ঈসা মসীহের অনন্য পরিচয়

সমস্ত নবীদের মধ্যে কেবলমাত্র একজনকে কালিমাতুল্লাহ (আল্লাহর কালাম), রুহুল্লাহ (আল্লাহর রূহ) এবং আল-মসীহ বলা হয়েছে। কেন? কী এমন বিশেষত্ব আছে তাঁর মধ্যে যা আর কারো মধ্যে নেই? ইতিহাস, কিতাব ও প্রমাণের আলোকে জানুন তাঁর অনন্য পরিচয়ের গভীরতা।

কেন ঈসা মসীহ সকল নবীদের মধ্যে অনন্য?

আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অনেক নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, দাউদ, সকলেই ছিলেন আল্লাহর মনোনীত। তাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ্য করুন, এঁদের কাউকেই আল্লাহ তায়ালা "কালিমাতুল্লাহ" বলেননি। কাউকে "রুহুল্লাহ" বলেননি। কাউকে "আল-মসীহ" উপাধি দেননি। এই তিনটি অনন্য উপাধি কেবলমাত্র একজনের জন্য সংরক্ষিত, তিনি ঈসা ইবনে মরিয়ম।

প্রশ্ন হলো, কেন? এটি কি শুধুই একটি সম্মানসূচক নাম? নাকি এই উপাধিগুলোর পেছনে এমন কোনো গভীর সত্য লুকিয়ে আছে যা আমাদের জানা দরকার?

আজকে আমরা চারটি দিক থেকে ঈসা মসীহের অনন্য পরিচয় অনুসন্ধান করব। প্রথমত, তাঁর ঐশ্বরিক উপাধিগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক ও ধর্মতাত্ত্বিক গভীরতা। দ্বিতীয়ত, ইতিহাসের আলোকে তাঁর বাস্তব অস্তিত্বের প্রমাণ। তৃতীয়ত, তাঁর অলৌকিক কার্যাবলী যা অন্য কোনো নবী করেননি। চতুর্থত, তাঁর অলৌকিক জন্মের তাৎপর্য।

আমরা আপনাকে বিশ্বাস করতে বলছি না। আমরা আপনাকে শুধু পড়তে এবং নিজে বিচার করতে বলছি। কিতাবুল মোকাদ্দস, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের প্রমাণ আপনার সামনে রাখা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত আপনার।

an open book with a picture of a group of people
an open book with a picture of a group of people

আরো বিস্তারিত জানুন

কিতাবুল মোকাদ্দসের বাইরে ঈসা মসীহের অস্তিত্বের প্রমাণ কী? রোমান ঐতিহাসিক টেসিতাস, ইহুদি ঐতিহাসিক জোসেফাস এবং প্রথম শতাব্দীর অন্যান্য সূত্র কী সাক্ষ্য দেয়? একটি ঐতিহাসিক অনুসন্ধান।

বিষয় - ০১
বিষয় - ০২
বিষয় - ০৩
বিষয় - ০৪
ঐশ্বরিক উপাধি ও তার তাৎপর্য
ঐতিহাসিক ঈসা

কালিমাতুল্লাহ, রুহুল্লাহ, আল-মসীহ। এই শব্দগুলো আরবি, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় কী অর্থ বহন করে? কিতাবুল মোকাদ্দস এবং ইসলামিক সূত্রে এই উপাধিগুলোর গভীরতা কতটুকু? একটি ভাষাতাত্ত্বিক ও ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

অলৌকিক কার্যাবলী

ঈসা মসীহ মৃতকে জীবিত করেছেন, জন্মান্ধকে দৃষ্টি দিয়েছেন, কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেছেন। এই মোজেজাগুলো কি শুধুই ক্ষমতার প্রদর্শন ছিল, নাকি এগুলো তাঁর পরিচয়ের দিকে ইঙ্গিত করে? কিতাবুল মোকাদ্দস ও ইতিহাসের আলোকে বিশ্লেষণ।

কুমারী গর্ভে জন্ম

ঈসার পিতা ছাড়া জন্ম নেওয়া কি শুধুই একটি অলৌকিক ঘটনা? নাকি এই জন্মের পেছনে আল্লাহর একটি মহাপরিকল্পনা লুকিয়ে আছে? তাওরাত থেকে ইঞ্জিল পর্যন্ত এই ঘটনার ধারাবাহিকতা ও তাৎপর্য জানুন।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার খোঁজার অপেক্ষায় আছে

আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, দাউদ, কাউকেই কালিমাতুল্লাহ বলা হয়নি। কেন শুধু ঈসা মসীহকে এই উপাধি দেওয়া হলো?

প্রশ্ন - ০১
প্রশ্ন - ০২

আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, দাউদ, কাউকেই কালিমাতুল্লাহ বলা হয়নি। কেন শুধু ঈসা মসীহকে এই উপাধি দেওয়া হলো?

প্রশ্ন - ০৩

মৃতকে জীবিত করা, জন্মান্ধকে দৃষ্টি দেওয়া, এই মোজেজাগুলো কেন কেবল ঈসা মসীহই করেছিলেন?

প্রশ্ন - ০৪

পিতা ছাড়া কুমারী মায়ের গর্ভে জন্ম, এটি কি শুধুই একটি মোজেজা নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য আছে?

এক: ঐশ্বরিক উপাধি ও তার তাৎপর্য

কালিমাতুল্লাহ: আল্লাহর কালাম

আসুন সবার আগে "কালিমাতুল্লাহ" শব্দটি বুঝি। আরবি ভাষায় "কালিমা" (كلمة) শব্দের অর্থ হলো "বাণী" বা "কালাম" (Word)। আর "আল্লাহ" (الله) অর্থ আমরা সবাই জানি। অতএব "কালিমাতুল্লাহ" (كلمة الله) এর আক্ষরিক অর্থ হলো "আল্লাহর কালাম" বা "আল্লাহর বাণী"

কুরআন শরীফে সূরা আলে ইমরান ৩:৪৫ আয়াতে বলা হয়েছে:

"ফেরেশতারা বললেন, হে মরিয়ম, আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা ইবনে মরিয়ম; দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি সম্মানিত এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত।"

লক্ষ্য করুন, এখানে বলা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা মরিয়মকে একটি "কালেমার" সুসংবাদ দিচ্ছেন এবং সেই কালেমার নাম হলো "মসীহ, ঈসা ইবনে মরিয়ম"। অর্থাৎ ঈসা মসীহ নিজেই সেই কালেমা, তিনি আল্লাহর কোনো বাণী বহন করেননি, বরং তিনি নিজেই আল্লাহর কালাম।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য নবীরা আল্লাহর বাণী "নিয়ে এসেছিলেন"। মূসা নবী তাওরাত নিয়ে এসেছিলেন, দাউদ নবী যাবুর নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ঈসা মসীহ সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি নিজেই সেই কালাম। তিনি বাণী বহনকারী নন, তিনি নিজেই বাণী।

এবার কিতাবুল মোকাদ্দসে দেখি এই একই সত্য কীভাবে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
ইঞ্জিল শরীফের ইউহোন্না ১:১-৩ আয়াতে লেখা আছে:

"শুরুতে কালাম ছিলেন, সেই কালাম আল্লাহর সাথে ছিলেন এবং সেই কালাম নিজেই খোদা ছিলেন। তিনি শুরুতে আল্লাহর সাথে ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে; তাঁকে ছাড়া কিছুই সৃষ্টি হয়নি যা সৃষ্টি হয়েছে।"

এখানে গ্রিক ভাষায় "কালাম" শব্দটির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে "লোগোস" (Λόγος/Logos)। প্রাচীন গ্রিক দর্শনে "লোগোস" শুধু একটি শব্দ নয়, এটি হলো ঐশ্বরিক যুক্তি, ঐশ্বরিক প্রকাশ, সেই চিরন্তন সত্তা যার মাধ্যমে আল্লাহ নিজেকে প্রকাশ করেন। আর ইউহোন্না ১:১৪ আয়াতে বলা হচ্ছে: "সেই কালাম মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন।"

এখন একটু থামুন এবং ভাবুন। কুরআন বলছে ঈসা মসীহ হলেন আল্লাহর "কালেমা"কিতাবুল মোকাদ্দস বলছে সেই "কালাম" শুরু থেকেই আল্লাহর সাথে ছিলেন এবং তিনি মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এসেছেন। দুটি কিতাব, দুটি ভিন্ন সময়ে লেখা, কিন্তু একই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। এটি কি কাকতালীয়?

হিব্রু ভাষায়ও এই ধারণাটি গভীরভাবে প্রোথিত। তাওরাত শরীফের পয়দায়েশ (আদিপুস্তক) ১:৩ আয়াতে লেখা আছে, "আল্লাহ বললেন, 'আলো হোক,' আর আলো হলো।" এখানে হিব্রু শব্দ "দাবার" (דָּבָר/Dabar) ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "কালাম" বা "বাণী"। আল্লাহ তাঁর কালামের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। আর কিতাবুল মোকাদ্দস বলছে ঈসা মসীহ সেই কালাম যাঁর মাধ্যমে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে (ইউহোন্না ১:৩)

যাবুর শরীফের ৩৩:৬ আয়াতেও বলা হয়েছে: "মাবুদের কালামের দ্বারা আসমানসমূহ সৃষ্টি হয়েছে।"

তাহলে দেখুন, তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল শরীফ একই কথা বলছে যে আল্লাহর কালাম কোনো সাধারণ শব্দ নয়, এটি একটি সক্রিয়, জীবন্ত ও সৃষ্টিশীল সত্তা। আর ঈসা মসীহকে সেই কালাম বলা হয়েছে।

রুহুল্লাহ: আল্লাহর রূহ

দ্বিতীয় উপাধিটি হলো "রুহুল্লাহ"। আরবি ভাষায় "রূহ" (روح) অর্থ আত্মা বা প্রাণশক্তি, আর "আল্লাহ" (الله) অর্থ আমরা জানি। তাহলে "রুহুল্লাহ" (روح الله) অর্থ "আল্লাহর রূহ" বা "আল্লাহর আত্মা"।

কুরআন শরীফে সূরা আন-নিসা ৪:১৭১ আয়াতে বলা হয়েছে:

"মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল, তাঁর কালেমা যা তিনি মরিয়মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ।"

এখানে ঈসা মসীহকে আল্লাহর "কালেমা" এবং আল্লাহর "রূহ" দুটোই বলা হয়েছে একই আয়াতে। এখন ভেবে দেখুন, আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষের মধ্যে রূহ দিয়েছেন, এটি সত্য। কিন্তু কোনো মানুষকে বা কোনো নবীকে কি "আল্লাহর রূহ" বলা হয়েছে? আদম নবীকে "সাফিউল্লাহ" (আল্লাহর মনোনীত) বলা হয়েছে। ইব্রাহিম নবীকে "খলিলুল্লাহ" (আল্লাহর বন্ধু) বলা হয়েছে। মূসা নবীকে "কালিমুল্লাহ" (যিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন) বলা হয়েছে। কিন্তু "রুহুল্লাহ" অর্থাৎ "আল্লাহর রূহ" কেবলমাত্র ঈসা মসীহকে বলা হয়েছে।

কিতাবুল মোকাদ্দসে এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইঞ্জিল শরীফের লূক ১:৩৫ আয়াতে ফেরেশতা জিব্রাঈল মরিয়মকে বলছেন:

"পাক-রূহ তোমার ওপর আসবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত তোমাকে ছায়া দেবেন। এই কারণে যে পবিত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন, তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলা হবে।"

এখানে হিব্রু ও আরামীয় ভাষায় "রূহ" (רוּחַ/Ruach) শব্দটি শুধু আত্মা বোঝায় না, এটি আল্লাহর সক্রিয় উপস্থিতি ও ক্ষমতাকে বোঝায়। তাওরাত শরীফের পয়দায়েশ ১:২ আয়াতে আমরা পড়ি: "আল্লাহর রূহ পানির ওপর ভেসে বেড়াচ্ছিলেন।" সৃষ্টির শুরুতেই আল্লাহর রূহ সক্রিয় ছিলেন। আর ঈসা মসীহকে সেই রূহের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ইসলামিক স্কলারদের মধ্যেও এই উপাধি নিয়ে গভীর আলোচনা রয়েছে। প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিত ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা আন-নিসা ৪:১৭১ এর ব্যাখ্যায়) উল্লেখ করেছেন যে ঈসা মসীহকে "রুহুল্লাহ" বলা হয়েছে কারণ তিনি সরাসরি আল্লাহর রূহ থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, কোনো পিতার মাধ্যম ছাড়াই। এটি তাঁকে অন্য সকল নবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়।

আল-মসীহ: অভিষিক্ত একজন

তৃতীয় উপাধিটি হলো "আল-মসীহ" (المسيح)। এই শব্দটি আরবি "মাসাহা" (مسح) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ "মাসেহ করা" বা "অভিষেক করা" (to anoint)। হিব্রু ভাষায় এই একই শব্দটি হলো "মাশিয়াখ" (מָשִׁיחַ/Mashiach) যা থেকে ইংরেজি "Messiah" শব্দটি এসেছে। আর গ্রিক ভাষায় এর অনুবাদ হলো "খ্রীষ্টোস" (Χριστός/Christos), যা থেকে "খ্রীষ্ট" (Christ) শব্দটি এসেছে।

কুরআন শরীফে ঈসা মসীহকে ১১ বার "আল-মসীহ" বলে সম্বোধন করা হয়েছে (সূরা আলে ইমরান ৩:৪৫, সূরা আন-নিসা ৪:১৫৭, ৪:১৭১, ৪:১৭২, সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১৭, ৫:৭২, ৫:৭৫, সূরা আত-তাওবা ৯:৩০, ৯:৩১)। কিন্তু আর কোনো নবীকে এই উপাধি দেওয়া হয়নি।

এখন প্রশ্ন হলো, "অভিষিক্ত" মানে কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

কিতাবুল মোকাদ্দসে "অভিষেক" (মাসেহ করা) একটি অত্যন্ত পবিত্র প্রক্রিয়া ছিল। তাওরাত শরীফে আমরা দেখি, বনি-ইসরাইলে তিন ধরনের ব্যক্তিকে তেল দিয়ে অভিষিক্ত (মাসেহ) করা হতো:

প্রথমত, নবী (Prophet): যিনি আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। (১ বাদশাহনামা ১৯:১৬)

দ্বিতীয়ত, ইমামুল আযম বা মহাযাজক (High Priest): যিনি মানুষের পক্ষে আল্লাহর সামনে কুরবানি উৎসর্গ করেন। (লেবীয় ৮:১২)

তৃতীয়ত, বাদশাহ (King): যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাসন করেন। (১ শামুয়েল ১৬:১৩)

কিন্তু ইতিহাসে কোনো মানুষ একসাথে এই তিনটি পদে অভিষিক্ত হননি। নবীরা নবী ছিলেন, ইমামরা ইমাম ছিলেন, বাদশাহরা বাদশাহ ছিলেন। কিন্তু কিতাবুল মোকাদ্দস বলছে যে "আল-মসীহ" হলেন সেই একজন যিনি একাই এই তিনটি ভূমিকা পূর্ণ করবেন। তিনি একাধারে নবী, মহাযাজক ও চিরস্থায়ী বাদশাহ।

যাবুর শরীফে দাউদ নবী এই মসীহের কথা বলেছেন: "মাবুদ আমার মনিবকে বললেন, 'তুমি আমার ডান পাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পায়ের তলায় রাখি।'" (যাবুর ১১০:১)। এখানে দাউদ নবী নিজেই তাঁর বংশধর মসীহকে "আমার মনিব" বলে সম্বোধন করছেন। ঈসা মসীহ নিজেও এই আয়াতটি উদ্ধৃত করে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "দাউদ যদি মসীহকে মনিব বলেন, তাহলে মসীহ কীভাবে তাঁর বংশধর হন?" (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২২:৪৪-৪৫)। এই প্রশ্নটি আজও আমাদের ভাবতে বাধ্য করে।

ইব্রীয় ৪:১৪-১৫ আয়াতে ঈসা মসীহকে "মহান ইমামুল আযম" (Great High Priest) বলা হয়েছে: "আমাদের একজন মহান ইমামুল আযম আছেন যিনি আসমানসমূহ পার হয়ে গেছেন, তিনি হলেন আল্লাহর পুত্র ঈসা।"

তাহলে দেখুন, "আল-মসীহ" শুধু একটি নাম নয়। এটি একটি ঐশ্বরিক পদমর্যাদা যা ইঙ্গিত করে যে ঈসা ইবনে মরিয়ম হলেন সেই চূড়ান্ত অভিষিক্ত সত্তা যাঁর জন্য সমস্ত নবী ও কিতাব অপেক্ষা করেছিল।

only Jesus shaine
only Jesus shaine
a statue of a person holding a book
a statue of a person holding a book

দুই: ইতিহাসের ঈসা

কিতাবুল মোকাদ্দসের বাইরে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ

অনেকে প্রশ্ন করেন, ঈসা মসীহ কি সত্যিই ইতিহাসে বিদ্যমান ছিলেন? কিতাবুল মোকাদ্দসের বাইরে কি তাঁর অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ আছে? উত্তর হলো, হ্যাঁ, এবং প্রমাণ এতটাই শক্তিশালী যে আজকের দিনে কোনো সিরিয়াস ইতিহাস ঈসা মসীহের ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন না।

কিতাবুল মোকাদ্দস থেকে প্রমাণ

কিতাবুল মোকাদ্দসের ইঞ্জিল শরীফ চারজন প্রত্যক্ষদর্শী বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গী দ্বারা লেখা হয়েছে, মথি, মার্ক, লূক ও ইউহোন্না। এঁরা ঈসা মসীহের জীবন, শিক্ষা, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। ইঞ্জিল শরীফের ১ ইউহোন্না ১:১ আয়াতে লেখা আছে:

"জীবনের সেই কালাম সম্বন্ধে আমরা লিখছি যিনি শুরু থেকে ছিলেন, যাঁকে আমরা শুনেছি, নিজেদের চোখে দেখেছি, মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেছি এবং নিজেদের হাতে স্পর্শ করেছি।"

এটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়। লেখক স্পষ্ট করে বলছেন, আমরা তাঁকে দেখেছি, শুনেছি, ছুঁয়েছি, এবং নিজেদের হাতে স্পর্শ করেছি।

লূক তাঁর ইঞ্জিলের শুরুতেই (লূক ১:১-৪) লিখেছেন:

"যেহেতু অনেকেই আমাদের মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার বিবরণ লেখার চেষ্টা করেছেন, যেমনভাবে প্রত্যক্ষদর্শীরা ও কালামের খাদেমরা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তাই আমিও শুরু থেকে সবকিছু সযত্নে খোঁজখবর নিয়ে সবকিছু ধারাবাহিকভাবে আপনাকে লিখে জানানো ভালো মনে করলাম, যেন আপনি জানতে পারেন যে যা আপনাকে শেখানো হয়েছে তা কতটা নির্ভরযোগ্য।"

লূক ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং ঐতিহাসিক লেখক। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে, গবেষণা করে এবং ধারাবাহিকভাবে সবকিছু লিখেছেন। এটি কোনো রূপকথা নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল।

রোমান ঐতিহাসিকদের সাক্ষ্য

কিতাবুল মোকাদ্দসের বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে রোমান ঐতিহাসিক টেসিতাসের (Tacitus) সাক্ষ্য। টেসিতাস ছিলেন রোমান সাম্রাজ্যের একজন সিনেটর ও প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক লেখক। তিনি ঈসা মসীহের অনুসারী ছিলেন না, বরং তিনি খ্রীষ্টানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। তবুও তিনি ১১৬ খ্রীষ্টাব্দে লেখা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "আনালস" (Annals, Book XV, Chapter 44) এ লিখেছেন:

"খ্রীষ্টোস (Christus), যার নাম থেকে এই নামটি (খ্রীষ্টান) এসেছে, তিবেরিয়াসের রাজত্বকালে আমাদের প্রকিউরেটর পন্তিয়াস পিলাতের হাতে চরম শাস্তি ভোগ করেছিলেন।"

লক্ষ্য করুন, টেসিতাস একজন বিরোধী পক্ষের ঐতিহাসিক হয়েও ঈসা মসীহের অস্তিত্ব, তাঁর মৃত্যুদণ্ড এবং পন্তিয়াস পিলাতের নাম নিশ্চিত করেছেন। কোনো বন্ধু নয়, একজন শত্রু যখন সাক্ষ্য দেয়, সেই সাক্ষ্যের ওজন অনেক বেশি।

ইহুদি ঐতিহাসিকের সাক্ষ্য

ফ্লেভিয়াস জোসেফাস (Flavius Josephus) ছিলেন একজন প্রথম শতাব্দীর ইহুদি ঐতিহাসিক লেখক, তিনিও খ্রীষ্টান ছিলেন না। তিনি ৯৩-৯৪ খ্রীষ্টাব্দে লেখা তাঁর গ্রন্থ "অ্যান্টিকুইটিজ অব দ্য জুজ" (Antiquities of the Jews, Book XVIII, Chapter 3.3) এ লিখেছেন:

"এই সময়ে ঈসা নামে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন... তিনি অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন... পিলাতুস তাঁকে ক্রুশে দণ্ডিত করেছিলেন... যারা তাঁকে ভালোবাসতেন তারা তাঁকে ত্যাগ করেননি।"

জোসেফাসের এই সাক্ষ্যটি (যাকে "Testimonium Flavianum" বলা হয়) নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। অনেক গবেষকের মতে (যেমন John P. Meier, "A Marginal Jew", 1991, পৃষ্ঠা ৫৬-৮৮), এর মূল অংশটি জোসেফাসের নিজের লেখা, যদিও পরে কিছু খ্রীষ্টান কপিকারক সামান্য সংযোজন করে থাকতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন। তবে জোসেফাসের আরেকটি উল্লেখ (Antiquities, Book XX, 9.1) এ তিনি "ইয়াকুব, যিনি ঈসা নামে পরিচিত ব্যক্তির ভাই" বলে উল্লেখ করেছেন, এবং এই অংশটি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

রোমান গভর্নরের সাক্ষ্য

প্লিনি দ্য ইয়ংগার (Pliny the Younger) ছিলেন বিথুনিয়ার রোমান গভর্নর। ১১২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি রোমান সম্রাট ট্রাজানকে একটি চিঠি লিখেছিলেন (Letters, Book X, Letter 96) যেখানে তিনি খ্রীষ্টানদের সম্পর্কে বলেন:

"তারা একটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যোদয়ের আগে একত্রিত হয় এবং খ্রীষ্টোসের (Christus) উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের প্রতি গান গায়।"

এটি প্রমাণ করে যে ঈসা মসীহের মৃত্যুর মাত্র ৮০ বছরের মধ্যেই রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে তাঁর অনুসারীরা ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁকে ঈশ্বরের মর্যাদায় উপাসনা করতেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ

২০০১ সালে ইসরাইলে একটি প্রাচীন হাড়ের বাক্স (Ossuary) আবিষ্কৃত হয়, যার গায়ে আরামীয় ভাষায় খোদাই করা ছিল: "ইয়াকুব, ইউসুফের পুত্র, ঈসার ভাই" (James, son of Joseph, brother of Jesus)। এই বাক্সটি প্রথম শতাব্দীর বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা শনাক্ত করেছেন। যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, ইসরাইল অ্যান্টিকুইটিজ অথরিটির (IAA) বিচারে ২০১২ সালে বাক্সটিকে আসল বলে রায় দেওয়া হয়। বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ André Lemaire (Sorbonne University, Paris) এই শিলালিপিটিকে সত্য বলে সমর্থন করেছেন।

এছাড়াও, ১৯৬১ সালে ইসরাইলের কাইসারিয়ায় (Caesarea Maritima) একটি পাথরের শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়, যাকে "পিলাতুস স্টোন" (Pilate Stone) বলা হয়। এতে পন্তিয়াস পিলাতের নাম খোদাই করা আছে, যিনি ইঞ্জিল শরীফ অনুযায়ী ঈসা মসীহের বিচার করেছিলেন (ইউহোন্না ১৮:২৮-১৯:১৬)। এই আবিষ্কার ইঞ্জিল শরীফের ঐতিহাসিক নির্ভুলতাকে আরেকবার প্রমাণ করে।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও নিউ টেস্টামেন্ট স্কলার F.F. Bruce তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "Jesus and Christian Origins Outside the New Testament" (1974) এ লিখেছেন: "খ্রীষ্টের ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ এতটাই অপ্রতিরোধ্য যে কোনো নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক এটি অস্বীকার করার কথা ভাবতেও পারেন না।"

sun rays inside cave
sun rays inside cave
brown concrete building during night time
brown concrete building during night time
blue and brown painted wall
blue and brown painted wall

তিন: ঈসা মসীহের অলৌকিক মোজেজাগুলো

কেন তাঁর মোজেজা অন্য সব নবী থেকে আলাদা?

মোজেজা কি শুধুই ক্ষমতার প্রদর্শন?

আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবী ও রাসূলদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মোজেজা দান করেছেন। মূসা নবীর লাঠি সাপে পরিণত হয়েছিল। ইব্রাহিম নবী আগুনে পুড়ে যাননি। সুলাইমান নবী পশুপাখি ও জিনদের ওপর কর্তৃত্ব পেয়েছিলেন। প্রতিটি মোজেজাই ছিল আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন।

কিন্তু এখানে একটু থামুন এবং ভাবুন। ঈসা মসীহর মোজেজাগুলোর দিকে যখন আমরা মনোযোগ দিয়ে তাকাই, তখন একটি অদ্ভুত বিষয় চোখে পড়ে। তাঁর মোজেজাগুলো শুধু আল্লাহর কুদরতের প্রদর্শন ছিল না, বরং প্রতিটি মোজেজা সরাসরি তাঁর পরিচয়ের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে।

অন্য নবীদের মোজেজা ছিল আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণের জন্য। কিন্তু ঈসা মসীহর মোজেজা ছিল তাঁর নিজের পরিচয় প্রকাশের জন্য। এই পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

আসুন, কিতাবুল মোকাদ্দস, ইতিহাস ও কুরআনের আলোকে তাঁর মোজেজাগুলো একটি একটি করে দেখি এবং নিজেরাই বিচার করি, এগুলো আমাদের কী বলতে চাইছে।

প্রথমত: মৃতকে জীবিত করা, জীবন ও মৃত্যুর ওপর কর্তৃত্ব

জীবন দেওয়া এবং মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে আনা, এটি কার কাজ? একটু ভেবে দেখুন। একজন ডাক্তার অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করতে পারেন, কিন্তু মৃত মানুষকে জীবিত করা কি কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব? এটি একমাত্র আল্লাহর কাজ। কিন্তু কিতাবুল মোকাদ্দস আমাদের বলছে যে ঈসা মসীহ এই কাজটিই করেছেন, একবার নয়, বারবার।

লাসারকে জীবিত করা: চার দিন পর কবর থেকে ফেরত নিয়ে আসা

ইঞ্জিল শরীফ-এর ইউহোন্না ১১:১-৪৪ আয়াতে সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাটি বর্ণিত আছে। ঈসা মসীহর প্রিয় বন্ধু লাসার অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। ঈসা মসীহ যখন সেখানে পৌঁছালেন, তখন লাসার চার দিন আগে মারা গেছেন। তাঁর দেহ কবরে রাখা হয়েছে এবং পচন ধরতে শুরু করেছে।

লাসারের বোন মার্থা বললেন:

"হে মাবুদ, এতদিনে তো গন্ধ বেরোচ্ছে, কারণ চার দিন হয়ে গেছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১১:৩৯)

কিন্তু ঈসা মসীহ কবরের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বললেন:

"লাসার, বেরিয়ে এসো!"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১১:৪৩)

আর লাসার কাফনের কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় জীবিত হয়ে কবর থেকে বেরিয়ে এলেন।

এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করুন। ঈসা মসীহ দোয়া করে বলেননি, "হে আল্লাহ, একে জীবিত করুন।" তিনি নিজের কর্তৃত্বে সরাসরি আদেশ দিলেন, "বেরিয়ে এসো!" এবং মৃত্যু তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য হলো। এটি কোনো সাধারণ নবীর কাজ নয়। এটি এমন কারো কাজ যাঁর জীবন ও মৃত্যুর ওপর সরাসরি কর্তৃত্ব আছে।

এই ঘটনার ঠিক আগে ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:

"আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমার ওপর ঈমান আনে সে মরে গেলেও জীবিত হবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১১:২৫)

ভাবুন, তিনি বলেননি "আল্লাহ পুনরুত্থান দেন" বা "আল্লাহর হুকুমে জীবন আসে।" তিনি বললেন, "আমিই পুনরুত্থান ও জীবন।" তিনি নিজেকে জীবনের উৎস হিসেবে পরিচয় দিলেন।

নায়িনের বিধবার ছেলেকে জীবিত করা

ইঞ্জিল শরীফএর লূক ৭:১১-১৭ আয়াতে আরেকটি ঘটনা বর্ণিত আছে। নায়িন শহরে একজন বিধবা মায়ের একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। তাকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঈসা মসীহ সেই শবযাত্রা দেখে মায়ের প্রতি করুণায় ভরে গেলেন। তিনি খাটিয়া স্পর্শ করে বললেন:

"হে যুবক, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো!"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ৭:১৪)

আর মৃত যুবক উঠে বসলো এবং কথা বলতে শুরু করলো। সেখানে উপস্থিত সবাই ভয়ে ও বিস্ময়ে বলে উঠলেন:

"আমাদের মধ্যে একজন মহান নবী এসেছেন! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দেখতে এসেছেন!"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ৭:১৬)

এখানে লক্ষ্য করুন, প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেরাই অনুভব করেছিলেন যে এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দেখতে এসেছেন।

ইয়ায়ীরের মেয়েকে জীবিত করা

ইঞ্জিল শরীফ-এর মার্ক ৫:৩৫-৪৩ আয়াতে ইয়ায়ীর নামে একজন ইবাদতখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তির ছোট মেয়ে মারা যায়। লোকেরা বললো, "আর কষ্ট করে ওস্তাদকে ডেকে লাভ নেই।" কিন্তু ঈসা মসীহ বললেন:

"ভয় করো না, শুধু ঈমান রাখো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ৫:৩৬)

তিনি মেয়েটির হাত ধরে আরামীয় ভাষায় বললেন:

"তালিথা কুমি!" (অর্থাৎ, "মেয়ে, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো!")
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ৫:৪১)

আর সাথে সাথে মেয়েটি উঠে হাঁটতে শুরু করলো।

তিনবার মৃতকে জীবিত করার ঘটনায় প্রতিবারই একটি সাধারণ বিষয় লক্ষ্যণীয়: ঈসা মসীহ দোয়া করেননি, তিনি সরাসরি আদেশ দিয়েছেন এবং মৃত্যু তাঁর কথা মেনেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো নবী বা মানুষ নিজের কর্তৃত্বে মৃতকে জীবিত করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।

দ্বিতীয়ত: জন্মান্ধকে দৃষ্টি দেওয়া, অসম্ভবকে সম্ভব করা

ইঞ্জিল শরীফ-এর ইউহোন্না ৯:১-৩৮ আয়াতে একটি অসাধারণ ঘটনা বর্ণিত আছে। একজন মানুষ জন্ম থেকেই অন্ধ ছিলেন। তিনি কখনো আলো দেখেননি, কখনো কোনো মুখ চেনেননি। তাঁর চোখ জন্ম থেকেই অকার্যকর ছিল।

ঈসা মসীহর সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন:

"হে ওস্তাদ, কার গুনাহর কারণে এই লোকটি অন্ধ হয়ে জন্মেছে? তার নিজের নাকি তার মা-বাবার?"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৯:২)

ঈসা মসীহ উত্তর দিলেন:

"না তার গুনাহর জন্য, না তার মা-বাবার। বরং এটি হয়েছে যেন তার জীবনে আল্লাহর কাজ প্রকাশ পায়।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৯:৩)

এরপর তিনি বললেন:

"যতক্ষণ আমি দুনিয়ায় আছি, আমিই দুনিয়ার নূর।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৯:৫)

তারপর তিনি মাটিতে থুতু ফেলে কাদা তৈরি করলেন, সেই কাদা অন্ধ লোকটির চোখে লাগিয়ে দিলেন এবং বললেন সিলোয়াম পুকুরে গিয়ে ধুয়ে ফেলতে। লোকটি গেলেন, ধুলেন এবং চোখ মেলে দেখতে পেলেন!

সুস্থ হওয়া সেই লোকটি ফরীশীদের (ধর্মীয় নেতাদের) সামনে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কথা বলেছিলেন:

"জগত সৃষ্টির শুরু থেকে কেউ কখনো শোনেনি যে কোনো মানুষ জন্মান্ধের চোখ খুলে দিয়েছে। ইনি যদি আল্লাহর কাছ থেকে না আসতেন, তাহলে কিছুই করতে পারতেন না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৯:৩২-৩৩)

এই কথাটি একজন সাধারণ মানুষের মুখ থেকে বের হয়েছিল, কোনো ধর্মতাত্ত্বিকের মুখ থেকে নয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি নিজেই মোজেজার ফল ভোগ করেছেন, তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে এমন কাজ পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।

এখানে আরও একটি গভীর বিষয় লক্ষ্য করুন। ঈসা মসীহ মাটি দিয়ে কাদা তৈরি করে চোখে লাগিয়ে দৃষ্টি দিলেন। তাওরাত শরীফ-এর পয়দায়েশ ২:৭ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন। ঈসা মসীহ যখন মাটি ব্যবহার করে অন্ধের চোখে দৃষ্টি সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি কি সেই সৃষ্টিকর্তার কাজই করছিলেন না?

তৃতীয়ত: প্রকৃতির ওপর কর্তৃত্ব, ঝড় থামানো ও পানির ওপর হাঁটা

ঝড়কে থামানো

ইঞ্জিল শরীফ-এর মার্ক ৪:৩৫-৪১ আয়াতে বর্ণিত আছে, ঈসা মসীহ ও তাঁর সাহাবীরা একটি নৌকায় করে হ্রদ পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ ভয়ংকর ঝড় উঠলো। সেই ঢেউগুলো এত বড়বড় যে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো। সাহাবীরা আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে ডাকলেন।

ঈসা মসীহ উঠে দাঁড়ালেন এবং ঝড় ও সাগরকে আদেশ দিলেন:

"চুপ করো, স্থির হও!"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ৪:৩৯)

আর সাথে সাথে ঝড় থেমে গেল এবং সাগর একদম শান্ত হয়ে গেল। সাহাবীরা ভয়ে ও বিস্ময়ে একে অপরকে বলতে লাগলেন:

"ইনি আসলে কে যে ঝড় ও সাগরও তাঁর কথা মানে?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ৪:৪১)

সাহাবীদের এই প্রশ্নটি আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইনি আসলে কে?

তাওরাত শরীফ-এর যাবুর ১০৭:২৩-৩০ আয়াতে বলা হয়েছে যে আল্লাহই ঝড় তোলেন এবং আল্লাহই ঝড় থামান। যাবুর ৮৯:৯ আয়াতে বলা হয়েছে:

"হে মাবুদ, তুমিই উত্তাল সাগরের ওপর রাজত্ব করো। যখন তার ঢেউ ওঠে, তুমিই তা শান্ত করো।"
(যাবুর শরীফ ৮৯:৯)

যদি ঝড় ও সাগরকে শান্ত করা আল্লাহর কাজ হয়, এবং ঈসা মসীহ ঠিক সেই কাজটিই করেছেন, তাহলে তিনি কে?

পানির ওপর দিয়ে হাঁটা

ইঞ্জিল শরীফ-এর মথি ১৪:২৫-৩৩ আয়াতে বর্ণিত আছে, রাতের অন্ধকারে সাহাবীরা নৌকায় করে হ্রদ পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ তারা দেখলেন ঈসা মসীহ পানির ওপর দিয়ে হেঁটে তাদের দিকে আসছেন। তারা ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠলেন। ঈসা মসীহ বললেন:

"সাহস রাখো! আমিই, ভয় করো না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১৪:২৭)

এখানে ঈসা মসীহ যে শব্দটি ব্যবহার করলেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গ্রিক ভাষায় তিনি বলেছেন "এগো ইমি" (ἐγώ εἰμι/Ego Eimi) যার অর্থ "আমিই আছি" বা "I AM"। এটি সেই একই নাম যা আল্লাহ তায়ালা তাওরাত শরীফ-মূসা নবী-কে বলেছিলেন:

"আমিই যিনি আছি (I AM WHO I AM)।"
(তাওরাত শরীফ, হিজরত ৩:১৪)

ঈসা মসীহ কি ইচ্ছাকৃতভাবেই আল্লাহর সেই পবিত্র নাম ব্যবহার করে নিজের পরিচয়ের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন?

আইয়ুব (ইয়োব) এর কিতাব ৯:৮ আয়াতে বলা হয়েছে:

"তিনিই (আল্লাহ) একা আসমান বিছিয়ে দেন এবং সাগরের ঢেউয়ের ওপর দিয়ে হাঁটেন।"
(আইয়ুব ৯:৮)

যদি সাগরের ঢেউয়ের ওপর হাঁটা আল্লাহর বৈশিষ্ট্য হয়, এবং ঈসা মসীহ সেটাই করেছেন, তাহলে কিতাবুল মোকাদ্দস আমাদের কী বোঝাতে চাইছে?

চতুর্থত: রোগ সারানো, শুধু সুস্থতা নয়, রহমতের প্রকাশ

ঈসা মসীহ অসংখ্য রোগী সুস্থ করেছেন। কিন্তু তাঁর সুস্থ করার ধরনটি লক্ষ্য করুন, তিনি শুধু শরীর সুস্থই করতেন না, তিনি মানুষের সম্মানও ফিরিয়ে দিতেন।

কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করা

ঈসা মসীহের সময়কালে কুষ্ঠরোগ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর ও ঘৃণিত রোগ। কুষ্ঠরোগীকে কেউ ছুঁতো না, তাদের সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হতো। তারা "অশুচি, অশুচি" বলে চিৎকার করতে করতে হাঁটতে বাধ্য ছিল যেন কেউ তাদের কাছে না আসে (তাওরাত শরীফ, লেবীয় ১৩:৪৫-৪৬)।

ইঞ্জিল শরীফ-এর মার্ক ১:৪০-৪২ আয়াতে একজন কুষ্ঠরোগী ঈসা মসীহ-র কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বললেন:

"আপনি যদি চান, আমাকে পাক-সাফ করতে পারেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১:৪০)

এরপর যা ঘটলো তা সেই যুগে অকল্পনীয় ছিল:

"ঈসা তার প্রতি গভীর মমতায় ভরে গেলেন। তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করলেন এবং বললেন, 'আমি চাই, তুমি পাক-সাফ হও।' সাথে সাথে কুষ্ঠরোগ দূর হয়ে গেল এবং সে পাক-সাফ হলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১:৪১-৪২)

লক্ষ্য করুন, তিনি বললেন "আমি চাই" (I am willing)। তিনি বলেননি "আল্লাহ চান" বা "আল্লাহর হুকুমে হোক"। তিনি নিজের ইচ্ছা ও কর্তৃত্বে সুস্থ করলেন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি রোগীকে স্পর্শ করলেন। সেই সমাজে কুষ্ঠরোগীকে স্পর্শ করা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ঈসা মসীহ সেই নিষেধাজ্ঞার ঊর্ধ্বে গিয়ে রোগীকে ছুঁলেন। কারণ তিনি শুধু রোগ সারাতে আসেননি, তিনি মানুষের হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে এসেছিলেন।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ করা ও গুনাহ মাফ করা

ইঞ্জিল শরীফ-এর মার্ক ২:১-১২ আয়াতে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে যা সরাসরি ঈসা মসীহর পরিচয় প্রকাশ করে। চারজন বন্ধু একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) মানুষকে খাটিয়ায় করে ঈসা মসীহের কাছে নিয়ে এলেন। ভিড়ের কারণে দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তারা ছাদ খুলে রোগীকে নামিয়ে দিলেন।

ঈসা মসীহ তাদের ঈমান দেখে রোগীকে বললেন:

"হে বৎস, তোমার গুনাহ মাফ করা হলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:৫)

সেখানে বসে থাকা ধর্মীয় নেতারা মনে মনে বললেন:

"এই লোক এমন কথা বলছে কেন? এ তো আল্লাহর বিরুদ্ধে কুফরি করছে! আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ মাফ করতে পারে?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:৭)

ঈসা মসীহ তাদের মনের কথা জানতে পেরে বললেন:

"তোমরা জানো যে ইবনে আদমের (মানবপুত্রের) দুনিয়ায় গুনাহ মাফ করার ক্ষমতা আছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:১০)

তারপর তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকটিকে বললেন:

"ওঠো, তোমার খাটিয়া তুলে নাও এবং বাড়ি যাও।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ২:১১)

আর সাথে সাথে লোকটি সুস্থ হয়ে উঠে হাঁটতে শুরু করলো।

এই ঘটনায় দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ঈসা মসীহ নিজে গুনাহ মাফ করলেন, যা ধর্মীয় নেতারাও স্বীকার করেছেন যে এটি শুধুমাত্র আল্লাহর কাজ। দ্বিতীয়ত, তিনি শারীরিক সুস্থতা দিয়ে প্রমাণ করলেন যে তাঁর গুনাহ মাফ করার কর্তৃত্ব সত্য।

পঞ্চমত: সৃষ্টির ওপর কর্তৃত্ব, অল্প থেকে অনেক সৃষ্টি করা

ইঞ্জিল শরীফ-এর ইউহোন্না ৬:১-১৪ আয়াতে বর্ণিত আছে, পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ঈসা মসীহের কাছে এসে তাঁর শিক্ষা শুনছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে এলো, সবাই ক্ষুধার্ত। সাহাবীরা বললেন এত মানুষকে খাওয়ানো অসম্ভব। কিন্তু সেখানে একটি ছেলের কাছে মাত্র পাঁচটি যবের রুটি ও দুটি মাছ ছিল।

ঈসা মসীহ সেই রুটি ও মাছ নিলেন, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন এবং সাহাবীদের মাধ্যমে বিতরণ করলেন। আর সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে খেলেন। শুধু তাই নয়, বাকি যা পড়ে ছিল তা জড়ো করে বারোটি ঝুড়ি ভর্তি হলো!

"লোকেরা এই নিদর্শন দেখে বললো, 'ইনিই সেই নবী যিনি দুনিয়ায় আসার কথা ছিল।'"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৬:১৪)

অল্প থেকে অনেক সৃষ্টি করা, এটি কার কাজ? যিনি শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই পারেন অল্প থেকে অনেক তৈরি করতে।

ষষ্ঠত: কুরআনের সাক্ষ্য, ঈসা মসীহের মোজেজা

কুরআন শরীফও ঈসা মসীহর এই অলৌকিক কার্যাবলীর সাক্ষ্য দেয়। সূরা আলে ইমরান ৩:৪৯ আয়াতে বলা হয়েছে:

"আমি তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের জন্য মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁক দেব, আল্লাহর হুকুমে তা পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করব এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করব।"
(সূরা আলে ইমরান ৩:৪৯)

সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১১০ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঈসা মসীহকে বলছেন:

"যখন তুমি মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করতে এবং তাতে ফুঁক দিতে, তখন আমার হুকুমে তা পাখি হয়ে যেত। তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতে আমার হুকুমে। আর যখন তুমি মৃতদের বের করে আনতে আমার হুকুমে।"
(সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১১০)

এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করি।

কুরআন বলছে ঈসা মসীহ মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করে তাতে ফুঁক দিলে সেটি জীবন্ত পাখি হয়ে যেত। মাটি থেকে প্রাণ সৃষ্টি করা, এটি কার কাজ? তাওরাত শরীফের পয়দায়েশ ২:৭ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করে তাতে জীবনের ফুঁক দিয়েছিলেন। ঈসা মসীহ যখন ঠিক একই কাজ করছেন, মাটি থেকে আকৃতি তৈরি করে তাতে প্রাণ দিচ্ছেন, তখন এটি কি আমাদের কিছু বলছে না?

কুরআন "আল্লাহর হুকুমে" কথাটি যোগ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: আল্লাহ তায়ালা অন্য কোনো নবীকে কেন এই ক্ষমতা দেননি? মূসা নবীকে দেননি, ইব্রাহিম নবীকে দেননি, দাউদ নবীকে দেননি। কেন শুধু ঈসা মসীহ?

সপ্তমত: ঐতিহাসিক ও বাইরের সাক্ষ্য

ঈসা মসীহের মোজেজাগুলো শুধু কিতাবুল মোকাদ্দস বা কুরআনেই উল্লেখিত নয়। প্রথম শতাব্দীর ইহুদি ও রোমান সূত্রেও এগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায়।

ইহুদি তালমুদ (Babylonian Talmud, Sanhedrin 43a) এ ঈসা মসীহের অলৌকিক কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি "যাদুবিদ্যা" অনুশীলন করতেন। এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইহুদি ধর্মীয় নেতারা যারা ঈসা মসীহর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর অলৌকিক কাজগুলো অস্বীকার করতে পারেননি। তারা শুধু এর উৎস নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একজন শত্রু যখন ঘটনা স্বীকার করে কিন্তু ব্যাখ্যা পরিবর্তন করে, তখন বুঝতে হবে ঘটনাটি এতটাই সত্য যে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

ইহুদি ঐতিহাসিক ফ্লেভিয়াস জোসেফাস তাঁর গ্রন্থ "Antiquities of the Jews" (Book XVIII, Chapter 3.3, ৯৩-৯৪ খ্রীষ্টাব্দ) এ লিখেছেন:

"এই সময়ে ঈসা নামে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন... তিনি অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন (paradoxon ergon)..."

জোসেফাস "আশ্চর্য কাজ" (paradoxon ergon/παραδόξων ἔργων) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা গ্রিক ভাষায় এমন কাজকে বোঝায় যা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে, অর্থাৎ অলৌকিক। একজন অবিশ্বাসী ইহুদি ঐতিহাসিকও ঈসা মসীহের মোজেজার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রখ্যাত নিউ টেস্টামেন্ট স্কলার Craig Blomberg তাঁর গ্রন্থ "The Historical Reliability of the Gospels" (2007, পৃষ্ঠা ৯০-৯১) এ লিখেছেন: "প্রথম শতাব্দীর কোনো সূত্রে, বন্ধু বা শত্রু কারো পক্ষ থেকেই ঈসার অলৌকিক কাজগুলো অস্বীকার করা হয়নি। বিতর্ক শুধু ছিল এই ক্ষমতার উৎস নিয়ে।"

মোজেজার ভাষায় পরিচয়ের ঘোষণা

আসুন, এবার সংক্ষেপে এগুলোকে দেখি, আমাদের কী বলছে:

মৃতকে জীবিত করা: তিনি জীবন ও মৃত্যুর মালিক। তিনি নিজেই বলেছেন, "আমিই পুনরুত্থান ও জীবন।"

জন্মান্ধকে দৃষ্টি দেওয়া: তিনি সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন। মাটি থেকে যেমন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন, তেমনি তিনি মাটি দিয়ে চোখে দৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন।

ঝড় থামানো ও পানিতে হাঁটা: প্রকৃতি তাঁর আদেশ মানে। যাবুর শরীফ বলছে এটি আল্লাহর কাজ।

গুনাহ মাফ করা: তাঁর বিরোধীরাও স্বীকার করেছে যে গুনাহ মাফ শুধু আল্লাহই করতে পারেন।

মাটি থেকে প্রাণ সৃষ্টি: কুরআন নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে তিনি মাটি দিয়ে পাখি বানিয়ে তাতে প্রাণ দিতেন।

এখন প্রশ্ন হলো, যদি ঈসা মসীহ শুধুই একজন সাধারণ নবী হতেন, তাহলে কেন তাঁকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হলো যা আর কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি? কেন তিনি নিজের কর্তৃত্বে মৃতকে জীবিত করতে পারতেন? কেন তিনি নিজে গুনাহ মাফ করতে পারতেন? কেন প্রকৃতি তাঁর আদেশ মানতো?

এই মোজেজাগুলো কোনো সাধারণ নবীর পক্ষে সম্ভব নয়। এগুলো এমন কারো কাজ যিনি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। কিতাবুল মোকাদ্দস বলছে তিনি হলেন কালিমাতুল্লাহ, আল্লাহর সেই কালাম যিনি মানুষের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাঁর মোজেজাগুলো সেই পরিচয়েরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

আপনাকে একটি প্রশ্ন করি

ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:

"আমি যে কাজগুলো করি সেগুলোই আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয় যে পিতা (আল্লাহ) আমাকে পাঠিয়েছেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ৫:৩৬)

তাঁর কাজগুলো কি সত্যিই তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছে? আপনি কি মনে করেন? নিজে বিচার করুন ও আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

silhouette photo of man on cliff during sunset
silhouette photo of man on cliff during sunset
man in blue dress shirt wearing white and black floral bandana
man in blue dress shirt wearing white and black floral bandana
lit candle in hand
lit candle in hand
a storm moving across the sky over a body of water
a storm moving across the sky over a body of water
a person standing in the water with a umbrella
a person standing in the water with a umbrella
child sitting on bed
child sitting on bed
a man sitting in a wheel chair in a room
a man sitting in a wheel chair in a room
green tree
green tree

পৃথিবীর ইতিহাসে কোটি কোটি মানুষের জন্ম হয়েছে। আল্লাহর স্বাভাবিক নিয়ম হলো, পিতা ও মাতার মাধ্যমে সন্তান পৃথিবীতে আসবে। আল্লাহ তায়ালা প্রথম মানুষ আদম নবীকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর থেকে প্রত্যেক নবী, রাসূল এবং সাধারণ মানুষের জন্ম একজন মানবিক পিতার মাধ্যমেই হয়েছে। কিন্তু ঈসা মসীহর জন্মের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা এই স্বাভাবিক নিয়মটি ভেঙে দিলেন।

তিনি কুমারী মরিয়ম-এর গর্ভে, কোনো পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই পৃথিবীতে এলেন।

এখন একটি গভীর প্রশ্ন হলো, আল্লাহ কেন এমনটি করলেন? এটি কি শুধুই তাঁর ক্ষমতা দেখানোর জন্য একটি মোজেজা ছিল? নাকি পিতা ছাড়া এই কুমারী জন্মের পেছনে মানবজাতির মুক্তির কোনো মহাপরিকল্পনা লুকিয়ে আছে?

আসুন, 🟢 কিতাবুল মোকাদ্দস, কুরআন এবং যুক্তির আলোকে আমরা এই রহস্যের উত্তর খুঁজি।

প্রথমত: সৃষ্টির শুরুতেই কিতাবুল মোকাদ্দসের প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী

ঈসা মসীহর, কুমারী নারীর গর্ভে জন্মের কথা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল আল্লাহর একটি সুদীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ। সৃষ্টির একদম শুরুতে, যখন প্রথম মানুষ গুনাহ করে আল্লাহর অবাধ্য হলো, তখন আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে (সাপকে) অভিশাপ দেওয়ার সময় একটি রহস্যময় কথা বলেছিলেন।

তাওরাত শরীফএর পয়দায়েশ ৩:১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:

"আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও নারীর বংশের মধ্যে শত্রুতা রাখব। সে তোমার মাথা পিষে দেবে এবং তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করবে।"
(তাওরাত শরীফ, পয়দায়েশ ৩:১৫)

এখানে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে একটি বিষয় লক্ষ্য করুন। হিব্রু ভাষায় এখানে "বংশ" বা "বীর্য" বোঝাতে 'জেরা' (Zera / זֶרַע) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাচীন সংস্কৃতিতে এবং কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সর্বত্রই বংশ সবসময় পিতার দিক থেকে গণনা করা হয়। সন্তানকে বলা হয় "পিতার বংশ"। কিন্তু সৃষ্টির শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা এখানে "পুরুষের বংশ" না বলে বিশেষভাবে "নারীর বংশ" (Zera ha-ishah / זֶרַע הָאִשָּׁה) শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

এটি একটি বিশাল অলৌকিক ইশারা। এর মানে হলো, মানবজাতিকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যে নাজাতদাতা পৃথিবীতে আসবেন, তাঁর জন্মে কোনো পুরুষের বীর্য বা বংশের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি কেবলমাত্র নারীর মাধ্যমেই পৃথিবীতে আসবেন।

এই আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা কুমারী জন্মের সেই মহাপরিকল্পনার বীজ রোপণ করে রেখেছিলেন।

দ্বিতীয়ত: ইশাইয়া নবীর স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী এবং একটি বিশেষ নাম

ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৭০০ বছর আগে ইশাইয়া নবী এই কুমারী জন্মের কথা আরও স্পষ্টভাবে বলে গিয়েছিলেন।

যাবুর শরীফ ও নবীদের কিতাবের অন্তর্গত ইশাইয়া ৭:১৪ আয়াতে লেখা আছে:

"তাই মাবুদ নিজেই তোমাদের একটি নিদর্শন দেবেন: দেখো, একজন কুমারী গর্ভবতী হবেন ও একটি পুত্র প্রসব করবেন এবং তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল।"
(নবীদের কিতাব, ইশাইয়া ৭:১৪)

এখানে হিব্রু ভাষায় "আলমাহ" (Almah / עַלְמָה) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "অবিবাহিত যুবতী" বা "কুমারী"। ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে আমরা খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে অনূদিত গ্রিক সেপ্টুয়াজিন্ট (Septuagint) অনুবাদের দিকে তাকাতে পারি। ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৩০০ বছর আগে ইহুদি পণ্ডিতরা যখন হিব্রু থেকে গ্রিক ভাষায় এই আয়াতটি অনুবাদ করেন, তখন তাঁরা "পার্থেনোস" (Parthenos / παρθένος) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, যার সুস্পষ্ট অর্থ হলো "কুমারী"

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো সেই সন্তানের নাম। তাঁকে বলা হবে "ইম্মানুয়েল" (Immanuel / עִמָּנוּ אֵל)। হিব্রু ভাষায় এর অর্থ হলো "আল্লাহ আমাদের সাথে" (God with us)

ভাবুন, পিতা ছাড়া কুমারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া এই সন্তানের নাম রাখা হচ্ছে "আল্লাহ আমাদের সাথে"। এটি কি শুধুই একটি সুন্দর নাম? নাকি আল্লাহ তায়ালা বোঝাচ্ছেন যে, এই সন্তানের মাধ্যমে স্বয়ং 🟢 কালিমাতুল্লাহ মানুষের মাঝে নেমে আসবেন?

তৃতীয়ত: ইঞ্জিল শরীফে এই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন

হাজার বছর ধরে নবীরা যা বলে আসছিলেন, তা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিলো। ইঞ্জিল শরীফ-এর লূক ১:২৬-৩৫ আয়াতে আমরা দেখি, ফেরেশতা জিব্রাঈল কুমারী মরিয়ম-এর কাছে এসে তাঁকে সুসংবাদ দিচ্ছেন।

মরিয়ম অবাক হয়ে ফেরেশতাকে প্রশ্ন করলেন:

"এটা কীভাবে সম্ভব, কারণ আমি তো কোনো পুরুষকে চিনি না?"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ১:৩৪)

ফেরেশতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উত্তর দিলেন:

"পাক-রূহ তোমার ওপর আসবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত তোমাকে ছায়া দেবেন। এই কারণে যে পবিত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন, তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলা হবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ১:৩৫)

এখানে পাক-রূহ (হিব্রুতে Ruach / רוּחַ) সরাসরি কাজ করেছেন। কোনো মানবিক পিতার প্রয়োজন হয়নি। এই জন্মটি সাধারণ কোনো সৃষ্টি নয়, এটি হলো কালিমাতুল্লাহর মানব রূপ ধারণ করা।

চতুর্থত: কুরআন শরীফের সাক্ষ্য ও সেতুবন্ধন

কিতাবুল মোকাদ্দস-এর এই সত্যকে কুরআন শরীফও একইভাবে সমর্থন করে। কুরআন শরীফে সূরা মরিয়ম ১৯:২০ আয়াতে মরিয়ম ঠিক একই প্রশ্ন করেছিলেন:

"আমাকে কোনো মানুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই, তাহলে কীভাবে আমার সন্তান হবে?"
(সূরা মরিয়ম ১৯:২০)

এবং সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯১ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"এবং সেই নারীর কথা স্মরণ করো যিনি নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিলেন। অতঃপর আমি তাঁর মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে সারা বিশ্বের জন্য নিদর্শন করেছিলাম।"
(সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯১)

কিতাবুল মোকাদ্দস এবং কুরআন উভয়ই একমত যে, ঈসা মসীহ কোনো পিতা ছাড়া, কুমারী গর্ভে, সরাসরি আল্লাহর রূহের হস্তক্ষেপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো নবীর জন্ম এভাবে হয়নি।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, "আদম নবীও তো পিতা-মাতা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছিলেন, তাহলে এটি বিশেষ কেন?"
উত্তরটি সহজ। আদম নবীকে সৃষ্টি করা হয়েছিল ধুলো বা মাটি থেকে, যখন পৃথিবীতে কোনো মানুষের অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু
ঈসা মসীহ জন্মগ্রহণ করেছেন মানবজাতির ভেতরে, একজন নারীর গর্ভে, অথচ কোনো পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়া। এটি একটি সুনির্দিষ্ট ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ। এবং সবচেয়ে বড় কথা, আদম নবীকে কালিমাতুল্লাহ বা রুহুল্লাহ বলা হয়নি।

পঞ্চমত: কুমারীর গর্ভে জন্মের পেছনের যুক্তি ও ধর্মতাত্ত্বিক কারণ

এখন আমরা সেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েছি: আল্লাহ তায়ালা কেন এই পদ্ধতিটি বেছে নিলেন? কেন একজন মানবিক পিতা দেওয়া হলো না?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাওরাত শরীফ-এর গুনাহ ও কুরবানির ধারণার মধ্যে। যখন প্রথম মানুষ আদম গুনাহ করেছিলেন, তখন সেই গুনাহের স্বভাব মানুষের রক্তে ও বংশে প্রবেশ করেছিল। মানব বংশের পিতা হিসেবে আদমের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ সেই পাপের স্বভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার।

কিন্তু মানবজাতিকে এই গুনাহর অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য এমন একজনের প্রয়োজন ছিল, যিনি হবেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। যিনি মানুষের মতোই রক্ত-মাংসের হবেন, কিন্তু তাঁর মধ্যে আদমের সেই জন্মগত গুনাহর ধারা থাকবে না।

পিতার বংশের মাধ্যমে যে গুনাহর ধারা প্রবাহিত হচ্ছিল, ঈসা মসীহের কুমারী নারীর গর্ভে জন্মের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সেই ধারাটি ভেঙে দিলেন।

যেহেতু তাঁর কোনো মানবিক পিতা ছিল না, তাই আদমের গুনাহর স্বভাব তাঁর মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। তিনি জন্ম থেকেই ছিলেন সম্পূর্ণ পবিত্র ও নিষ্পাপ। আর শুধুমাত্র একজন নিষ্পাপ ও পবিত্র সত্তাই পারেন সমস্ত মানবজাতির গুনাহর কাফফারা বা চূড়ান্ত কুরবানি হতে।

অনন্য পরিচয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র

প্রিয় পাঠক, আমরা এই বিশাল আলোচনায় ঈসা মসীহর অনন্য পরিচয় অনুসন্ধান করেছি।

প্রথমত, আমরা দেখেছি তাঁর উপাধিগুলো কালিমাতুল্লাহ এবং রুহুল্লাহ, যা প্রমাণ করে তিনি স্বয়ং আল্লাহর কালাম।
দ্বিতীয়ত, আমরা ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে তাঁর বাস্তব অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি।
তৃতীয়ত, আমরা দেখেছি তাঁর অলৌকিক কার্যাবলী বা মোযেজাগুলো, যেখানে তিনি নিজের কর্তৃত্বে মৃতকে জীবিত করেছেন এবং গুনাহ মাফ করেছেন।
চতুর্থত, আমরা দেখলাম তাঁর কুমারী নারীর গর্ভে জন্ম, যা সাধারণ কোনো মোজেজা নয়, বরং মানবজাতিকে গুনাহ থেকে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর একটি নিখুঁত মহাপরিকল্পনা।

এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ঈসা মসীহ কেবল একজন নবী বা সুসংবাদদাতা বা বার্তাবাহক ছিলেন না। তিনি হলেন সেই চূড়ান্ত নাজাতদাতা, যাঁর জন্য সমস্ত নবী ও কিতাব যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করছিল।

কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। যে কিতাব থেকে আমরা এতগুলো প্রমাণ দিলাম, সেই কিতাবুল মোকাদ্দস কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য? আমাদের কি বিশ্বাস করা উচিত যে এই কিতাবটি পরিবর্তন হয়নি?

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের পরবর্তী মূল ক্যাটাগরি পড়া শুরু করুন:

The Nativity figurines
The Nativity figurines

চার: একটি ব্যতিক্রমী জন্ম

"শুরুতে কালাম ছিলেন, সেই কালাম আল্লাহর সাথে ছিলেন এবং সেই কালাম নিজেই খোদা ছিলেন। তিনি শুরুতে আল্লাহর সাথে ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে; তাঁকে ছাড়া কিছুই সৃষ্টি হয়নি যা সৃষ্টি হয়েছে।"

(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না অধ্যায় ১ আয়াত ১-৩)

আপনার যাত্রা এখানেই শুরু হোক

আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি প্রথম আর্টিকেলটি দিয়ে শুরু করতে। জানুন কেন ঈসা মসীহকে কালিমাতুল্লাহ বলা হয়েছে এবং এই নামের পেছনে কী মহাসত্য লুকিয়ে আছে। পড়ুন, ভাবুন এবং নিজেই বিচার করুন।

The Journey is On LED signage
The Journey is On LED signage

নিউজলেটার

“সাপ্তাহিক ও মাসিক আপনার ইমেলে নিউজলেটার পেতে আপনার নাম ও ইমেল লিখে জমা দিন”