ঈসা মসীহ কি শুধুই একজন নবী ছিলেন, নাকি তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু?
ঈসা মসীহ কি শুধুই একজন নবী ছিলেন, নাকি তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু?
আমাদের কাউকেই এই একটি প্রশ্ন যা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়
ঈসা মসীহকে আমরা সবাই সম্মান করি। মুসলিম হিসেবে আমরা তাঁকে একজন মহান নবী ও রাসূল বলে বিশ্বাস করি। কিন্তু আপনি কি কখনো এই প্রশ্নটির উত্তর ঠিকঠাকভাবে খুঁজেছেন ও গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন যে, কিতাবুল মোকাদ্দস এবং এমনকি কুরআন শরীফও তাঁর সম্পর্কে যা বলে, তা কি শুধুমাত্র একজন "নবী" হওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
একজন নবী আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু ঈসা মসীহ এমন কিছু কথা বলেছেন, এমন কিছু করেছেন এবং এমন কিছু দাবি করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো নবী কখনো বলেননি, করেননি বা দাবিও করেননি।
আজকে আমরা শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বরং কিতাবুল মোকাদ্দস, কুরআন শরীফ, ইতিহাস এবং যুক্তির আলোকে এই প্রশ্নটি পরীক্ষা করব। আমরা আপনাকে কোনো উত্তর জোর করে দেব না। আমরা শুধু প্রমাণগুলো আপনার সামনে রাখব। তারপর বিচার করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার।
প্রথমত: ঈসা মসীহ নিজের সম্পর্কে কী বলেছেন?
একজন নবী সাধারণত বলেন, "আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাদের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছে দিতে।" কিন্তু ঈসা মসীহ নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তা শুনলে আপনি থমকে যাবেন।
তিনি বলেছেন তিনিই জীবন
"আমিই পথ, সত্য ও জীবন। আমার মধ্য দিয়ে না গেলে কেউ পিতার (আল্লাহর) কাছে যেতে পারে না।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন) ইউহোন্না ১৪:৬ আয়াত)
কোনো নবী কখনো বলেননি "আমিই পথ"। মূসা নবী বলেছিলেন "তাওরাত অনুসরণ করো"। দাউদ নবী বলেছিলেন "আল্লাহর প্রশংসা করো"। কিন্তু ঈসা মসীহ বললেন "আমিই পথ, আমিই সত্য, আমিই জীবন"। তিনি আল্লাহর দিকে পথ দেখাননি, তিনি বললেন তিনি নিজেই সেই পথ।
তিনি বলেছেন তিনিই পুনরুত্থান
"আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমার ওপর ঈমান আনে সে মরে গেলেও জীবিত হবে। আর যে জীবিত আছে ও আমার ওপর ঈমান আনে সে কখনো মরবে না।"
(ইঞ্জিল শরীফ ইউহোন্না ১১:২৫-২৬ আয়াত)
মৃত্যুর পর জীবিত করা এবং চিরজীবন দান করা কার কাজ? এটি একমাত্র আল্লাহর কাজ। কিন্তু ঈসা মসীহ বলছেন তিনি নিজেই পুনরুত্থান ও জীবন।
তিনি বলেছেন তিনি আসমান থেকে নেমে এসেছেন
"কেউ আসমানে ওঠেনি, কেবল তিনি ছাড়া যিনি আসমান থেকে নেমে এসেছেন, অর্থাৎ ইবনুল আদম (মানবপুত্র)।"
(ইঞ্জিল শরীফ ইউহোন্না ৩:১৩ আয়াত)
"আমি জীবন্ত রুটি যা আসমান থেকে নেমে এসেছে। কেউ যদি এই রুটি খায়, সে চিরকাল বেঁচে থাকবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ ইউহোন্না ৬:৫১ আয়াত)
কোনো নবী কখনো দাবি করেননি যে তিনি আসমান থেকে নেমে এসেছেন। প্রতিটি নবী পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং পৃথিবীতেই তাঁদের মিশন পালন করে শেষ করেছেন। কিন্তু ঈসা মসীহ বলছেন তিনি আসমান থেকে নেমে এসেছেন। তিনি পৃথিবীর নন, তিনি আসমানের।
তিনি বলেছেন তিনি ইব্রাহিমের আগে থেকে বিদ্যমান
"আমি তোমাদের সত্যি বলছি, ইব্রাহিমের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি (I AM)।"
(ইঞ্জিল শরীফ ইউহোন্না ৮:৫৮ আয়াত)
এখানে গ্রিক ভাষায় ঈসা মসীহ "এগো ইমি" (ἐγώ εἰμι / Ego Eimi) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ "আমিই আছি" বা "I AM"। এটি সেই একই নাম যা আল্লাহ তায়ালা তাওরাত শরীফ-এ মূসা নবীকে বলেছিলেন:
"আল্লাহ মূসাকে বললেন, 'আমিই যিনি আছি (I AM WHO I AM)।' তিনি আরও বললেন, 'বনি-ইসরাইলকে বলো, আমিই আছি (I AM) আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।'"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ৩:১৪ আয়াত)
ঈসা মসীহ যখন বললেন "ইব্রাহিমের আগে থেকেই আমি আছি (I AM)", তখন সেখানে উপস্থিত ইহুদিরা সাথে সাথে তাঁকে পাথর মারতে উদ্যত হলো (ইউহোন্না ৮:৫৯)। কেন? কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল ঈসা মসীহ আল্লাহর সেই পবিত্র নাম নিজের জন্য ব্যবহার করছেন। তারা এটিকে "কুফরি" মনে করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঈসা মসীহ যদি সত্যিই সেই কালিমাতুল্লাহ হন যিনি শুরু থেকেই আল্লাহর সাথে ছিলেন, তাহলে তাঁর এই দাবি কি মিথ্যা ছিল?
দ্বিতীয়ত: ঈসা মসীহ যা করেছেন তা কি একজন নবীর পক্ষে করা সম্ভব?
শুধু কথায় নয়, ঈসা মসীহর কাজগুলোও তাঁর অনন্য পরিচয়ের সাক্ষ্য দেয়।
তিনি নিজের কর্তৃত্বে গুনাহ মাফ করেছেন
একদিন কিছু লোক একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) মানুষকে ঈসা মসীহর কাছে নিয়ে এলো। তিনি রোগীকে বললেন:
"হে বৎস, তোমার গুনাহ মাফ করা হলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:৫ আয়াত)
সেখানে বসে থাকা ধর্মীয় নেতারা মনে মনে বললেন:
"এই লোক এমন কথা বলছে কেন? এ তো আল্লাহর বিরুদ্ধে কুফরি করছে! আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ মাফ করতে পারে?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:৭ আয়াত)
লক্ষ্য করুন, ধর্মীয় নেতারা নিজেরাই স্বীকার করলেন যে গুনাহ মাফ করা শুধুমাত্র আল্লাহর কাজ। আর ঈসা মসীহ ঠিক সেই কাজটিই করলেন। এটি কি কোন একজন সাধারণ নবীর পক্ষে সম্ভব?
তিনি নিজের কর্তৃত্বে মৃতকে জীবিত করেছেন
"লাসার, বেরিয়ে এসো!"
(ইঞ্জিল শরীফ ইউহোন্না ১১:৪৩ আয়াত)
আর চার দিন আগে মারা যাওয়া লাসার কবর থেকে জীবিত হয়ে বেরিয়ে এলেন। তিনি দোয়া করেননি, "হে আল্লাহ, একে জীবিত করুন।" তিনি নিজের কর্তৃত্বে সরাসরি আদেশ দিলেন এবং মৃত্যুও তাঁর কথা মানলো।
তিনি প্রকৃতিকে আদেশ দিয়েছেন এবং প্রকৃতি তা মেনেছে
"ঈসা উঠে বাতাসকে ধমক দিলেন এবং সাগরকে বললেন, “থাম, শান্ত হও।” তাতে বাতাস থেমে গেল ও সব কিছু খুব শান্ত হয়ে গেল।"
(ইঞ্জিল শরীফ মার্ক ৪:৩৯ আয়াত)
সাগরের ভয়ংকর ঝড় সাথে সাথে থেমে গেল। তাঁর সাহাবীরা ভয়ে বিস্মিত হয়ে বললেন:
"ইনি আসলে কে যে ঝড় ও সাগরও তাঁর কথা মানে?"
(ইঞ্জিল শরীফ মার্ক ৪:৪১ আয়াত)
জবুর শরীফ (গীতসংহিতা) বলছে ঝড় ও সাগর শান্ত করা আল্লাহর কাজ:
"হে মাবুদ, তুমিই উত্তাল সাগরের ওপর রাজত্ব করো। যখন তার ঢেউ ওঠে, তুমিই তা শান্ত করো।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ৮৯:৯ আয়াত)
যদি ঝড় থামানো আল্লাহর কাজ হয় এবং ঈসা মসীহ ঠিক সেই কাজটিই করেছেন, তাহলে তিনি কে?
তৃতীয়ত: কুরআন শরীফ ঈসা মসীহকে কীভাবে উপস্থাপন করে?
কুরআন শরীফ ঈসা মসীহ সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলে যা আর কোনো নবী সম্পর্কে বলা হয়নি। আসুন কুরআনের নিজের ভাষায় দেখি:
১. তাঁকে আল্লাহর কালেমা ও রূহ বলা হয়েছে
"মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল, তাঁর কালেমা যা তিনি মরিয়মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ।"
(সূরা আন-নিসা, ৪:১৭১ আয়াত)
আর কোনো নবীকে একই আয়াতে "আল্লাহর কালেমা" এবং "আল্লাহর রূহ" বলা হয়নি।
২. তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে উভয়েই সম্মানিত
"তাঁর নাম মসীহ, ঈসা ইবনে মরিয়ম; দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি সম্মানিত এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত।"
(সূরা আলে ইমরান, ৩:৪৫ আয়াত)
"দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত"—এই কথাটি কুরআনে আর কোনো নবী সম্পর্কে বলা হয়নি। অন্যান্য নবীরা দুনিয়ায় সম্মানিত ছিলেন, কিন্তু ঈসা মসীহকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়েই সম্মানিত বলা হয়েছে। কিন্তু কেন?
৩. তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন
"আমার ওপর শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।"
(সূরা মরিয়ম, ১৯:৩৩ আয়াত)
৪. তিনি মাটি থেকে প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন
"আমি তোমাদের জন্য মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁক দেব, আল্লাহর হুকুমে তা পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করব এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করব।"
(সূরা আলে ইমরান, ৩:৪৯ আয়াত)
মাটি থেকে প্রাণ সৃষ্টি করা, মৃতকে জীবিত করা, এগুলো কার কাজ? তাওরাত শরীফে বলছে আল্লাহই মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করে তাতে প্রাণ দিয়েছিলেন (পয়দায়েশ ২:৭)। কুরআন বলছে ঈসা মসীহ ঠিক একই কাজ করেছেন। কুরআন "আল্লাহর হুকুমে" কথাটি যোগ করেছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: আল্লাহ কেন অন্য কোনো নবীকে এই ক্ষমতা দেননি?
চতুর্থত: ঐতিহাসিক প্রমাণ, প্রথম শতাব্দীর মানুষ ঈসা মসীহকে কীভাবে দেখত?
শুধু কিতাবের ভিত্তিতে নয়, ইতিহাসের পাতায়ও দেখা যায় যে ঈসা মসীহর প্রথম অনুসারীরা তাঁকে কখনো শুধু একজন নবী মনে করেননি।
রোমান গভর্নর প্লিনি দ্য ইয়ংগার (Pliny the Younger) ১১২ খ্রীষ্টাব্দে সম্রাট ট্রাজানকে লেখা তাঁর চিঠিতে (Letters, Book X, Letter 96) জানিয়েছেন:
"তারা (খ্রীষ্টানরা) একটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যোদয়ের আগে একত্রিত হয় এবং খ্রীষ্টোসের (Christus) উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের প্রতি গান গায়।"
ঈসা মসীহর মৃত্যুর মাত্র ৮০ বছরের মধ্যেই তাঁর অনুসারীরা তাঁকে ঈশ্বরের মর্যাদায় উপাসনা করতেন। এটি কি একজন সাধারণ নবীর অনুসারীদের আচরণ?
ইহুদি ঐতিহাসিক ফ্লেভিয়াস জোসেফাস (Flavius Josephus) তাঁর গ্রন্থ "Antiquities of the Jews" (Book XVIII, Chapter 3.3, ৯৩-৯৪ খ্রীষ্টাব্দ) এ লিখেছেন:
"এই সময়ে ঈসা নামে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন, যদি তাঁকে মানুষ বলা সঙ্গত হয়, কারণ তিনি অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন।"
জোসেফাস একজন অবিশ্বাসী ইহুদি ঐতিহাসিক ছিলেন। তিনিও ঈসা মসীহকে সাধারণ "মানুষ" বলতে দ্বিধাবোধ করেছেন। তিনি লিখেছেন "যদি তাঁকে মানুষ বলা সঙ্গত হয়"। এর মানে হলো ঈসা মসীহর কাজকর্ম এতটাই অসাধারণ ছিল যে একজন বিরোধীও তাঁকে সাধারণ মানুষ বলে মেনে নিতে পারেননি।
পঞ্চমত: একটি যৌক্তিক ত্রিমুখী পরীক্ষা (Trilemma)
বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক C.S. Lewis তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ "Mere Christianity" (1952, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬) তে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন:
ঈসা মসীহ যে দাবিগুলো করেছেন (যেমন: "আমিই পথ, সত্য ও জীবন", "আমিই পুনরুত্থান", "ইব্রাহিমের আগে থেকে আমি আছি") সেগুলোর ভিত্তিতে তিনি কেবল তিনটি জিনিসের একটি হতে পারেন:
১. মিথ্যাবাদী (Liar): তিনি জানতেন তাঁর দাবি মিথ্যা, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছেন। কিন্তু একজন মিথ্যাবাদী কি এমন নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন যা ২,০০০ বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে? একজন মিথ্যাবাদী কি নিজের দাবির জন্য মৃত্যু বরণ করেন?
২. পাগল (Lunatic): তিনি আসলে পাগল ছিলেন এবং নিজেকে ভুলবশত আল্লাহর কালাম মনে করতেন। কিন্তু একজন পাগল কি এমন গভীর ও সুসংহত শিক্ষা দিতে পারেন? একজন পাগল কি মৃতকে জীবিত করতে পারেন? একজন পাগল কি ঝড়কে থামাতে পারেন?
৩. প্রভু (Lord): তিনি সত্যিই তা-ই ছিলেন যা তিনি দাবি করেছেন, অর্থাৎ তিনি সত্যিই কালিমাতুল্লাহ, আল্লাহর কালাম যিনি মানুষের রূপ ধারণ করেছিলেন।
C.S. Lewis বলেছেন: "আমি যে কাউকে সেই পৃষ্ঠাসুলভ বাজে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে চাই যে, 'আমি ঈসাকে একজন মহান নৈতিক শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি, কিন্তু তাঁর ঈশ্বর হওয়ার দাবি গ্রহণ করি না।' এটি এমন কথা যা আমাদের বলা উচিত নয়। যে ব্যক্তি শুধুমাত্র একজন মানুষ হয়ে ঈসার মতো কথা বলেন, তিনি কোনো মহান নৈতিক শিক্ষক হতে পারেন না। তিনি হয় একজন পাগল, নয়তো শয়তানের সমকক্ষ। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
ষষ্ঠত: তাঁর সাহাবীরা তাঁকে কী বলে স্বীকার করেছেন?
ঈসা মসীহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবী থোমা (Thomas) প্রথমে ঈসা মসীহর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করতে চাননি। কিন্তু যখন পুনরুত্থিত ঈসা মসীহ তাঁর সামনে দাঁড়ালেন, তখন থোমা বলে উঠলেন:
"“প্রভু আমার, আল্লাহ্ আমার।”!"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ২০:২৮ আয়াত)
থোমা ঈসা মসীহকে সরাসরি "আমার আল্লাহ" বলে সম্বোধন করলেন। আর ঈসা মসীহ তাঁকে সংশোধন করলেন না। তিনি বললেন না, "আমাকে আল্লাহ বলো না, আমি শুধু একজন নবী।" বরং তিনি থোমার এই স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেন। যদি ঈসা মসীহ শুধুই একজন নবী হতেন, তবে তিনি কি এই শিরকের কথা মেনে নিতেন?
পিতর (সাহাবী) বলেছিলেন:
"আপনি সেই মসীহ, জীবন্ত আল্লাহর পুত্র।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১৬:১৬ আয়াত)
ঈসা মসীহ উত্তরে বললেন:
"শিমোন ইবনে ইউনুস, তুমি ধন্য! কারণ কোনো মানুষ তোমার কাছে এটা প্রকাশ করেনি, বরং আমার বেহেশতী পিতা (আল্লাহ) নিজেই তোমার কাছে এটা প্রকাশ করেছেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১৬:১৭ আয়াত)
ঈসা মসীহ পিতরের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করলেন না, বরং বললেন এই সত্য স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই প্রকাশ করেছেন।
সুতরাং, সিদ্ধান্ত আপনার
প্রিয় পাঠক, আমরা আজকে দেখেছি:
প্রথমত, ঈসা মসীহ নিজের সম্পর্কে এমন দাবি করেছেন যা পৃথিবীর আর কোনো নবী কখনো করেননি: "আমিই পথ, সত্য ও জীবন", "আমিই পুনরুত্থান", "ইব্রাহিমের আগে থেকে আমি আছি"।
দ্বিতীয়ত, তিনি এমন কাজ করেছেন যা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষে সম্ভব: গুনাহ মাফ করা, মৃতকে জীবিত করা, ঝড় থামানো, মাটি থেকে প্রাণ সৃষ্টি করা।
তৃতীয়ত, কুরআন শরীফ নিজেই তাঁকে এমন উপাধি দিয়েছে যা আর কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি: কালিমাতুল্লাহ, রুহুল্লাহ, দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত।
চতুর্থত, ইতিহাসের প্রাচীনতম সূত্রগুলোও সাক্ষ্য দেয় যে তাঁর অনুসারীরা শুরু থেকেই তাঁকে সাধারণ নবীর চেয়ে অনেক বেশি কিছু মনে করতেন।
পঞ্চমত, যুক্তিবিদ্যা বলে, তাঁর দাবিগুলো বিচার করলে তিনি শুধু একজন নবী হতে পারেন না, তিনি হয় মিথ্যাবাদী, নয় পাগল, নয়তো তিনি সত্যিই তা-ই যা তিনি দাবি করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কী মনে করেন? যদি ঈসা মসীহ সত্যিই আল্লাহর কালাম হন যিনি মানব রূপ ধারণ করেছিলেন, তবে তাঁর বার্তা, তাঁর কুরবানি এবং তাঁর দেখানো পথকে কি একজন সাধারণ নবীর মতো এড়িয়ে যাওয়া উচিত?
তিনি কেন পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তাঁর কুরবানি কেন আপনার নাজাতের জন্য অপরিহার্য, তা জানতে পড়ুন: "নাজাত কি আমলের মাধ্যমে সম্ভব? আল্লাহর ইনসাফ কি তা অনুমতি দেয়?"
আপনার জন্য একটি প্রশ্ন
ঈসা মসীহ নিজেই এই প্রশ্ন করেছিলেন:
"তখন তিনি (ঈসা) তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা আমাকে কী মনে করো?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১৬:১৫ আয়াত)
আপনি কি মনে করে তিনি কে?
এই প্রশ্নটি ২,০০০ বছর আগে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল, আজও তেমনই প্রাসঙ্গিক। আপনি ঈসা মসীহকে কী মনে করেন? শুধুই একজন নবী? নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু? আপনি যদি সত্য হৃদয়ে এর উত্তর খুঁজেন, তবে অবশ্যই উত্তরটি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
সম্পর্কিত বিষয়
কিতাবুল মোকাদ্দস কি সত্যিই পরিবর্তন হয়েছে? প্রমাণ কী বলে?
আগের কিতাবগুলো যে পরিবর্তীত হয়ে গেছে, এই প্রচলিত ধারনা ও বিশ্বাস কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? এখানে তার প্রতিটি ক্ষুদ্রক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে খন্ডন করা হয়েছে।
বিস্তারিত
পড়ুন
আমাদের আরো অন্যান্য বিষয়গুলো পড়ুন, যেগুলো নিশ্চয়ই আপনার প্রচলিত ধারনাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং সত্য সন্ধানে উৎসাহিত করবে।
ঈসা মসীহ কি শুধুই একজন নবী ছিলেন, নাকি তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু?
ঈসা মসীহ কি সত্যিই অন্য যে কোন নবী থেকে আলাদা? এর প্রতিটি বিষয়কে খন্ডন করা হয়েছে।
মৃত্যুর পর কী হবে? আপনি কি নিশ্চিত যে আপনার গন্তব্য জান্নাত?
আমাদের প্রতিদিনের নামাজ, কালাম, হজ্জ্ব, যাকাত ইত্যাদি কি আমাদেরকে বেহেশতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট, নাকি এগুলো না করেও বেহেশতে যাওয়ার সুযোগ আছে? চমৎকার এই বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি আপনার চিন্তার জগৎকে উন্মোচিত করবে।
কেন শুধুমাত্র ঈসা মসীহকেই কালিমাতুল্লাহ ও রুহুল্লাহ বলা হলো, আর কোনো নবীকে নয়?
ঈসা মসীহকে যে উপাধিগুলো দেয়া হয়েছে, তা প্রকৃত অর্থে কি অর্থ বহন করে, তার বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
কুরবানির রক্ত কেন দরকার? ইব্রাহিম থেকে ঈসা মসীহ পর্যন্ত এই ধারা কী বলছে?
আমরা প্রতি বছর যে কুরবানি দিয়ে আসছি, সেটির সূচনা সম্পর্কে আমরা যা জানি তা কতটুকু সঠিক এবং এর আসল উদ্দেশ্য কি অন্য কোন দিকে আলোকপাত করায়?
ঈসা মসীহের আসল প্রামাণিক পরিচয় কি তা জানতে পারি?
আমাদের বিভিন্ন সূত্রে ঈসা মসীহের যে পরিচয় আমরা পাই, তা কি যথেষ্ট? কেন আমাদের ঈসা মসীহকে না জানলে বিপদ আছে? বিস্তারিতটি এখনই পড়ুন।
বিস্তারিত
পড়ুন
বিস্তারিত
পড়ুন
প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।
আপনার মনের অনুভুতি পাঠান
আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।
হোম-ব্লগ ও প্রবন্ধ-প্রশ্নোত্তর-সম্পদ-যোগাযোগ
যোগাযোগ
salam@alkalimatullah.org
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত
© 2026 কালিমাতুল্লাহ-ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সত্য অনুসন্ধান কেন্দ্র।
সত্য অনুসন্ধান করুন, কারণ সত্য আপনাকে মুক্ত করবে।
