পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে ঈসা মসীহের স্পষ্ট প্রতীক
নবমত: পাসওভারের মেষশাবক, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক (হিজরত ১২)
আমরা আগের আর্টিকেলে (প্রাচীন কুরবানির ব্যবস্থা) পাসওভারের ঘটনা বিস্তারিত দেখেছি। কিন্তু এখন ভবিষ্যদ্বাণীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি ঘটনাকে খুঁটিনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব।
ক. মেষশাবক হতে হবে "খুঁতহীন" (নিখুঁত):
"তোমাদের মেষশাবক হতে হবে খুঁতহীন, এক বছর বয়সী পুরুষ মেষশাবক।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৫ আয়াত)
হিব্রু ভাষায় "তামিম" (תָּמִים) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "সম্পূর্ণ নিখুঁত", "কোনো দোষ নেই"। কুরবানির পশুতে সামান্যতম খুঁতও গ্রহণযোগ্য ছিল না। কোনো দাগ নেই, কোনো রোগ নেই, কোনো অসম্পূর্ণতা নেই।
পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। তাঁর মধ্যে কোনো গুনাহ ছিল না। পিলাত নিজেই তিনবার ঘোষণা করেছিলেন:
"আমি এই লোকের মধ্যে কোনো দোষ পাই না।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৮:৩৮ আয়াত)
পিতর লিখেছেন:
"তিনি কোনো গুনাহ করেননি এবং তাঁর মুখে কোনো ছলনা পাওয়া যায়নি।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ২:২২ আয়াত)
এবং পিতর আরও স্পষ্টভাবে পাসওভারের মেষশাবকের সাথে সংযোগ করেছেন:
"তোমরা জানো, তোমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে চলে আসা অসার জীবনযাত্রা থেকে তোমাদের মুক্ত করা হয়েছে সোনা-রূপার মতো ক্ষয়শীল জিনিস দিয়ে নয়, বরং মসীহর মূল্যবান রক্তের দ্বারা, যিনি ছিলেন খুঁতহীন ও দোষমুক্ত মেষশাবকের মতো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ পিতর ১:১৮-১৯ আয়াত)
পাসওভারের মেষশাবক "খুঁতহীন" হতে হবে, ঈসা মসীহ ছিলেন "নিষ্পাপ"। পাসওভারের মেষশাবকের রক্ত ইসরাইলকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিল, ঈসা মসীহর রক্ত সমস্ত মানবজাতিকে চিরকালের মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।
খ. মেষশাবকের কোনো হাড় ভাঙা যাবে না:
"তার কোনো হাড় ভাঙা যাবে না।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৪৬ আয়াত)
পূর্ণতা: ক্রুশে রোমান সৈন্যরা অন্য দুজন অপরাধীর পা ভেঙেছিল (মৃত্যু ত্বরান্বিত করার জন্য), কিন্তু ঈসা মসীহর কাছে এসে দেখলো তিনি ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, তাই তারা তাঁর পা ভাঙলো না।
"সৈন্যরা এসে প্রথম জনের পা ভাঙলো, তারপর অন্যজনের যে ঈসার সাথে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঈসার কাছে এসে দেখলো তিনি ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, তাই তারা তাঁর পা ভাঙলো না... কারণ এসব ঘটলো যেন কিতাবের কথা পূর্ণ হয়: 'তাঁর কোনো হাড় ভাঙা হবে না।'"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:৩২-৩৬ আয়াত)
১,৫০০ বছর আগের একটি ছোট্ট নিয়ম ("হাড় ভাঙা যাবে না") ক্রুশের ওপর অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হচ্ছে! রোমান সৈন্যরা জানতো না যে তারা একটি প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করছে। কিন্তু আল্লাহ জানতেন।
গ. কুরবানির সঠিক সময় (নিসান মাসের ১৪ তারিখ):
"তোমরা এই মাসের (নিসান মাসের) ১০ তারিখে মেষশাবক আলাদা করে রাখবে... ১৪ তারিখ সন্ধ্যায় সমস্ত ইসরাইল জামাত সেটিকে কুরবানি করবে।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৩-৬ আয়াত)
পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ঠিক নিসান মাসের ১০ তারিখে জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিলেন (যেদিন মেষশাবক আলাদা করে রাখার দিন) এবং নিসান মাসের ১৪ তারিখে ক্রুশে কুরবানি হয়েছিলেন (যেদিন পাসওভারের মেষশাবক কুরবানি হতো)!
তারিখও হুবহু মিলে যাচ্ছে! ১,৫০০ বছর আগে আল্লাহ যে তারিখে পাসওভারের মেষশাবক কুরবানি করতে বলেছিলেন, ঠিক সেই তারিখেই ঈসা মসীহ ক্রুশে কুরবানি হলেন! এটি কি মানুষের পরিকল্পনা, নাকি আল্লাহর সুনিপুণ পূর্বনির্ধারণ?
ঘ. রক্ত দরজায় লাগানো:
"তারপর তার কিছু রক্ত নিয়ে যে ঘরে তারা সেটি খাবে সেই ঘরের দরজার দুই পাশে ও ওপরে লাগাবে।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:৭ আয়াত)
এখানে রক্ত লাগানোর জায়গাটি লক্ষ্য করুন: দরজার দুই পাশে এবং ওপরে। আপনি যদি এই তিনটি বিন্দু কল্পনা করেন (দুই পাশে এবং ওপরে), তাহলে এটি একটি ক্রুশের আকৃতি তৈরি করে!
১,৫০০ বছর আগে ইসরাইলীরা যখন তাদের দরজায় রক্ত লাগাচ্ছিল, তারা জানতো না যে তারা ক্রুশের আকৃতিতে রক্ত লাগাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ জানতেন যে ভবিষ্যতে তাঁর মেষশাবক ঠিক এই আকৃতির ক্রুশে রক্ত ঝরাবেন।
ঙ. "আমি যখন সেই রক্ত দেখব":
"সেই রক্ত তোমাদের চিহ্ন হবে। আমি যখন সেই রক্ত দেখব, তখন তোমাদের ওপর দিয়ে পার হয়ে যাব।"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১২:১৩ আয়াত)
আল্লাহ মানুষের আমল দেখেননি, ভালো কাজের তালিকা দেখেননি, তাকওয়া দেখেননি। তিনি বললেন "আমি রক্ত দেখব।" মৃত্যুর ফেরেশতা যখন এসেছিল, সে ঘরের ভেতরে কে আছে তা দেখেনি। সে শুধু দরজায় রক্ত আছে কি না তা দেখেছে। যেখানে রক্ত ছিল, সে পার হয়ে গেছে। যেখানে রক্ত ছিল না, সেখানে মৃত্যু ঢুকেছে। ঠিক তেমনি, আল্লাহর বিচারের দিনে মানুষের আমল নয়, ঈসা মসীহর রক্ত হবে একমাত্র রক্ষাকবচ।
দশমত: তামার সর্প, ক্রুশের আশ্চর্য প্রতীক (গণনাপুস্তক ২১:৪-৯)
এটি তাওরাত শরীফ-এর একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ঘটনা যা সরাসরি ঈসা মসীহর ক্রুশের দিকে ইঙ্গিত করে।
বনি-ইসরাইল মরুভূমিতে যাত্রার সময় আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করলো। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্যে বিষাক্ত সাপ পাঠালেন এবং অনেক মানুষ সাপের কামড়ে মারা গেল:
"তখন মাবুদ সাপ পাঠালেন; সেগুলো মানুষদের দংশন করলো এবং অনেক ইসরাইলী মারা গেল।"
(তাওরাত শরীফ (গণনাপুস্তক), শুমারী ২১:৬ আয়াত)
মানুষ মূসা নবীর কাছে এসে তাওবা করলো। আল্লাহ তখন মূসাকে একটি অদ্ভুত নির্দেশ দিলেন:
"মাবুদ মূসাকে বললেন, 'একটি সাপ বানিয়ে একটি খুঁটির ওপর তুলে ধরো। যে কেউ দংশিত হয়ে সেটির দিকে তাকাবে, সে বেঁচে যাবে।' মূসা তামা দিয়ে একটি সাপ বানিয়ে খুঁটির ওপর তুলে ধরলেন। যখন কেউ সাপের কামড় খেতো, সে তামার সাপটির দিকে তাকাতো এবং বেঁচে যেতো।"
(তাওরাত শরীফ (গণনাপুস্তক), শুমারী ২১:৮-৯ আয়াত)
এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ্য করুন:
ক. সাপ ছিল অভিশাপের প্রতীক (পয়দায়েশ ৩:১৪ এ আল্লাহ সাপকে অভিশাপ দিয়েছিলেন)। গুনাহও একটি অভিশাপ।
খ. তামার তৈরী সাপকে একটি খুঁটির ওপর "তুলে ধরা" হয়েছিল। ঈসা মসীহও ক্রুশের ওপর "তুলে ধরা" হয়েছিলেন।
গ. সুস্থ হওয়ার জন্য মানুষকে কোনো কাজ করতে হয়নি, কোনো ওষুধ খেতে হয়নি, কোনো আমল করতে হয়নি। শুধুমাত্র তাকাতে হয়েছিল। শুধু বিশ্বাসের সাথে তাকানোই যথেষ্ট ছিল।
ঘ. যে তাকিয়েছে সে বেঁচেছে, যে তাকায়নি সে মারা গেছে। কোনো মাঝামাঝি পথ ছিল না।
এখন সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ। ঈসা মসীহ নিজেই এই ঘটনাটি উদ্ধৃত করে নিজের ক্রুশীয় মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:
"মূসা যেমন মরুভূমিতে সাপকে উঁচুতে তুলে ধরেছিলেন, ইবনুল আদমকেও (মানবপুত্রকে) তেমনি তুলে ধরতে হবে, যেন যে কেউ তাঁর ওপর ঈমান আনে সে অনন্ত জীবন পায়।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৩:১৪-১৫ আয়াত)
ঈসা মসীহ নিজেই বলছেন, মূসার তামার সাপ তাঁর ক্রুশের প্রতীক ছিল! মরুভূমিতে মানুষ সাপের কামড়ে (গুনাহর অভিশাপে) মারা যাচ্ছিল। সুস্থ হওয়ার একমাত্র পথ ছিল তামার সাপের দিকে তাকানো (ঈমানের সাথে ক্রুশের দিকে তাকানো)। কোনো আমল নয়, কোনো ওষুধ নয়, শুধু বিশ্বাসের দৃষ্টি। ঠিক তেমনি, গুনাহর অভিশাপ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ঈসা মসীহর ক্রুশের দিকে ঈমানের সাথে তাকানো।
পৌল এই সংযোগটিকে আরও স্পষ্ট করেছেন:
"মসীহ আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে শরীয়তের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন। কারণ কিতাবে লেখা আছে, 'যে ব্যক্তিকে কাঠে (খুঁটিতে) ঝোলানো হয় সে অভিশপ্ত।'"
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৩:১৩ আয়াত)
তামার সাপ ছিল অভিশাপের প্রতীক যা খুঁটির ওপর তোলা হয়েছিল। ঈসা মসীহ আমাদের গুনাহর অভিশাপ নিজের ওপর তুলে নিয়ে ক্রুশে (কাঠে) ঝুলেছিলেন। তিনি অভিশপ্ত হলেন যেন আমরা আশীর্বাদ পাই। তিনি মরলেন যেন আমরা বাঁচি।
একাদশতম: মূসা নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, "আমার মতো একজন নবী" (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫-১৯)
তাওরাত শরীফএর শেষ কিতাবে মূসা নবী তাঁর বিদায়ী ভাষণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:
"তোমাদের আল্লাহ মাবুদ তোমাদের নিজেদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবী তোমাদের জন্য দাঁড় করাবেন। তোমরা তাঁর কথা শুনবে।"
(তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫ আয়াত)
আল্লাহ তায়ালা নিজেও এই ভবিষ্যদ্বাণী নিশ্চিত করেছেন:
"আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার (মূসার) মতো একজন নবী তাদের জন্য দাঁড় করাব। আমি আমার কথা তাঁর মুখে দেব এবং আমি তাঁকে যা আদেশ করব তিনি তা-ই তাদের বলবেন। যে কেউ আমার সেই কথা শুনবে না যা তিনি আমার নামে বলবেন, তার কাছ থেকে আমি নিজে হিসাব নেব।"
(তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৮-১৯ আয়াত)
"আমার মতো একজন নবী" বলতে কী বোঝায়? আসুন বিস্তারিতভাবে তুলনা করে বুঝার চেষ্টা করি:
ক. মধ্যস্থতাকারী (Mediator):
মূসা ছিলেন আল্লাহ ও বনি-ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে শরীয়ত এনে মানুষকে দিয়েছিলেন। ঈসা মসীহও আল্লাহ ও মানবজাতির মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী:
"কারণ আল্লাহ একজন এবং আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীও একজন, তিনি হলেন মানুষ মসীহ ঈসা।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ১ তীমথিয় ২:৫ আয়াত)
খ. শরীয়তদাতা (Lawgiver):
মূসার মাধ্যমে আল্লাহ পুরাতন নিয়ম (তাওরাত) দিয়েছিলেন। ঈসা মসীহর মাধ্যমে আল্লাহ নতুন নিয়ম দিয়েছেন:
"কারণ শরীয়ত মূসার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রহমত ও সত্য ঈসা মসীহর মাধ্যমে এসেছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১৭ আয়াত)
গ. মুক্তিদাতা (Deliverer):
মূসা বনি-ইসরাইলকে মিশরের শারীরিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন। ঈসা মসীহ সমস্ত মানবজাতিকে গুনাহের আধ্যাত্মিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছেন:
"মসীহ আমাদের স্বাধীনতা দেয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের স্বাধীন করেছেন। তাই স্থির হয়ে দাঁড়াও এবং আবার দাসত্বের জোয়ালে বাঁধা পড়ো না।"
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৫:১ আয়াত)
ঘ. রক্তের মাধ্যমে নিয়ম স্থাপন:
মূসা পশুর রক্ত ছিটিয়ে পুরাতন নিয়ম স্থাপন করেছিলেন:
"মূসা সেই রক্ত নিয়ে মানুষদের ওপর ছিটিয়ে বললেন, 'এই হলো সেই নিয়মের রক্ত যা মাবুদ তোমাদের সাথে করেছেন।'"
(তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ২৪:৮ আয়াত)
ঈসা মসীহ নিজের রক্ত দিয়ে নতুন নিয়ম স্থাপন করেছেন:
"এই পেয়ালা আমার রক্তে নতুন নিয়ম, যা তোমাদের জন্য ঢালা হচ্ছে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২২:২০ আয়াত)
ঙ. আল্লাহর সাথে মুখোমুখি কথা বলা:
মূসা আল্লাহর সাথে "মুখোমুখি" হয়ে কথা বলতেন (তাওরাত শরীফ, দ্বিতীয় বিবরণ ৩৪:১০)। ঈসা মসীহ শুধু মুখোমুখি কথাই বলেননি, তিনি নিজেই সেই কালিমাতুল্লাহ:
"কেউ কখনো আল্লাহকে দেখেনি। একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার হৃদয়ের কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১৮ আয়াত)
চ. শিশু অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি:
মূসার জন্মের সময় ফেরাউন ইসরাইলী শিশুদের হত্যা করার আদেশ দিয়েছিল (তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ১:২২)। ঈসা মসীহের জন্মের সময়ও রাজা হেরোদ বেথলেহেমের সমস্ত শিশুকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিল (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২:১৬)।
ছ. মিশরে আশ্রয়:
মূসা জীবন বাঁচাতে মিশর থেকে পালিয়েছিলেন (তাওরাত শরীফ (যাত্রাপুস্তক), হিজরত ২:১৫)। ঈসা মসীহকেও শিশু অবস্থায় মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হেরোদের হাত থেকে বাঁচাতে (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২:১৩-১৪)।
ইঞ্জিল শরীফে পিতর সরাসরি মূসার এই ভবিষ্যদ্বাণী ঈসা মসীহের ওপর প্রয়োগ করেছেন:
"মূসা বলেছিলেন, 'তোমাদের আল্লাহ মাবুদ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবী তোমাদের জন্য দাঁড় করাবেন। তিনি তোমাদের যা কিছু বলবেন তোমরা সব বিষয়ে তাঁর কথা শুনবে।'"
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ৩:২২ আয়াত)
মূসা ও ঈসা মসীহর মধ্যে এতগুলো মিল কি কাকতালীয়? মধ্যস্থতাকারী, শরীয়তদাতা, মুক্তিদাতা, রক্তের নিয়ম, মুখোমুখি সম্পর্ক, শিশু অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি, মিশরে আশ্রয়, প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে মিলে যাচ্ছে। মূসা নিজেই বলে গিয়েছিলেন, "আমার মতো একজন আসবেন।" আর সেই একজন হলেন ঈসা মসীহ।
তহলে তাওরাতের প্রতিটি পাতা কার মুখের দিকে ইঙ্গিত করছে?
প্রিয় পাঠক, আমরা আজকে তাওরাত শরীফ-এর পাঁচটি কিতাব থেকে মোট ১১টি ছায়া, প্রতীক ও ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছি:
১. পয়দায়েশ ৩:১৫ এ "নারীর বংশ" হিসেবে প্রথম প্রতিশ্রুতি (কুমারীর গর্ভে জন্ম, ক্রুশ ও পুনরুত্থান)।
২. পয়দায়েশ ৩:২১ এ আল্লাহর প্রথম কুরবানি (রক্ত ছাড়া ক্ষমা নেই)।
৩. হাবিলের রক্তের কুরবানি (নিখুঁত ও প্রথমজাত)।
৪. নূহের নৌকা (মুক্তির একমাত্র পথ)।
৫. মাল্কীসিদ্দিক (ধার্মিকতার রাজা, শান্তির রাজা, চিরস্থায়ী ইমাম)।
৬. ইব্রাহিম ও ইসাহাকের কুরবানি (একমাত্র পুত্র, কাঠ বহন, বিকল্প কুরবানি, মোরিয়া পাহাড়, তৃতীয় দিন)।
৭. ইয়াকুবের ভবিষ্যদ্বাণী (মসীহ ইয়াহুদা গোত্র থেকে, সমস্ত জাতি তাঁর বাধ্য হবে)।
৮. ইউসুফের জীবন (পিতার প্রিয় পুত্র, প্রত্যাখ্যান, রূপার মুদ্রা, মিথ্যা অভিযোগ, দুজন অপরাধী, সর্বোচ্চ ক্ষমতা, ক্ষমা)।
৯. পাসওভারের মেষশাবক (খুঁতহীন, হাড় না ভাঙা, নিসান ১৪, রক্তের মাধ্যমে মুক্তি)।
১০. তামার সাঁপ (খুঁটিতে তুলে ধরা, শুধু তাকানোতেই মুক্তি)।
১১. মূসার ভবিষ্যদ্বাণী ("আমার মতো একজন নবী")।
১১টি ভিন্ন ঘটনা, ১১টি ভিন্ন প্রেক্ষাপট, কিন্তু সবগুলো একটিই মুখের দিকে ইঙ্গিত করছে: ঈসা মসীহ। এটি কি কাকতালীয়? নাকি এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির শুরু থেকেই ঈসা মসীহের আগমনের পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন এবং তাওরাত শরীফের প্রতিটি পাতায় সেই পরিকল্পনার ইঙ্গিত লুকিয়ে রেখেছিলেন?
ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:
"তোমরা পাক-কিতাব অনুসন্ধান করো, কারণ তোমরা মনে করো তাতে তোমাদের অনন্ত জীবন আছে। আর সেই কিতাবই আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৫:৩৯ আয়াত)
পুনরুত্থানের পর তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন:
"তিনি মূসার কিতাব (তাওরাত) ও সমস্ত নবীদের কিতাব থেকে শুরু করে পাক-কিতাবের সমস্ত জায়গায় তাঁর নিজের সম্পর্কে যা লেখা আছে তা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৪:২৭ আয়াত)
প্রিয় পাঠক বন্ধু, পরবর্তী অংশে আমরা যাবুর শরীফ ও অন্যান্য নবীদের কিতাবে ঈসা মসীহ সম্পর্কে আরও বিস্ময়কর ও নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী দেখব, যেখানে তাঁর জন্মস্থান, দুঃখভোগ, মৃত্যু, পুনরুত্থান এবং চিরস্থায়ী রাজত্ব সম্পর্কে শত শত বছর আগে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে।
পড়ুন: "যাবুর শরীফ ও অন্যান্য কিতাবে মসীহ"।
আপনার জন্য একটি প্রশ্ন
আপনি কি এই ১১ টি ছায়া বা প্রতীক ও ভবিষ্যদ্বাণী দেখেও বিশ্বাস করেন যে এগুলো কাকতালীয়?
যদি একটি মানুষের জীবনে মাত্র ২-৩টি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হতো, তাহলে হয়তো কাকতালীয় বলা যেত। কিন্তু ১১টি? এবং এগুলো শুধু তাওরাত শরীফ থেকে! যাবুর শরীফ ও নবীদের কিতাবে আরও শত শত ভবিষ্যদ্বাণী আছে!
ঈসা মসীহ নিজেই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন:
"এসো, আমার কাছে এসো, তোমরা সবাই যারা ক্লান্ত ও বোঝা বহন করছ, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১১:২৮ আয়াত)
পড়া চালিয়ে যান
প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।
আপনার মনের অনুভুতি এখনই পাঠান
আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।
কালিমাতুল্লাহ
সত্য অনুসন্ধানের পথে আপনাকে স্বাগতম
হোম-ব্লগ ও প্রবন্ধ-প্রশ্নোত্তর-সম্পদ-যোগাযোগ
যোগাযোগ
salam@alkalimatullah.org
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত
© 2026 কালিমাতুল্লাহ-ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সত্য অনুসন্ধান কেন্দ্র।
সত্য অনুসন্ধান করুন, কারণ সত্য আপনাকে মুক্ত করবে।