি রাখে?