Dead Sea Scrolls

মৃত সাগরের গুটিপুস্তক
মাটির নিচে লুকানো সত্য যা ইতিহাস বদলে দিয়েছে

একটি হারিয়ে যাওয়া ছাগল যেভাবে ইতিহাস বদলে দিলো

১৯৪৭ সাল। জর্ডানের মরুভূমি। মৃত সাগরের পশ্চিম তীরে কুমরান (Qumran) নামক একটি জনমানবহীন এলাকা। মুহাম্মদ এদ-দিব (Muhammad edh-Dhib) নামের একজন বেদুইন রাখাল কিশোর তার একটি হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজছিলেন। ছাগলটি একটি পাহাড়ি গুহার দিকে চলে গিয়েছিল। ছেলেটি গুহার ভেতরে একটি পাথর ছুড়ে মারলো। কিন্তু পাথরটি কোনো কিছুতে আঘাত লেগে একটি অদ্ভুত "ঠনঠন" শব্দ করলো। কৌতূহলী হয়ে ছেলেটি গুহার ভেতরে ঢুকে দেখলো, সেখানে সারি সারি মাটির পাত্র (জার) রাখা আছে। সেই পাত্রগুলোর ভেতরে ছিল পশুর চামড়া ও প্যাপিরাসে লেখা প্রাচীন গুটিপুস্তক (Scrolls)।

সেই মুহূর্তে না জানতো ছেলেটি, না জানতো পৃথিবী, যে এই আবিষ্কারটি বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার হয়ে উঠবে এবং কিতাবুল মোকাদ্দসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চিরকালের বিতর্কের উত্তর দিয়ে দেবে।

আজকে আমরা এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারের গল্প জানব এবং দেখব এই গুটিপুস্তকগুলো কিতাবুল মোকাদ্দস সম্পর্কে কী কী প্রমাণ দিচ্ছে।

প্রথমত: আবিষ্কারের বিস্তারিত ইতিহাস

প্রথম গুহা (১৯৪৭)

মুহাম্মদ এদ-দিব প্রথমে সেই গুটিপুস্তকগুলোর মূল্য বুঝতে পারেনি। সে এগুলো বেথলেহেমের একজন প্রাচীন জিনিসের ব্যবসায়ী খলিল ইস্কান্দার শাহীনের (Khalil Iskander Shahin, যিনি "কান্দো" নামে পরিচিত ছিলেন) কাছে নিয়ে যায়। কান্দো এগুলোর গুরুত্ব কিছুটা আন্দাজ করে জেরুজালেমের সেইন্ট মার্ক মঠের (St. Mark's Monastery) সিরিয়ান অর্থোডক্স বিশপ আথানাসিউস ইয়েশুয়া সামুয়েলের (Athanasius Yeshue Samuel) কাছে বিক্রি করেন।

বিশপ সামুয়েল বুঝতে পারলেন যে এগুলো অত্যন্ত প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এগুলো আমেরিকান স্কুল অব ওরিয়েন্টাল রিসার্চ (ASOR) এর পরিচালক John C. Trever এর কাছে নিয়ে গেলেন। Trever যখন এগুলো দেখলেন, তিনি প্রায় চমকে উঠলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ বিশ্বখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ William Foxwell Albright কে ছবি পাঠালেন।

Albright ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে উত্তর দিয়ে লিখলেন:

"আমার আন্তরিক অভিনন্দন! এটি সবচেয়ে মহান পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার। এগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ অব্দের কাছাকাছি সময়ের।"
(William F. Albright, চিঠি, মার্চ ১৯৪৮)

পরবর্তী আবিষ্কার (১৯৪৭-১৯৫৬)

প্রথম গুহার আবিষ্কারের পর প্রত্নতত্ত্ববিদরা কুমরান এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে মোট ১১টি গুহায় অনুসন্ধান চালানো হয়। এই গুহাগুলো থেকে পাওয়া গেল:

প্রায় ৯৮১টি পৃথক পাণ্ডুলিপি বা তার অংশবিশেষ। এগুলোর মধ্যে কিতাবুল মোকাদ্দসের পুরাতন নিয়মের (তাওরাত, যাবুর ও নবীদের কিতাব) প্রতিটি কিতাবের অংশ পাওয়া গেছে, শুধুমাত্র ইস্টেরের (Esther) কিতাব ছাড়া।

এই আবিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ Roland de Vaux (École Biblique, Jerusalem) এবং তাঁর আন্তর্জাতিক দল। তাঁরা ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত কুমরান এলাকায় খনন কাজ চালান।

দ্বিতীয়ত: গুটিপুস্তকগুলো কত পুরনো?

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ এগুলো যদি সত্যিই হাজার হাজার বছর পুরনো হয়, তাহলে এগুলোই হলো কিতাবুল মোকাদ্দস-এর অপরিবর্তনীয়তার অকাট্য প্রমাণ।

বিজ্ঞানীরা তিনটি পদ্ধতিতে এগুলোর বয়স নির্ধারণ করেছেন:

কার্বন-১৪ পরীক্ষা (Radiocarbon Dating)

১৯৯১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ETH Zurich) এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Arizona) বিজ্ঞানীরা এই গুটিপুস্তকগুলোর ওপর কার্বন-১৪ পরীক্ষা চালান। ফলাফলে দেখা গেল, এগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে ১ম শতাব্দীর (প্রায় ২৫০ খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ৬৮ খ্রীষ্টাব্দ) মধ্যে লেখা হয়েছিল।

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে:
G. Bonani et al., "Radiocarbon Dating of Fourteen Dead Sea Scrolls," Radiocarbon, Vol. 34, No. 3, 1992, পৃষ্ঠা ৮৪৩-৮৪৯।

লিপিবিদ্যা (Palaeography)

অক্ষরের ধরন, লেখার শৈলী এবং কালির ধরন বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একই সময়কাল নির্ধারণ করেছেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট

কুমরান বসতির খনন থেকে পাওয়া মুদ্রা, মৃৎপাত্র এবং অন্যান্য নিদর্শনও একই সময়কালের দিকে ইঙ্গিত করে।

তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি একই উত্তর দিচ্ছে: এই গুটিপুস্তকগুলো ঈসা মসীহের সময়কালে বা তারও আগে লেখা হয়েছিল।

তৃতীয়ত: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুটিপুস্তক এবং তা কী প্রমাণ করে

ইশাইয়ার মহা-গুটিপুস্তক (The Great Isaiah Scroll, 1QIsaᵃ)

এটি মৃত সাগরের গুটিপুস্তকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রথম গুহা থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। এতে নবীদের কিতাবের অন্তর্গত ইশাইয়া নবীর সম্পূর্ণ কিতাবটি (৬৬টি অধ্যায়) সংরক্ষিত আছে।

কার্বন-১৪ পরীক্ষায় এটিকে খ্রীষ্টপূর্ব ১৫০ থেকে ১২৫ অব্দের বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ বছর আগে এটি লেখা হয়েছিল। বর্তমানে এটি জেরুজালেমের ইসরাইল মিউজিয়ামের (Israel Museum) "শ্রাইন অব দ্য বুক" (Shrine of the Book) প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত আছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই ২,১০০ বছরের পুরনো ইশাইয়ার গুটিপুস্তকটি কি আজকের কিতাবুল মোকাদ্দস এর ইশাইয়া কিতাবের সাথে মেলে?

উত্তরটি বিস্ময়কর!

প্রখ্যাত মৃত সাগর পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ Millar Burrows (Yale University) তাঁর গ্রন্থ "The Dead Sea Scrolls" (1955, পৃষ্ঠা ৩০৪) এ লিখেছেন:

"এটি বিস্ময়কর যে এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ে কিতাবের পাঠ্যে কত সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। পার্থক্যগুলো মূলত বানান ও ব্যাকরণগত ছোটখাটো বিষয়।"

আরেকজন বিখ্যাত পণ্ডিত Gleason Archer (Trinity Evangelical Divinity School) তাঁর গ্রন্থ "A Survey of Old Testament Introduction" (Moody Press, 1994, পৃষ্ঠা ২৫) এ লিখেছেন:

"ইশাইয়ার মৃত সাগরের গুটিপুস্তক প্রমাণ করে যে বিশ্বস্ত ইহুদি লেখকরা এক হাজার বছর ধরে কিতাবের পাঠ্য অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করেছিলেন।"

ভাবুন, ২,১০০ বছর পুরনো একটি পাণ্ডুলিপি এবং আজকের কিতাবুল মোকাদ্দসের মধ্যে মূল বিষয়বস্তুতে কোনো পার্থক্য নেই! এক হাজার বছরের ব্যবধানেও কিতাব অবিকৃত রয়ে গেছে। এরপরও কি বলা যায় যে এই কিতাব বদলে গেছে?

একটি চমকপ্রদ উদাহরণ: ইশাইয়া ৫৩ অধ্যায়

ইশাইয়া নবীর কিতাবের ৫৩ নম্বর অধ্যায়টি ঈসা মসীহর দুঃখভোগ ও মৃত্যুর সবচেয়ে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে পরিচিত। এই অধ্যায়ে বলা হয়েছে:

"তিনি আমাদের রোগ বহন করেছেন এবং আমাদের দুঃখকষ্ট তুলে নিয়েছেন... আমাদের অপরাধের জন্য তাঁকে বিদ্ধ করা হয়েছে, আমাদের গুনাহের জন্য তাঁকে চূর্ণ করা হয়েছে। আমাদের শান্তির জন্য তাঁর ওপর শাস্তি এসেছে এবং তাঁর ক্ষতচিহ্নের দ্বারা আমরা সুস্থ হয়েছি।"
(নবীদের কিতাব, ইশাইয়া ৫৩:৪-৫)

মৃত সাগরের গুটিপুস্তকে এই একই অধ্যায় হুবহু সংরক্ষিত আছে। এর মানে হলো, ঈসা মসীহের জন্মের ১৫০ বছর আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী লেখা ছিল। কেউ পরবর্তীতে "বানিয়ে" ঢোকায়নি। এটি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ।

চতুর্থত: কারা এই গুটিপুস্তক লিখেছিলেন?

বেশিরভাগ পণ্ডিতের মতে, এই গুটিপুস্তকগুলো "ইসিনি" (Essenes) নামে পরিচিত একটি ইহুদি সম্প্রদায় লিখে রেখেছিল এবং সংরক্ষণ করেছিল। ইসিনিরা ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ ইহুদি গোষ্ঠী। তাঁরা জেরুজালেমের মন্দিরের ধর্মীয় নেতাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে কুমরানের মরুভূমিতে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন।

ইহুদি ঐতিহাসিক ফ্লেভিয়াস জোসেফাস (Flavius Josephus) তাঁর গ্রন্থ "The Jewish War" (Book II, Chapter 8) এবং রোমান লেখক প্লিনি দ্য এল্ডার (Pliny the Elder) তাঁর "Natural History" (Book V, Chapter 15) তে ইসিনি সম্প্রদায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ইসিনিরা কিতাবুল মোকাদ্দসের পাঠ্য সংরক্ষণে এতটাই যত্নশীল ছিলেন যে, তাঁরা প্রতিটি অক্ষর গুনে লিখতেন। কোনো ভুল হলে পুরো পাতা বাতিল করে নতুন করে লিখতেন। এই কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলাই কিতাবের পাঠ্যকে হাজার বছর ধরে অবিকৃত রেখেছে।

পঞ্চমত: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গুটিপুস্তক

মৃত সাগরের গুহাগুলো থেকে শুধু কিতাবুল মোকাদ্দস এর পাণ্ডুলিপিই পাওয়া যায়নি। আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল পাওয়া গেছে:

যাবুর শরীফের গুটিপুস্তক (Psalms Scroll, 11QPsᵃ)

গুহা ১১ থেকে পাওয়া এই গুটিপুস্তকে যাবুর শরীফ এর ৪১টি যাবুর (Psalm) সংরক্ষিত আছে। এটি খ্রীষ্টপূর্ব ১ম শতাব্দীর। আজকের যাবুর শরীফ এর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, মূল বিষয়বস্তু হুবহু একই।

তাওরাত শরীফের অংশসমূহ

তাওরাত শরীফ এর পাঁচটি কিতাবের (পয়দায়েশ, হিজরত, লেবীয়, গণনাপুস্তক, দ্বিতীয় বিবরণ) অসংখ্য খণ্ড পাওয়া গেছে। এগুলোও আজকের পাঠ্যের সাথে মূল বিষয়বস্তুতে মিলে যায়।

দানিয়েল নবীর কিতাবের গুটিপুস্তক

গুহা ১ ও গুহা ৪ থেকে দানিয়েল নবীর কিতাবের ৮ টি পাণ্ডুলিপি খণ্ড পাওয়া গেছে। এগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দীর। দানিয়েল নবীর কিতাবে ঈসা মসীহর আগমনের সময়কাল সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী আছে (দানিয়েল ৯:২৪-২৭), সেটিও এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে হুবহু সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ কেউ পরে এটি "বানিয়ে" লিখে নাই।

ষষ্ঠত: সন্দেহবাদীরা কী বলেন এবং তার উত্তর কী?

কিছু মানুষ প্রশ্ন তোলেন, "হয়তো গুটিপুস্তকগুলো আসল নয়, জাল করা হয়েছে।"

এই সন্দেহের উত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট:

প্রথমত, কার্বন-১৪ পরীক্ষা মিথ্যা বলে না। এটি একটি পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষা যা পৃথিবীর যেকোনো প্রাচীন বস্তুর বয়স নির্ধারণ করতে পারে। একাধিক স্বাধীন গবেষণাগার একই ফলাফল দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, লিপিবিদ্যা (Palaeography) দ্বারা অক্ষরের ধরন বিশ্লেষণ করে একই সময়কাল নিশ্চিত করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, কুমরানের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে পাওয়া মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও অন্যান্য নিদর্শন একই যুগের দিকে ইঙ্গিত করে।

তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, তিনটি ভিন্ন দেশের গবেষণাগার, সবাই একই উত্তর দিচ্ছে। এগুলো জাল করা সম্ভব নয়।

সপ্তমত: এই আবিষ্কারের চূড়ান্ত গুরুত্ব

আসুন সংক্ষেপে বুঝি মৃত সাগরের গুটিপুস্তক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ:

১৯৪৭ সালের আগে কিতাবুল মোকাদ্দস এর পুরাতন নিয়মের ( তাওরাত, যাবুর ও নবীদের কিতাব) সবচেয়ে পুরনো হিব্রু পাণ্ডুলিপি ছিল প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো (আলেপ্পো কোডেক্স, ৯৩০ খ্রীষ্টাব্দ)। তাই সমালোচকরা বলতেন, "এত লম্বা সময়ে কিতাব নিশ্চয়ই বদলে গেছে।"

কিন্তু মৃত সাগরের গুটিপুস্তক আবিষ্কারের পর সেই যুক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লো। কারণ:

এখন আমাদের কাছে ২,০০০ থেকে ২,৩০০ বছর পুরনো পাণ্ডুলিপি আছে। আর এগুলো ১,০০০ বছর পরের পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মূল বিষয়বস্তুতে হুবহু মিলে যায়। এক হাজার বছরের ব্যবধানেও কিতাব অপরিবর্তিত। এটি কি মানুষের চেষ্টার ফল, নাকি আল্লাহর সংরক্ষণের প্রমাণ?

প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ও Dead Sea Scrolls বিশেষজ্ঞ James VanderKam (University of Notre Dame) তাঁর গ্রন্থ "The Dead Sea Scrolls Today" (2nd Edition, Eerdmans, 2010, সংস্করণ) এ লিখেছেন:

"মৃত সাগরের গুটিপুস্তক নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে হিব্রু কিতাবের পাঠ্য অত্যন্ত বিশ্বস্তভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষিত হয়েছে।"

সুতরাং, মাটি কথা বলে, আর মাটি মিথ্যা বলে না

সেইটি, আমরা আজকে জানলাম:

প্রথমত, ১৯৪৭ সালে মৃত সাগরের তীরে ১১টি গুহা থেকে প্রায় ৯৮১টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, কার্বন-১৪ পরীক্ষা, লিপিবিদ্যা ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী এগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ২৫০ থেকে ৬৮ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে লেখা।

তৃতীয়ত, ইশাইয়ার মহা-গুটিপুস্তক সহ অন্যান্য পাণ্ডুলিপি আজকের কিতাবুল মোকাদ্দস এর সাথে মূল বিষয়বস্তুতে হুবহু মিলে যায়।

চতুর্থত, ঈসা মসীহ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো (যেমন ইশাইয়া ৫৩ ও দানিয়েল ৯) এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে হুবহু সংরক্ষিত আছে, অর্থাৎ কেউ পরে "বানিয়ে" নতুন করে লিখে নাই।

মাটির নিচে ২,০০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এই গুটিপুস্তকগুলো আজ চিৎকার করে বলছে: কিতাবুল মোকাদ্দস বদলায়নি! আল্লাহর কালাম আজও সেই একই আছে যা হাজার বছর আগে ছিল।

কিতাবুল মোকাদ্দস নিজেই এই সত্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে:

"আসমান ও জমিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আমার কালাম কখনো শেষ হবে না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৪:৩৫)

প্রিয় পাঠক, আপনাকে একটি প্রশ্ন করি,

আপনি সারাজীবন শুনে এসেছেন যে কিতাবুল মোকাদ্দস বদলে গেছে। কিন্তু আপনি কি জানতেন যে ২,০০০ বছরের পুরনো পাণ্ডুলিপি মাটির নিচে সংরক্ষিত আছে এবং সেগুলো আজকের কিতাবের সাথে মিলে যায়?

এই তথ্যটি জানার পর, আপনি কি এখনো মনে করেন যে কিতাব বদলে গেছে? নাকি আপনি মনে করেন এই দাবিটি আরেকবার নিজে যাচাই করে দেখা দরকার?

পরবর্তী অংশে আমরা দেখব মাটির নিচে চাপা পড়া প্রাচীন শহর, শিলালিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলো কীভাবে কিতাবুল মোকাদ্দস এর ঘটনা ও ব্যক্তিদের সত্যতা প্রমাণ করছে। পড়ুন: "প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ ও ঐতিহাসিক সত্যতা"।