আগের কিতাবগুলোতে নবীরা কার ছবি এঁকে গিয়েছিলেন?

আগের কিতাবগুলোতে নবীরা কার ছবি এঁকে গিয়েছিলেন?

একটি ছবি যা শত শত বছর আগে আঁকা হয়েছিল

কল্পনা করুন, একটি ঘরে একটি বড় ক্যানভাস রাখা আছে। একজন শিল্পী এসে ক্যানভাসে কিছু রেখা আঁকেন, তারপর চলে যান। কয়েক শত বছর পর আরেকজন শিল্পী আসেন, তিনি আরও কিছু রেখা যোগ করেন। তারপর আরেকজন, তারপর আরেকজন। শত শত বছর ধরে, বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে, একে অপরকে না চিনেও, এই শিল্পীরা একটি ছবি আঁকতে থাকেন। আর সবশেষে যখন ছবিটি সম্পূর্ণ হয়, তখন দেখা যায় একটি নিখুঁত মুখচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

কিতাবুল মোকাদ্দস-এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো ঠিক এমনই। দাউদ নবী, ইশাইয়া নবী, মিকাহ্ নবী, জাকারিয়া নবী, দানিয়েল নবী, প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, একে অপরকে না জেনেও, ঈসা মসীহের জীবনের একটি একটি করে বিবরণ দিয়ে গেছেন। আর সবশেষে যখন ঈসা মসীহ পৃথিবীতে এলেন, তখন দেখা গেল প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে।

আমাদের আগের আর্টিকেলে ("তাওরাত শরীফে মসীহের ছায়া: সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ কার কথা বলে আসছিলেন?") তে আমরা দেখেছি কীভাবে তাওরাত শরীফে ১১টি ছায়া ও ভবিষ্যদ্বাণী ঈসা মসীহর দিকে ইঙ্গিত করে। এখন আমরা যাবুর শরীফনবীদের কিতাব থেকে আরও বিস্ময়কর ও নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো দেখব।

এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো এতটাই সুনির্দিষ্ট যে, এগুলো পড়ার পর আপনি হয়তো থমকে দাঁড়াবেন এবং ভাববেন, "এটি কি সত্যিই শত শত বছর আগে লেখা হয়েছিল?"

হ্যাঁ, লেখা হয়েছিল। আর মৃত সাগরের গুটিপুস্তক প্রমাণ করে যে এগুলো পরে পরবর্তীতে "বানিয়ে" ঢোকানো হয়নি (বিস্তারিত দেখুন আমাদের আর্টিকেল ("মৃত সাগরের গুটিপুস্তক: মাটির নিচে লুকানো সত্য যা ইতিহাস বদলে দিয়েছে")

আসুন, একটি একটি করে দেখি।

প্রথমত: মসীহের জন্মস্থান, বেথলেহেম মিকাহ্ ৫:২ আয়াত)

সবার আগে, মসীহ কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিকাহ্ নবী দিয়ে গেছেন ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৭০০ বছর আগে:

"মাবুদ বলছেন, “কিন্তু, হে বেথেলহেম-ইফ্রাথা, যদিও তুমি এহুদার হাজার হাজার গ্রামগুলোর মধ্যে ছোট, তবুও তোমার মধ্য থেকে আমার পক্ষে এমন একজন আসবেন যিনি হবেন ইসরাইলের শাসনকর্তা, যাঁর শুরু পুরানো দিন থেকে, অনন্তকাল থেকে।”
(নবীদের কিতাব (মীখা), মিকাহ্ ৫:২ আয়াত)

এখানে কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ্য করুন:

ক. জন্মস্থান নির্দিষ্ট: বেথলেহেম।
পৃথিবীতে হাজার হাজার শহর আছে। কিন্তু মিকাহ্ নবী ৭০০ বছর আগে একটি নির্দিষ্ট ছোট্ট গ্রামের নাম বলে দিলেন। বেথলেহেম ছিল ইয়াহুদার গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র এবং নগণ্য একটি গ্রাম। কিন্তু আল্লাহ সেই নগণ্য ছোট্টা গ্রামকেই বেছে নিলেন।

খ. "তাঁর শুরু পুরানো দিন থেকে থেকে, অনন্তকাল থেকে":
হিব্রু ভাষায় এখানে "মিক্কেদেম" (מִקֶּדֶם) এবং "মিমে ওলাম" (מִימֵי עוֹלָם) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "অনাদিকাল থেকে" বা "চিরকালের অতীত থেকে"। এর মানে, বেথলেহেমে জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তি সাধারণ মানুষ নন। তাঁর অস্তিত্ব অনাদিকাল থেকে, অর্থাৎ তিনি চিরস্থায়ী। এটি কি একজন সাধারণ নবীর বর্ণনা? কখনোই না। এটি কালিমাতুল্লাহর বর্ণনা, যিনি শুরু থেকেই আল্লাহর সাথে ছিলেন।

পূর্ণতা:

"ইয়াহুদিয়া প্রদেশের বেথেলহেম গ্রামে ঈসার জন্ম হয়েছিল। তখন বাদশাহ্‌ ছিলেন হেরোদ।..."
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২:১ আয়াত)

"ইউসুফও গালীলের নাসরত শহর থেকে ইয়াহুদিয়ার বেথলেহেমে গেলেন... সেখানে থাকার সময় মরিয়মের সন্তান প্রসবের দিন এলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২:৪-৬ আয়াত)

এখানে একটি চমৎকার ঐতিহাসিক বিষয় লক্ষ্য করুন। ঈসা মসীহর মা-বাবা (মরিয়ম ও ইউসুফ) বাস করতেন নাসরতে, বেথলেহেমে নয়। কিন্তু রোমান সম্রাট অগাস্টাসের আদমশুমারির আদেশের কারণে তাঁদের বেথলেহেমে যেতে হয়েছিল, আর ঠিক সেই সময়েই ঈসা মসীহ জন্মগ্রহণ করলেন।

৭০০ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করতে আল্লাহ একজন পৌত্তলিক রোমান সম্রাটকে ব্যবহার করলেন! অগাস্টাস জানতেন না যে তার আদমশুমারির আদেশ আসলে আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। এটি প্রমাণ করে যে ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।

কুরআনের সত্যায়ন:

কুরআন শরীফও সত্যায়ন করে যে ঈসা মসীহর জন্মের সময় মরিয়ম একটি নির্জন জায়গায় ছিলেন:

"অতঃপর গর্ভযন্ত্রণা তাঁকে একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের কাছে নিয়ে গেল।"
(সূরা মরিয়ম, ১৯:২৩ আয়াত)

দ্বিতীয়ত: মসীহের কুমারীর গর্ভে জন্ম (ইশাইয়া ৭:১৪ আয়াত)

এই ভবিষ্যদ্বাণী আমরা আগের আর্টিকেলে "ঈসা মসীহের অনন্য পরিচয়-কুমারীর গর্ভে জন্ম: শুধু একটি মোজেজা নাকি আল্লাহর মহাপরিকল্পনা?" তে বিস্তারিত দেখেছি। কিন্তু এখানে আমরা এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী সিরিজের অংশ হিসেবে আরেকবার দেখব:

"তাই মাবুদ নিজেই তোমাদের একটি নিদর্শন দেবেন: দেখো, একজন কুমারী গর্ভবতী হবেন ও একটি পুত্র প্রসব করবেন এবং তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৭:১৪ আয়াত)

এখানে দুটি ভবিষ্যদ্বাণী একসাথে আছে: (১) কুমারী গর্ভে জন্ম এবং (২) সন্তানের নাম "ইম্মানুয়েল" (আল্লাহ আমাদের সাথে)। প্রথমটি বলছে কীভাবে তিনি আসবেন, দ্বিতীয়টি বলছে তিনি কে। তিনি এমন একজন যাঁর মধ্যে স্বয়ং আল্লাহ মানুষের সাথে বাস করবেন।

তৃতীয়ত: মসীহের নাম ও চরিত্র (ইশাইয়া ৯:৬-৭ আয়াত)

ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৭০০ বছর আগে ইশাইয়া নবী মসীহের নাম ও চরিত্র সম্পর্কে এক অসাধারণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:

"কারণ আমাদের জন্য একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, আমাদের জন্য একটি পুত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাঁধে থাকবে কর্তৃত্ব। তাঁকে বলা হবে বিস্ময়কর পরামর্শদাতা, শক্তিশালী আল্লাহ, চিরস্থায়ী পিতা, শান্তির রাজপুত্র। তাঁর শাসন ও শান্তির কোনো শেষ থাকবে না।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৯:৬-৭ আয়াত)

প্রিয় পাঠক, লক্ষ্য করুন এখানে চারটি অসাধারণ উপাধি দেওয়া হয়েছে:

ক. বিস্ময়কর পরামর্শদাতা (Wonderful Counselor):
হিব্রু "পেলে ইওয়েৎস" (פֶּלֶא יוֹעֵץ)। "পেলে" শব্দটি তাওরাত শরীফ-এ আল্লাহর অলৌকিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণ মানবিক জ্ঞান নয়, এটি ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা।

পূর্ণতা: ঈসা মসীহের শিক্ষা শুনে মানুষ বলেছিল: "কোনো মানুষ কখনো এভাবে কথা বলেনি!" (ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ৭:৪৬ আয়াত)।

খ. শক্তিশালী আল্লাহ (Mighty God):
হিব্রু "এল গিব্বোর" (אֵל גִּבּוֹר)। এটি সবচেয়ে চমকপ্রদ উপাধি। "এল" (אֵל) শব্দটি হিব্রু ভাষায় সরাসরি আল্লাহর জন্য ব্যবহৃত হয়। ইশাইয়া নবী একটি শিশুকে "শক্তিশালী আল্লাহ" বলে সম্বোধন করছেন! এটি কি একজন সাধারণ নবীর বর্ণনা?

গ. চিরস্থায়ী পিতা (Everlasting Father):
হিব্রু "আবি-আদ" (אֲבִי עַד)। "আদ" (עַד) অর্থ "চিরকাল" বা "অনন্তকাল"। এর মানে তিনি চিরস্থায়ী, তাঁর কোনো শেষ নেই।

ঘ. শান্তির রাজপুত্র (Prince of Peace):
হিব্রু "সার শালোম" (שַׂר שָׁלוֹם)। তিনি শান্তি নিয়ে আসবেন, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে শান্তি, মানুষের হৃদয়ে শান্তি।

৭০০ বছর আগে ইশাইয়া নবী মসীহকে "শক্তিশালী আল্লাহ" এবং "চিরস্থায়ী পিতা" বলেছেন। এটি কি একজন সাধারণ নবীর বর্ণনা? আমরা আমাদের আর্টিকেল "ঈসা মসীহ কি শুধুই একজন নবী ছিলেন, নাকি তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু?" আরো তে বিস্তারিত দেখেছি যে ঈসা মসীহ সাধারণ নবীর চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

চতুর্থত: দুঃখভোগী দাস, ইশাইয়া ৫৩ (কিতাবুল মোকাদ্দসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বাণী)

এখন আমরা কিতাবুল মোকাদ্দস-এর সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক এবং সবচেয়ে বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীতে এসে দাঁড়িয়েছি। ইশাইয়া নবী ঈসা মসীহর জন্মের প্রায় ৭০০ বছর আগে তাঁর দুঃখভোগ, মৃত্যু ও কুরবানির এতটা নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে গেছেন যে, পড়লে মনে হয় তিনি ক্রুশের পাশে দাঁড়িয়ে দেখে লিখেছেন।

আমরা আগের আর্টিকেলে ("মৃত সাগরের গুটিপুস্তক: মাটির নিচে লুকানো সত্য যা ইতিহাস বদলে দিয়েছে") তে দেখেছি যে ইশাইয়া ৫৩ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ পাঠ্য মৃত সাগরের গুটিপুস্তকে (খ্রীষ্টপূর্ব ১২৫-১৫০) হুবহু সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ ঈসা মসীহর জন্মের আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী লেখা ছিল, কেউ পরে বানিয়ে ঢোকায়নি।

আসুন, আয়াত by আয়াত পরীক্ষা করি:

ক. তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হবে:

"লোকে তাঁকে ঘৃণা করেছে ও অগ্রাহ্য করেছে; তিনি যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং রোগের সংগে তাঁর পরিচয় ছিল। লোকে যাকে দেখলে মুখ ফিরায় তিনি তার মত হয়েছেন; লোকে তাঁকে ঘৃণা করেছে এবং আমরা তাঁকে সম্মান করি নি।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৩ আয়াত)

পূর্ণতা:

"তিনি নিজের জায়গায় এলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করলো না।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১:১১ আয়াত)

খ. তিনি আমাদের গুনাহ বহন করবেন:

"সত্যিই তিনি আমাদের রোগ বহন করেছেন এবং আমাদের দুঃখকষ্ট তুলে নিয়েছেন। তবু আমরা মনে করেছি তিনি আল্লাহর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত, নিপীড়িত ও কষ্টভোগী।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৪ আয়াত)

গ. আমাদের গুনাহর জন্য তাঁকে বিদ্ধ করা হবে:

"কিন্তু আমাদের অপরাধের জন্য তাঁকে বিদ্ধ করা হয়েছে, আমাদের গুনাহের জন্য তাঁকে চূর্ণ করা হয়েছে। আমাদের শান্তির জন্য তাঁর ওপর শাস্তি এসেছে এবং তাঁর ক্ষতচিহ্নের দ্বারা আমরা সুস্থ হয়েছি।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৫ আয়াত)

"আমাদের অপরাধের জন্য তাঁকে বিদ্ধ করা হয়েছে" এটি হলো বিকল্প কুরবানির সবচেয়ে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী। তিনি নিজের গুনাহের জন্য কষ্ট পাননি, তিনি আমাদের গুনাহের জন্য কষ্ট পেয়েছেন। আমাদের শান্তির জন্য তাঁর ওপর শাস্তি এসেছে। তাঁর ক্ষতচিহ্নে আমরা সুস্থ হয়েছি। এটি হলো আমাদের আর্টিকেল "ক্রুশীয় মৃত্যু ও ঐতিহাসিক প্রমাণ: পরাজয় নাকি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয়?" তে বর্ণিত ক্রুশের ঘটনার হুবহু পূর্বাভাস!

পূর্ণতা:

"কিন্তু একজন সৈন্য বর্শা দিয়ে তাঁর পাঁজরে খোঁচা দিলো (বিদ্ধ করলো), আর সাথে সাথে রক্ত ও পানি বেরিয়ে এলো।"
(ইঞ্জিল শরীফ (যোহন), ইউহোন্না ১৯:৩৪ আয়াত)

ঘ. আমরা সবাই ভেড়ার মতো পথভ্রষ্ট:

"আমরা সবাই ভেড়ার মতো পথ হারিয়ে ফেলেছি, আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের পথে চলে গেছি। কিন্তু মাবুদ আমাদের সকলের গুনাহ তাঁর ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৬ আয়াত)

"মাবুদ আমাদের সকলের গুনাহ তাঁর ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন" এটি ঠিক সেই একই নীতি যা আমরা আমাদের আর্টিকেল "প্রাচীন কুরবানি ব্যবস্থা: আদম থেকে মূসা পর্যন্ত রক্তের ধারা কোথায় যাচ্ছে?" তে দেখেছি। কাফফারা দিবসে (ইয়ম কিপ্পুর) মহাযাজক ছাগলের মাথায় হাত রেখে জাতির গুনাহ স্বীকার করতেন এবং ছাগলটি সেই গুনাহ বহন করে মরুভূমিতে চলে যেত। ইশাইয়া ৫৩ বলছে, আল্লাহ আমাদের সবার গুনাহ মসীহর ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

ঙ. তিনি মুখ খুলবেন না:

"তিনি অত্যাচারিত হলেন ও কষ্ট ভোগ করলেন, কিন্তু তবুও তিনি মুখ খুললেন না; জবাই করতে নেওয়া ভেড়ার বাচ্চার মত, লোম ছাঁটাইকারীদের সামনে চুপ করে থাকা ভেড়ীর মত

তিনি মুখ খুললেন না।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৭ আয়াত)

পূর্ণতা:

"কিন্তু ঈসা কোনো উত্তর দিলেন না, একটি কথাও না, এতে গভর্নর শাসনকর্তা (পিলাত) খুব অবাক হলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৭:১৪ আয়াত)

৭০০ বছর আগে ইশাইয়া বলেছিলেন, মসীহ নির্যাতনের সময় মুখ খুলবেন না। আর ক্রুশের সামনে দাঁড়িয়ে ঈসা মসীহ সত্যিই মুখ খোলেননি। বিচারের সময় পিলাত নিজেও অবাক হয়েছিলেন যে তিনি কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন না।

চ. দুষ্টদের সাথে কবরস্থ হবেন, কিন্তু ধনী ব্যক্তির মতো দাফন হবেন:

"যদিও তিনি কোন অনিষ্ট করেন নি, কিংবা তাঁর মুখে কোন ছলনার কথা ছিল না, তবুও দুষ্টদের সংগে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল, আর মৃত্যুর দ্বারা তিনি ধনীর সংগী হয়েছিলেন।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:৯ আয়াত)

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ দুজন অপরাধীর (দুষ্টদের) মাঝখানে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাফন হয়েছিল ধনী ব্যক্তি আরিমাথিয়ার ইউসুফের নতুন কবরে:

"সন্ধ্যা হলে আরিমাথিয়ার একজন ধনী লোক এলেন, তাঁর নাম ইউসুফ... তিনি পিলাতের কাছে গিয়ে ঈসার দেহ চাইলেন... ইউসুফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে জড়ালেন এবং পাথরে কাটা নিজের নতুন কবরে রাখলেন।"
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ২৭:৫৭-৬০ আয়াত)

দুষ্টদের সাথে মৃত্যু এবং ধনীদের মতো দাফন, দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয় একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটেছে, ঠিক যেভাবে ৭০০ বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল!

ছ. তাঁর দুঃখভোগের উদ্দেশ্য:

"তবু তাঁকে চূর্ণ করা মাবুদেরই ইচ্ছা ছিল, তিনিই তাঁকে কষ্ট দিয়েছেন। যখন তাঁর প্রাণ গুনাহের কুরবানি হিসেবে উৎসর্গ করা হবে, তখন তিনি তাঁর বংশধরদের দেখবেন, তাঁর আয়ু দীর্ঘ হবে এবং মাবুদের ইচ্ছা তাঁর হাতে সফল হবে।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:১০ আয়াত)

লক্ষ্য করুন এখানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে:

প্রথমত, "তাঁকে চূর্ণ করা মাবুদেরই ইচ্ছা ছিল" অর্থাৎ মসীহর দুঃখভোগ কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি আল্লাহরই পরিকল্পনা ছিল।

দ্বিতীয়ত, "তাঁর প্রাণ গুনাহের কুরবানি হিসেবে উৎসর্গ করা হবে" এটি হলো বিকল্প কুরবানির সবচেয়ে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী। মসীহর প্রাণ নিজেই কুরবানি হবে, অন্যদের গুনাহের জন্য।

এবং তারপর বলা হচ্ছে, "তাঁর আয়ু দীর্ঘ হবে"কিন্তু তিনি তো মারা যাবেন? মারা গিয়ে আবার দীর্ঘ আয়ু কীভাবে? উত্তর: পুনরুত্থান! তিনি মরবেন কিন্তু আবার জীবিত হবেন এবং চিরকাল বেঁচে থাকবেন!

জ. তাঁর দুঃখভোগের ফল:

"তিনি তাঁর কষ্টভোগের ফল দেখে তৃপ্ত হবেন; মাবুদ বলছেন, আমার ন্যায়বান গোলামকে গভীরভাবে জানবার মধ্য দিয়ে অনেককে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হবে, কারণ তিনি তাদের সব অন্যায় বহন করবেন। সেইজন্য মহৎ লোকদের মধ্যে আমি তাঁকে একটা অংশ দেব, আর তিনি বলবানদের সংগে বিজয়ের ফল ভাগ করবেন, কারণ তিনি নিজের ইচ্ছায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁকে গুনাহ্‌গারদের সংগে গোণা হয়েছিল; তিনি অনেকের গুনাহ্‌ বহন করেছিলেন, আর গুনাহ্‌গারদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।"
(নবীদের কিতাব (যিশাইয়), ইশাইয়া ৫৩:১১-১২ আয়াত)

পূর্ণতা: ঈসা মসীহ ক্রুশের ওপর অপরাধীদের জন্য সুপারিশ বা অনুরোধ করেছিলেন:

"তখন ঈসা বললেন, “পিতা, এদের মাফ কর, কারণ এরা কি করছে তা জানে না।”"
(ইঞ্জিল শরীফ, লূক ২৩:৩৪ আয়াত)

ইশাইয়া ৫৩ অধ্যায় হলো ক্রুশীয় ঘটনার সবচেয়ে নিখুঁত পূর্বাভাস। প্রত্যাখ্যান, নীরবতা, বিদ্ধ হওয়া, গুনাহ বহন করা, দুষ্টদের সাথে মৃত্যু, ধনীর সাথে দাফন, আল্লাহর ইচ্ছায় কুরবানি, পুনরুত্থান এবং অপরাধীদের জন্য সুপারিশ, প্রতিটি বিষয় ৭০০ বছর আগে লেখা হয়েছিল এবং ঈসা মসীহর জীবনে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে!

পড়া চালিয়ে যান

প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখাগুলো পড়ার সময় আপনার মনে অনেক কিছু নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাই যদি আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়, তবে আর দেরি না করে এখনই আমাদেরকে তা লিখে জানাতে পারেন; আমরা অবশ্যই আপনাকে যথাযথ সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।

আপনার মনের অনুভুতি পাঠান

আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কোনো বিতর্ক ছাড়াই অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করি।