ভবিষ্যদ্বাণী
পূরণের সম্ভাব্যতা
৩০০+ ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়া কি গাণিতিকভাবে সম্ভব?
একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে শুরু করি
ধরুন, আপনার বন্ধু আপনাকে বললো, "আগামীকাল সকালে ঠিক ৭:১৫ মিনিটে তোমার বাড়ির সামনে একটি লাল রঙের গাড়ি এসে দাঁড়াবে এবং গাড়ির চালক নীল শার্ট পরে থাকবে।" পরদিন সকালে ঠিক ৭:১৫ মিনিটে সত্যিই একটি লাল গাড়ি এসে দাঁড়ালো এবং চালক নীল শার্ট পরে ছিলেন। আপনি হয়তো ভাবতেন, "কাকতালীয় হতে পারে।"
কিন্তু যদি আপনার বন্ধু আরও বলতো, "গাড়িটির নম্বর প্লেটে ৭৭ থাকবে, চালকের বাম হাতে একটি ঘড়ি থাকবে, গাড়িতে তিনটি যাত্রী থাকবে, একজন যাত্রী সবুজ ব্যাগ বহন করবে, গাড়িটি ঠিক ৩ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে চলে যাবে..." আর এই সবকটি বিষয় যদি হুবহু মিলে যেত, তখন আপনি কি এটিকে কাকতালীয় বলতেন?
একটি বা দুটি বিষয় কাকতালীয়ভাবে মিলে যেতে পারে। কিন্তু যত বেশি সুনির্দিষ্ট বিষয় মিলবে, কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যাবে। আর যখন ৩০০ টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী একজন মানুষের জীবনে হুবহু পূর্ণ হয়, তখন কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা কত?
আজকে আমরা গণিতের ভাষায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব। এবং উত্তরটি আপনাকে চমকে দেবে।
প্রথমত: একজন গণিতবিদের গবেষণা যা পৃথিবীকে অবাক করেছে
Professor Peter Stoner ছিলেন আমেরিকার Westmont College এর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের প্রধান। তিনি তাঁর ৬০০ জন ছাত্রকে নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন, যেখানে তাঁরা কিতাবুল মোকাদ্দস-এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কাকতালীয়ভাবে একজন মানুষের জীবনে পূর্ণ হওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনা (probability) হিসাব করেন।
তাঁর গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে "Science Speaks: Scientific Proof of the Accuracy of Prophecy and the Bible" (Moody Press, 1963, পরবর্তীতে সংশোধিত সংস্করণ 1976) গ্রন্থে। এই গবেষণাটি American Scientific Affiliation (ASA) দ্বারা পর্যালোচিত ও অনুমোদিত হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করুন: Peter Stoner কোনো ধর্মযাজক বা ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন গণিতবিদ। তিনি আবেগ দিয়ে নয়, গণিত দিয়ে বিচার করেছেন। আর গণিত মিথ্যা বলে না।
দ্বিতীয়ত: মাত্র ৮টি ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে পরীক্ষা শুরু করি
Professor Stoner প্রথমে মাত্র ৮টি ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গণনা শুরু করেছিলেন। আসুন দেখি কোন ৮টি এবং প্রতিটির কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কত:
ভবিষ্যদ্বাণী ১: মসীহ বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করবেন (মিকাহ্ ৫:২)
বেথলেহেম ছিল একটি ক্ষুদ্র গ্রাম। ঈসা মসীহর সময়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩০ কোটি। বেথলেহেমের জনসংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। Stoner হিসাব করেছেন, পৃথিবীর যেকোনো ব্যক্তি কাকতালীয়ভাবে বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করার সম্ভাবনা:
১ ভাগ ২,৮০,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 2.8 × 10⁵)
একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলি। ধরুন, আপনি ২ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে একটি মাঠে দাঁড় করালেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১ জন বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনি চোখ বন্ধ করে একজনকে বেছে নিলেন। সেই ১ জনকে পাওয়ার সম্ভাবনা কত? অত্যন্ত কম।
পূর্ণতা: আমরা আমাদের আর্টিকেল "জবুর শরীফ ও অন্যান্য কিতাবে মসীহের পরিচয় - সিরিজ" তে দেখেছি যে ঈসা মসীহ সত্যিই বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ভবিষ্যদ্বাণী ২: একজন অগ্রদূত মসীহের আগে আসবেন (মালাখি ৩:১)
"আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলছেন, “দেখ, আমি আমার সংবাদদাতাকে পাঠাচ্ছি; সে আমার আগে গিয়ে পথ প্রস্তুত করবে।”"
(নবীদের কিতাব, মালাখি ৩:১ আয়াত)
পূর্ণতা: হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) ঈসা মসীহর আগে এসে পথ প্রস্তুত করেছিলেন (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ৩:১-৩ আয়াত)।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10³)
ভবিষ্যদ্বাণী ৩: মসীহ গাধার বাচ্চায় চড়ে জেরুজালেমে প্রবেশ করবেন (জাকারিয়া ৯:৯)
"দেখ, তোমার বাদশাহ্ তোমার কাছে আসছেন; তিনি ন্যায়বান ও তাঁর কাছে উদ্ধার আছে; তিনি নম্র, তিনি গাধার উপরে, গাধীর বাচ্চার উপরে চড়ে আসছেন।"
(নবীদের কিতাব (সখরিয়), জাকারিয়া ৯:৯ আয়াত)
পূর্ণতা: ঈসা মসীহ জেরুজালেমে গাধার বাচ্চায় চড়ে প্রবেশ করেছিলেন (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২১:১-১১ আয়াত)।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10³)
ভবিষ্যদ্বাণী ৪: মসীহকে একজন বন্ধু ধরিয়ে দেবে (জবুর ৪১:৯)
"এমনকি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাকে আমি বিশ্বাস করতাম, যে আমার রুটি খেতো, সে-ও আমার বিরুদ্ধে পা তুলেছে।"
(যাবুর শরীফ (গীতসংহিতা), জবুর ৪১:৯ আয়াত)
পূর্ণতা: ইয়াহুদা ইস্কারিওত, যিনি ঈসা মসীহর ঘনিষ্ঠ সাহাবী ছিলেন, তিনিই তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৬:৪৭-৫০ আয়াত)।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10³)
ভবিষ্যদ্বাণী ৫: ত্রিশটি রূপার মুদ্রায় ধরিয়ে দেওয়া হবে (জাকারিয়া ১১:১২)
আমরা আমাদের আর্টিকেল "জবুর শরীফ ও অন্যান্য কিতাবে মসীহের পরিজয়" তে এই ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিত দেখেছি।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10³)
ভবিষ্যদ্বাণী ৬: সেই মুদ্রাগুলো ইবাদতখানায় ছুড়ে ফেলা হবে এবং কুমোরের জমি কেনা হবে (যাকারিয়া ১১:১৩)
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10⁵)
ভবিষ্যদ্বাণী ৭: মসীহ বিচারের সময় মুখ খুলবেন না (ইশাইয়া ৫৩:৭)
আমরা আমাদের আর্টিকেলে ”আগের কিতাবগুলোতে নবীরা কার ছবি এঁকে ছিলেন? - সিরিজ" তে বিস্তারিত দেখেছি যে ইশাইয়া নবী ৭০০ বছর আগে বলেছিলেন মসীহ নির্যাতনের সময় মুখ খুলবেন না। আর ঈসা মসীহ পিলাতের সামনে সত্যিই নীরব ছিলেন, যা আমরা আমাদের আর্টিকেল "ক্রুশীয় মৃত্যু ও ঐতিহাসিক প্রমাণ"-এও দেখেছি।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10³)
ভবিষ্যদ্বাণী ৮: মসীহর হাত ও পা বিদ্ধ করা হবে (জবুর ২২:১৬)
ক্রুশবিদ্ধকরণ আবিষ্কারের শত শত বছর আগে এই ভবিষ্যদ্বাণী লেখা হয়েছিল।
কাকতালীয় সম্ভাবনা: ১ ভাগ ১০,০০০ ভাগের মধ্যে (1 in 10⁴)
তৃতীয়ত: মাত্র ৮টি ভবিষ্যদ্বাণীর সম্মিলিত সম্ভাবনা
Probability Theory (সম্ভাব্যতা তত্ত্ব) অনুযায়ী, একাধিক স্বাধীন ঘটনা একসাথে ঘটার সম্ভাবনা জানতে হলে প্রতিটি ঘটনার সম্ভাবনাকে গুণ করতে হয়।
তাহলে মাত্র এই ৮টি ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে একজন মানুষের জীবনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কত?
Stoner এর গণনা:
2.8 × 10⁵ × 10³ × 10³ × 10³ × 10³ × 10⁵ × 10³ × 10⁴
= ১ ভাগ ১০²⁸ ভাগের মধ্যে
অর্থাৎ: ১ এর পর ২৮টি শূন্য ভাগের ১ ভাগ!
সংখ্যাটি লিখলে এমন দেখায়:
১ ভাগ ১০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ ভাগের মধ্যে
চতুর্থত: এই সংখ্যাটি কতটা বড়, সাধারণ ভাষায় বুঝুন
এই সংখ্যাটি এতটাই বিশাল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। তাই Professor Stoner একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
ধরুন, আপনি ১০²⁸ সংখ্যক (১ এর পর ২৮টি শূন্য) রূপার মুদ্রা নিলেন। এই মুদ্রাগুলো দিয়ে যদি আপনি পুরো টেক্সাস রাজ্য (আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য, প্রায় ৬,৯৬,২৪১ বর্গ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের প্রায় ৫ গুণ) ঢেকে দেন, তাহলে মুদ্রাগুলো মাটি থেকে দুই ফুট (৬০ সেন্টিমিটার) উঁচু হয়ে পুরো রাজ্য ঢেকে দেবে!
এখন ধরুন, এই কোটি কোটি কোটি কোটি মুদ্রার মধ্যে মাত্র একটি মুদ্রায় একটি বিশেষ চিহ্ন আঁকা আছে। আপনি একজন মানুষকে চোখ বেঁধে ছেড়ে দিলেন পুরো টেক্সাসে। তিনি যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন, যতক্ষণ খুশি ঘুরতে পারবেন। তারপর তিনি হাত বাড়িয়ে একটি মাত্র মুদ্রা তুলবেন।
সেই মুদ্রাটি সেই বিশেষ চিহ্নওয়ালা মুদ্রা হওয়ার সম্ভাবনা কত?
এটিই হলো মাত্র ৮টি ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে একজন মানুষের জীবনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা! বাস্তবে অসম্ভব!
পঞ্চমত: ৪৮টি ভবিষ্যদ্বাণী হলে কী হয়?
Professor Stoner এরপর ৪৮টি ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গণনা করেন। ফলাফল:
১ ভাগ ১০¹⁵⁷ ভাগের মধ্যে!
অর্থাৎ ১ এর পর ১৫৭টি শূন্য!
এই সংখ্যাটি কতটা বড় বুঝতে হলে জানতে হবে যে, পুরো মহাবিশ্বে (সমস্ত তারা, গ্রহ, ছায়াপথ মিলিয়ে) মোট পরমাণুর সংখ্যা আনুমানিক ১০⁸⁰।
অর্থাৎ ৪৮টি ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা মহাবিশ্বের সমস্ত পরমাণুর সংখ্যার চেয়েও অসংখ্য গুণ কম! এটি বাস্তবে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
ষষ্ঠত: আর যদি ৩০০ টির বেশি ভবিষ্যদ্বাণী হয়?
কিতাবুল মোকাদ্দস-এ ঈসা মসীহ সম্পর্কে ৩০০টিরও বেশি ভবিষ্যদ্বাণী আছে (অনেক পণ্ডিতের মতে সংখ্যাটি ৩০০ থেকে ৩৫৬ এর মধ্যে, পণ্ডিতভেদে গণনা ভিন্ন হয়)। যদি মাত্র ৪৮টি ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাবনাই ১০¹⁵⁷ ভাগের ১ হয়, তাহলে ৩০০টিরও বেশি ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাবনা কত হবে?
গণিতবিদরা বলেন, এই সংখ্যা এত বিশাল যে এটি লেখাও সম্ভব নয়। এটি "গাণিতিক শূন্য" (mathematical impossibility)। অর্থাৎ কাকতালীয়ভাবে এটি ঘটা বাস্তবে ও তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব।
সপ্তমত: একটি সাধারণ ভাষায় সারসংক্ষেপ
আসুন, পুরো বিষয়টি একদম সাধারণ ভাষায় বুঝি।
ধরুন, কেউ আপনাকে বললো:
"আগামীকাল ঢাকা শহরে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করবে। সে ছেলে হবে। তার মায়ের নাম 'ফাতেমা' হবে। সে বড় হয়ে শিক্ষক হবে। সে ৩৩ বছর বয়সে মারা যাবে। তার মৃত্যুর সময় তার পাশে দুজন অপরাধী থাকবে। তাকে মিথ্যা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। তার শেষকৃত্যের খরচ একজন ধনী ব্যক্তি বহন করবে..."
আর এমন ৩০০টি সুনির্দিষ্ট বিষয় যদি কেউ আগে থেকে বলে দেয় এবং সবকটি হুবহু মিলে যায়, তখন আপনি কি বলবেন এটি কাকতালীয়?
না, আপনি বলবেন: "এই ব্যক্তি হয় ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন, নয়তো তিনি নিজেই এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন।"
ঠিক, কিতাবুল মোকাদ্দসের ক্ষেত্রেও, নবীরা নিজেরা ঘটনা ঘটাননি। তাঁরা শুধু আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বাণী লিখে গেছেন। আর সেই বাণী ঈসা মসীহর জীবনে হুবহু পূর্ণ হয়েছে। এর একমাত্র ব্যাখ্যা হলো: সর্বজ্ঞ আল্লাহ তায়ালা, যিনি ভবিষ্যৎ জানেন, তিনিই এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো নবীদের মাধ্যমে দিয়েছিলেন। আর ঈসা মসীহই সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে এগুলো বলা হয়েছিল।
অষ্টমত: "ঈসা মসীহ কি তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করেছেন?" এই আপত্তির উত্তর
কেউ কেউ হয়তো বলবেন, "হতে পারে ঈসা মসীহ জানতেন ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কী, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলো পূর্ণ করেছেন।"
এই আপত্তিটি প্রথম দেখায় যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও, গভীরভাবে ভাবলে এটি একেবারেই অসম্ভব। কারণ অনেক ভবিষ্যদ্বাণী এমন ছিল যা কোনো মানুষের পক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়:
ক. জন্মস্থান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোনো মানুষ নিজে ঠিক করতে পারে না সে কোথায় জন্মগ্রহণ করবে। ঈসা মসীহ বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা মিকাহ্ নবীর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল।
খ. জন্মের ধরন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোনো মানুষ নিজে ঠিক করতে পারে না সে কুমারী গর্ভে জন্ম নেবে, কি নেবে না।
গ. বংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোনো মানুষ নিজে ঠিক করতে পারে না সে কোন গোত্রে (ইয়াহুদা) বা কোন পরিবারে (দাউদের বংশ) জন্ম নেবে।
ঘ. শত্রুদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ক্রুশের নিচে সৈন্যরা তাঁর পোশাক ভাগ করে লটারি করবে, এটি কোনো মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটাতে পারে না।
ঙ. ধরিয়ে দেওয়ার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ইয়াহুদা ঠিক ত্রিশটি রূপার মুদ্রায় তাঁকে ধরিয়ে দেবে, এটি ঈসা মসীহর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
চ. মৃত্যুর পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ক্রুশবিদ্ধকরণ ছিল রোমান শাষকদের দ্বারা ধার্যকৃত মৃত্যুদণ্ড। এটি ঈসা মসীহের সিদ্ধান্ত বা পছন্দ ছিল না, এটি রোমান শাসকের সিদ্ধান্ত ছিল।
ছ. দাফনের ধরন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দুষ্টদের সাথে মৃত্যু এবং ধনীদের কবরে দাফন, এটি ঈসা মসীহ নিজে ঠিক করেননি।
এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর অধিকাংশই এমন বিষয় যা কোনো মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ করতে পারে না। জন্মস্থান, জন্মের ধরন, বংশ, শত্রুদের আচরণ, ধরিয়ে দেওয়ার মূল্য, মৃত্যুর পদ্ধতি, দাফনের ধরন, এসব কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এগুলো শুধুমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।
তাহলে? গণিত, ইতিহাস ও যুক্তি একটিই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়
প্রিয় পাঠক, আজকে আমরা দেখলাম:
প্রথমত, মাত্র ৮টি ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা ১০²⁸ ভাগের ১ ভাগ, যা টেক্সাস রাজ্য ঢেকে দেওয়া কোটি কোটি মুদ্রার মধ্যে চোখ বেঁধে একটি নির্দিষ্ট মুদ্রা খুঁজে পাওয়ার সমান।
দ্বিতীয়ত, ৪৮টি ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাবনা ১০¹⁵⁷ ভাগের ১ ভাগ, যা মহাবিশ্বের সমস্ত পরমাণুর সংখ্যার চেয়েও অসংখ্য গুণ বেশি।
তৃতীয়ত, ৩০০টির বেশি ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাবনা "গাণিতিক শূন্য", অর্থাৎ কাকতালীয়ভাবে ঘটা বাস্তবে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
চতুর্থত, এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর অধিকাংশ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ করাও সম্ভব নয়।
গণিত একটিই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়: ঈসা মসীহর জীবনে ৩০০টির বেশি ভবিষ্যদ্বাণী কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়া গাণিতিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব। এর একমাত্র ব্যাখ্যা হলো: সর্বজ্ঞ আল্লাহ তায়ালা, যিনি শুরু থেকেই শেষ জানেন, তিনিই এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো নবীদের মাধ্যমে দিয়েছিলেন। আর ঈসা মসীহই সেই প্রতিশ্রুত মসীহ, নাজাতদাতা, কালিমাতুল্লাহ, যাঁর জন্য সমস্ত নবী ও কিতাব অপেক্ষা করেছিল।
ঈসা মসীহ নিজেই বলেছিলেন:
"মূসার কিতাবে (তাওরাত), নবীদের কিতাবে ও জবুরে আমার সম্পর্কে যা লেখা আছে তা সবই পূর্ণ হতে হবে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৪:৪৪ আয়াত)
সবই পূর্ণ হয়েছে। গণিত তা নিশ্চিত করছে।
আপনার জন্য একটি প্রশ্ন
প্রিয় পাঠক, আপনি এইমাত্র দেখলেন যে ৩০০টির বেশি ভবিষ্যদ্বাণী একজন মানুষের জীবনে কাকতালীয়ভাবে পূর্ণ হওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। আপনি দেখেছেন যে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এমন বিষয় নিয়ে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ করাও সম্ভব নয়।
তাই, এখন আপনার সামনে দুটি পথ:
পথ ১: আপনি বিশ্বাস করতে পারেন যে এই সবকিছু কাকতালীয়, যদিও গণিত বলছে এর সম্ভাবনা শূন্য।
পথ ২: আপনি বিশ্বাস করতে পারেন যে সর্বজ্ঞ আল্লাহই এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো দিয়েছিলেন এবং ঈসা মসীহই সেই প্রতিশ্রুত নাজাতদাতা।
সিদ্ধান্ত আপনার।
"কারণ আল্লাহ দুনিয়াকে এতই মহব্বত করলেন যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁর ওপর ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয়, বরং অনন্ত জীবন পায়।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৩:১৬ আয়াত)
প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।
আপনার মনের অনুভুতি পাঠান
আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।
হোম-ব্লগ ও প্রবন্ধ-প্রশ্নোত্তর-সম্পদ-যোগাযোগ
যোগাযোগ
salam@alkalimatullah.org
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত
© 2026 কালিমাতুল্লাহ-ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সত্য অনুসন্ধান কেন্দ্র।
সত্য অনুসন্ধান করুন, কারণ সত্য আপনাকে মুক্ত করবে।