জবুর শরীফে ঈসা মসীহের পরিবচয়

পঞ্চমত: জবুর শরীফ ২২, ক্রুশবিদ্ধকরণের সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা

এখন আমরা কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর একটিতে আসছি। দাউদ নবী ঈসা মসীহের জন্মের প্রায় ১,০০০ বছর আগে যাবুর ২২ লিখেছিলেন। এই জবুরটি পড়লে মনে হয় দাউদ নবী ক্রুশের পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে লিখছেন।

কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দাউদ নবীর সময়ে ক্রুশবিদ্ধকরণ নামে কোনো মৃত্যুদণ্ড পদ্ধতি ছিলই না! ক্রুশবিদ্ধকরণ আবিষ্কৃত হয়েছিল পারস্য সাম্রাজ্যে, খ্রীষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে, অর্থাৎ দাউদ নবীর ৪০০ বছর পরে। তাহলে দাউদ নবী কীভাবে এমন একটি মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন যা তাঁর সময়ে অস্তিত্বই ছিল না?

আসুন, আয়াত by আয়াত পরীক্ষা করি:

ক. প্রথম আয়াত: ক্রুশে ঈসা মসীহের সেই কথা

"আমার আল্লাহ, আমার আল্লাহ, কেন তুমি আমাকে ত্যাগ করেছ?"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:১ আয়াত)

পূর্ণতা: আমরা আমাদের আর্টিকেল "ক্রুশীয় মৃত্যু ও ঐতিহাসিক প্রমাণ" তে দেখেছি যে ঈসা মসীহ ক্রুশের ওপর ঠিক এই কথাই বলেছিলেন:

"এলি, এলি, লামা শাবাক্তানি? অর্থাৎ, আমার আল্লাহ, আমার আল্লাহ, কেন তুমি আমাকে ত্যাগ করেছ?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৭:৪৬ আয়াত)

১,০০০ বছর আগে দাউদ নবী যে কথা লিখেছিলেন, ঈসা মসীহ ক্রুশের ওপর হুবহু সেই কথাই উচ্চারণ করলেন! তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই জবুর উদ্ধৃত করে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন যে, এই মুহূর্তটিই সেই মুহূর্ত যার কথা দাউদ হাজার বছর আগে বলে গিয়েছিলেন?

খ. উপহাস ও ঠাট্টা:

"যারা আমাকে দেখে তারা সবাই আমাকে ঠাট্টা করে। তারা আমাকে মুখ ভেংগায়, আর মাথা নেড়ে বলে, “ও তো মাবুদের উপর ভরসা করে, তাহলে তিনিই ওকে রক্ষা করুন; তিনিই ওকে উদ্ধার করুন, কারণ ওর উপর তিনি সন্তুষ্ট।”
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:৭-৮ আয়াত)

পূর্ণতা:

"যারা সেখান দিয়ে যাচ্ছিল তারা মাথা নেড়ে নেড়ে তাঁকে গালি দিচ্ছিল... প্রধান ইমাম, শরীয়তের আলেম ও বুজুর্গরাও ঠাট্টা করে বলছিলেন, 'সে অন্যদের রক্ষা করেছে, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে পারে না!... সে আল্লাহর ওপর ভরসা করে। আল্লাহ যদি তাকে চান, তাহলে এখনই উদ্ধার করুন!'"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৭:৩৯-৪৩ আয়াত)

দাউদ নবী ১,০০০ বছর আগে ঠাট্টাকারীদের মুখের কথা পর্যন্ত লিখে গিয়েছিলেন! "মাবুদ তাকে উদ্ধার করুক, মাবুদ যদি তাকে ভালোবাসে তাহলে রক্ষা করুক!" ক্রুশের পাশে দাঁড়ানো ইহুদি নেতারা ঠিক এই কথাই বলেছিলেন, তারা জানতো না যে তারা হাজার বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করছে!

গ. হাত ও পা বিদ্ধ করা:

"তারা আমার হাত ও পা বিদ্ধ করেছে।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:১৬ আয়াত)

এটি ক্রুশবিদ্ধকরণের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা। হাত ও পায়ে পেরেক ঠোকা হতো। কিন্তু মনে রাখুন, দাউদ নবীর সময়ে ক্রুশবিদ্ধকরণ আবিষ্কৃত হয়নি! তাহলে তিনি কীভাবে এমন মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন যা তাঁর যুগে অস্তিত্বই ছিল না? একমাত্র ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তায়ালাই তাঁকে ভবিষ্যৎ দেখিয়েছিলেন।

হিব্রু ভাষায় এখানে "কা'আরু" (כָּאֲרוּ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "বিদ্ধ করা" বা "ছিদ্র করা"। কিছু পণ্ডিত এই শব্দটি নিয়ে বিতর্ক করেছেন, কিন্তু মৃত সাগরের গুটিপুস্তকে (5/6HevPs) "কা'আরু" পাঠটিই পাওয়া গেছে, যা "বিদ্ধ করা" অর্থকেই সমর্থন করে।

পূর্ণতা:

"তারা তাঁকে ক্রুশে দিলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:১৮ আয়াত)

পুনরুত্থানের পর ঈসা মসীহ থোমাকে বলেছিলেন:

"তোমার আঙুল এখানে রাখো এবং আমার হাত দেখো। তোমার হাত বাড়াও এবং আমার পাঁজরে দাও।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ২০:২৭ আয়াত)

ঘ. হাড় গোনা যায়:

"আমি আমার সব হাড় গুনতে পারি।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:১৭ আয়াত)

ক্রুশে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীরের ওজনে হাড়গুলো স্থানচ্যুত হতো এবং চামড়ার নিচে স্পষ্টভাবে দেখা যেত। Dr. William Edwards এর JAMA গবেষণাপত্রে (1986, Vol. 255, No. 11, পৃষ্ঠা ১৪৫৫-১৪৬৩) এই শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা আছে।

ঙ. পোশাক ভাগ করা ও লটারি:

"তারা নিজেদের মধ্যে আমার পোশাক ভাগ করে নিচ্ছে এবং আমার কাপড়ের জন্য লটারি করছে।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:১৮ আয়াত)

পূর্ণতা:

"সৈন্যরা যখন ঈসাকে ক্রুশে দিলো, তখন তারা তাঁর কাপড়গুলো নিয়ে চারভাগ করলো, প্রত্যেক সৈন্যের জন্য একভাগ। তাঁর জামাটি ছিল সেলাইবিহীন, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটানা বোনা। তাই তারা পরস্পর বললো, 'এটিকে না ছিঁড়ে, বরং লটারি করে দেখি কে পাবে।'"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:২৩-২৪ আয়াত)

দাউদ নবী ১,০০০ বছর আগে লিখেছিলেন "তারা আমার পোশাক ভাগ করবে" এবং "আমার কাপড়ের জন্য লটারি করবে"। ক্রুশের নিচে রোমান সৈন্যরা ঠিক এই দুটি কাজই করেছিল, পোশাক ভাগ করেছিল আর জামার জন্য লটারি করেছিল। সৈন্যরা জানতো না তারা হাজার বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করছে!

চ. তীব্র তৃষ্ণা:

"আমার শক্তি মাটির টুকরোর মতো শুকিয়ে গেছে এবং আমার জিভ তালুতে আটকে গেছে।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:১৫ আয়াত)

পূর্ণতা:

"এরপর ঈসা জানতেন যে সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। কিতাবের কথা পূর্ণ করতে তিনি বললেন, 'আমার পিপাসা লেগেছে।'"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:২৮ আয়াত)

ছ. জবুর ২২ এর শেষে বিজয়ের ঘোষণা:

"ভবিষ্যৎ বংশধরেরা তাঁর সেবা করবে; আগামী প্রজন্মকে মাবুদের কথা বলা হবে। তারা এসে তাঁর ধার্মিকতার কথা ঘোষণা করবে এমন একটি জাতির কাছে যারা এখনো জন্মায়নি, কারণ তিনি এটি সম্পন্ন করেছেন।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ২২:৩০-৩১ আয়াত)

"তিনি এটি সম্পন্ন করেছেন" হিব্রু ভাষায় "কি আসাহ" (כִּי עָשָׂה), যা ইঞ্জিল শরীফে ঈসা মসীহর শেষ কথা "তেতেলেস্তাই" (সম্পন্ন হলো) এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত! ১,০০০ বছর আগে দাউদ নবী যাবুর ২২ এর শেষে সেই একই বিজয়ের ঘোষণা লিখে গিয়েছিলেন যা ঈসা মসীহ ক্রুশের ওপর থেকে ঘোষণা করেছিলেন!

ষষ্ঠত: জবুর শরীফ ১৬:১০, পুনরুত্থানের ভবিষ্যদ্বাণী

দাউদ নবী শুধু মসীহর মৃত্যুর কথাই বলেননি, তাঁর পুনরুত্থানের কথাও বলে গেছেন:

"কারণ তুমি আমার প্রাণকে কবরে ফেলে রাখবে না, তোমার পবিত্র ব্যক্তিকে পচতে দেবে না।"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ১৬:১০ আয়াত)

পিতর পঞ্চাশত্তমী দিবসে (পেন্টেকোস্ট) তাঁর বিখ্যাত ভাষণে এই আয়াতটি সরাসরি ঈসা মসীহের পুনরুত্থানের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন:

"দাউদ নিজের কথা বলেননি, কারণ দাউদ তো মারা গেছেন এবং তাঁকে দাফন করা হয়েছে এবং তাঁর কবর আজও আমাদের মাঝে আছে। কিন্তু তিনি নবী ছিলেন... তাই তিনি আগে থেকেই মসীহর পুনরুত্থানের কথা বলেছিলেন যে, তাঁকে কবরে ফেলে রাখা হবে না এবং তাঁর দেহ পচবে না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ২:২৯-৩১ আয়াত)

পিতরের যুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। দাউদ নবী নিজে মারা গেছেন এবং তাঁর কবর সবার জানা। তাঁর দেহ পচে গেছে। তাহলে "তোমার পবিত্র ব্যক্তিকে পচতে দেবে না" কার কথা? দাউদের নয়, মসীহর! আর ঈসা মসীহর কবর খালি, তাঁর দেহ পচেনি, কারণ তিনি তৃতীয় দিনে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন!

সপ্তমত: জবুর শরীফ ১১০, মসীহর রাজত্ব ও চিরস্থায়ী ইমামতি

এটি কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত জবুর। ঈসা মসীহ নিজেও এই জবুর উদ্ধৃত করে ইহুদি নেতাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

"মাবুদ আমার মনিবকে বললেন, 'তুমি আমার ডান পাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পায়ের তলায় রাখি।'"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ১১০:১ আয়াত)

ঈসা মসীহ এই আয়াত উদ্ধৃত করে ইহুদি নেতাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন:

"দাউদ তাঁকে (মসীহকে) মনিব বলেন। তাহলে মসীহ কীভাবে তাঁর (দাউদের) বংশধর হন?"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২২:৪৫ আয়াত)

ঈসা মসীহ এই প্রশ্নের মাধ্যমে দেখাচ্ছেন যে, মসীহ শুধু দাউদের বংশধর (মানুষ) নন, তিনি দাউদের "মনিব" অর্থাৎ তিনি দাউদের চেয়ে অনেক বড়। তিনি একজন সাধারণ মানুষ বা নবী নন, তিনি ঐশ্বরিক মর্যাদার অধিকারী।

একই জবুরে আরেকটি শক্তিশালী ভবিষ্যদ্বাণী আছে:

"মাবুদ কসম খেয়েছেন, “তুমি চিরকালের জন্য মাল্‌কীসিদ্দিকের মত ইমাম।” এই বিষয়ে তিনি তাঁর মন বদলাবেন না।'"
(জবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ১১০:৪ আয়াত)

আমরা আগের আর্টিকেলে "তাওরাত শরীফে মসীহের ছায়া" তে মাল্‌কীসিদ্দিকের ঘটনা বিস্তারিত দেখেছি। তিনি ছিলেন একাধারে রাজা ও যাজক (ইমাম)। দাউদ নবী বলছেন, মসীহ হবেন মাল্‌কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে "চিরকালের ইমাম"। অর্থাৎ মসীহর ইমামতি লেবীয় ইমামদের মতো সীমিত ও অস্থায়ী নয়, এটি চিরস্থায়ী।

পূর্ণতা:

"কিন্তু ঈসা চিরকাল জীবিত আছেন বলে তাঁর ইমাম-পদ কখনও বদলাবে না। এইজন্য যারা তাঁর মধ্য দিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে আসে তাদের তিনি সম্পূর্ণ ভাবে নাজাত করতে পারেন, কারণ তাদের পক্ষে অনুরোধ করবার জন্য তিনি সব সময় জীবিত আছেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ইব্রীয় ৭:২৪-২৫ আয়াত)

অষ্টমত: জাকারিয়া নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, ত্রিশ রূপা ও বিদ্ধ করা

জাকারিয়া নবী ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৫০০ বছর আগে দুটি চমৎকার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:

ক. ত্রিশ রূপার মুদ্রা:

"আমি তাদের বললাম, 'তোমাদের যদি ভালো মনে হয় তবে আমার মজুরি দাও, নইলে থাক।' তখন তারা আমার মজুরি হিসেবে ত্রিশটি রূপার মুদ্রা মেপে দিলো। মাবুদ আমাকে বললেন, 'ওগুলো কুমোরের কাছে ফেলে দাও, ঐ চমৎকার দাম যে দামে তারা আমাকে মূল্যায়ন করেছে!' তাই আমি সেই ত্রিশটি রূপার মুদ্রা নিয়ে মাবুদের ঘরে কুমোরের কাছে ফেলে দিলাম।"
(নবীদের কিতাব (সখরিয়), জাকারিয়া ১১:১২-১৩ আয়াত)

এখানে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে:
১. মূল্য: ত্রিশটি রূপার মুদ্রা।
২. মুদ্রাগুলো ফেলে দেওয়া হবে।
৩. কুমোরের কাছে ফেলা হবে।

পূর্ণতা:

"তখন বারো সাহাবীর একজন, যার নাম ইয়াহুদা ইস্কারিওত, প্রধান ইমামদের কাছে গিয়ে বললো, 'আমি যদি তাঁকে তোমাদের হাতে ধরিয়ে দিই তাহলে আমাকে কী দেবে?' তারা তাকে ত্রিশটি রূপার মুদ্রা দিলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৬:১৪-১৫ আয়াত)

"তখন ইয়াহুদা সেই ত্রিশটি রূপার মুদ্রা ইবাদতখানায় ছুড়ে ফেলে দিলো... প্রধান ইমামরা সেই মুদ্রাগুলো নিয়ে বললেন, 'এটি রক্তের দাম, এটি ইবাদতখানার তহবিলে রাখা যাবে না।' তাই তাঁরা পরামর্শ করে সেই টাকা দিয়ে কুমোরের জমি কিনলেন, বিদেশীদের কবরস্থান হিসেবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৭:৩-৭ আয়াত)

তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে: (১) ত্রিশটি রূপার মুদ্রা, (২) মুদ্রাগুলো ইবাদতখানায় ফেলে দেওয়া হয়েছে, এবং (৩) সেই টাকায় কুমোরের জমি কেনা হয়েছে। ৫০০ বছর আগে লেখা ভবিষ্যদ্বাণীতে মুদ্রার সংখ্যা, ফেলে দেওয়ার জায়গা এবং টাকার শেষ গন্তব্য পর্যন্ত সঠিক!

খ. "তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে তাঁর দিকে তাকাবে":

"তারা আমার দিকে তাকাবে, যাঁকে তারা বিদ্ধ করেছে। তারা তাঁর জন্য শোক করবে যেমন একমাত্র সন্তানের জন্য শোক করা হয় এবং তাঁর জন্য তিক্ত কান্না করবে যেমন প্রথমজাতের জন্য কান্না করা হয়।"
(নবীদের কিতাব (সখরিয়), জাকারিয়া ১২:১০ আয়াত)

পূর্ণতা:

"কিন্তু একজন সৈন্য বর্শা দিয়ে তাঁর পাঁজরে খোঁচা দিলো (বিদ্ধ করলো)।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:৩৪ আয়াত)

"কিতাবের আরেকটি কথাও পূর্ণ হলো: 'তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে তাঁর দিকে তাকাবে।'"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:৩৭ আয়াত)

ইউহোন্না নিজেই বলছেন, ক্রুশে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করার ঘটনাটি জাকারিয়া নবীর ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা। এবং লক্ষ্য করুন, জাকারিয়া বলছেন "আমার দিকে তাকাবে" (হিব্রু: אֵלַי / elai), অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই বলছেন "তারা আমাকে বিদ্ধ করেছে"! আল্লাহকে বিদ্ধ করা কীভাবে সম্ভব? সম্ভব যদি আল্লাহর কালাম (কালিমাতুল্লাহ) মানব রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে এসে থাকেন!

প্রিয় বন্ধু, নবীদের কলমে আঁকা একটি নিখুঁত মুখচ্ছবি, এটি কার?

প্রিয় পাঠক, আমরা আজকে যাবুর শরীফ ও নবীদের কিতাব থেকে মসীহ সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো দেখলাম, সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরি:

১. জন্মস্থান: বেথলেহেম (মিকাহ্ ৫:২)। পূর্ণতা: ঈসা মসীহ বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
২. কুমারীর গর্ভে জন্ম: ইশাইয়া ৭:১৪। পূর্ণতা: তিনি কুমারী মরিয়মের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
৩. নাম ও চরিত্র: বিস্ময়কর পরামর্শদাতা, শক্তিশালী আল্লাহ, চিরস্থায়ী পিতা, শান্তির রাজপুত্র (ইশাইয়া ৯:৬-৭)।
৪. দুঃখভোগ ও কুরবানি: প্রত্যাখ্যান, নীরবতা, বিদ্ধ হওয়া, গুনাহ বহন, দুষ্টদের সাথে মৃত্যু, ধনীদের মতো দাফন (ইশাইয়া ৫৩)।
৫. ক্রুশবিদ্ধকরণের বিস্তারিত বর্ণনা: হাত-পা বিদ্ধ, উপহাস, পোশাক ভাগ, লটারি, তৃষ্ণা (জবুর ২২)।
৬. পুনরুত্থান: কবরে ফেলে রাখা হবে না, দেহ পচবে না (জবুর ১৬:১০)।
৭. চিরস্থায়ী ইমামতি ও রাজত্ব: মাল্‌কীসিদ্দিকের রীতিতে চিরকালের ইমাম (জবুর ১১০)।
৮. ত্রিশ রূপায় বিক্রি: মুদ্রার সংখ্যা, ফেলে দেওয়া, কুমোরের জমি (জাকারিয়া ১১:১২-১৩)।
৯. বিদ্ধ করা: বর্শা দিয়ে পাঁজরে বিদ্ধ (জাকারিয়া ১২:১০)।

ভিন্ন ভিন্ন নবী, ভিন্ন ভিন্ন সময়, ভিন্ন ভিন্ন জায়গা। কিন্তু তাঁদের সকলের কলম থেকে একটিই মুখচ্ছবি ফুটে উঠেছে: ঈসা মসীহ। জন্মস্থান থেকে মৃত্যুর পদ্ধতি, উপহাসকারীদের কথা থেকে কবরের অবস্থা, ত্রিশ রূপার মুদ্রা থেকে কুমোরের জমি, সবকিছু শত শত বছর আগে লেখা হয়েছিল এবং ঈসা মসীহর জীবনে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে।

এটি মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি শুধুমাত্র সেই আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব যিনি শুরু থেকেই শেষ জানেন।

পরবর্তী লেখায় আমরা দেখব দানিয়েল নবী কীভাবে মসীহের আগমনের সঠিক সময়কাল গণনা করে দিয়েছিলেন এবং সেই গণনা ঐতিহাসিকভাবে কীভাবে ঈসা মসীহর সময়কালের সাথে হুবহু মিলে যায়।

পড়ুন: "মসীহের আগমনের সময়কাল: দানিয়েল নবীর সত্তর সপ্তাহের গাণিতিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ"।

আপনার জন্য একটি প্রশ্ন

আপনি এইমাত্র দেখলেন কীভাবে শত শত বছর আগে বিভিন্ন নবী ঈসা মসীহের জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি ঘটনা নিখুঁতভাবে বর্ণনা করে গিয়েছিলেন।

এখন আপনাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে:

এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কি কাকতালীয়? নাকি এগুলো প্রমাণ করে যে ঈসা মসীহ সত্যিই আল্লাহর প্রতিশ্রুত নাজাতদাতা?

ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:

"তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “আমি যখন তোমাদের সংগে ছিলাম তখন বলেছিলাম, মূসার তৌরাত শরীফে, নবীদের কিতাবে ও জবুর শরীফের মধ্যে আমার বিষয়ে যে যে কথা লেখা আছে তার সব পূর্ণ হতেই হবে।"”
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৪:৪৪ আয়াত)

সত্যিই পূর্ণ হয়েছে। প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি বিবরণ, প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী।

সম্পর্কিত বিষয়গুলো পড়ুন:

"মসীহের আগমনের সময়কাল: দানিয়েল নবীর সত্তর সপ্তাহের গাণিতিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ"
আগের কিতাবগুলোতে নবীরা কার ছবি এঁকে গিয়েছিলেন?

প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।

আপনার মনের অনুভুতি পাঠান

আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।